Tuesday, May 21, 2024

৩০০ আম গাছে আব্দুল মালেকের ১০টন ফলন পাওয়ার আশা!

শখের বশে আম চাষে আর্থিকভাবে লাভবান রাজবাড়ীর আব্দুল মালেক শিকদার। তিনি অনলাইনে অন্যের আম বাগান দেখে নিজেও একটি বাগান করার পরিকল্পনা করেন। ২০১৮ সালে ৩০০ আমের চারা রোপন করে চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার প্রতিটি গাছে প্রচুর পরিমানে আম এসেছে। তার দেখাদেখি অনেকেই আমের করতে আগ্রহী হয়েছেন।

আব্দুল মালেক শিকদার রাজবাড়ী সদর উপজেলার চন্দনী ইউনিয়নের জৌকুড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অনলাইনে আম চাষে দেখে আগ্রহী হন। তারপর বিভিন্ন জাতের ৩০০টি আমের চারা সংগ্রহ করে আড়াই একর জমিতে রোপন করেন। তার বাগানে আম্রপালি, হিম সাগর, হাড়িভাঙা, মল্লিকা, ল্যাংড়া, ফজলি, বারি-৪ সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আম গাছ রয়েছে। তিনি নিজেই গাছের পরিচর্যা করেন। স্থানীয় ও শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগানে আম বাগান দেখতে ও কিনতে আসেন। এই বাগানের মাধ্যমে আর্থিকভাবে তিনি বেশ লাভবান হয়েছেন। প্রতিটি গাছেই আমের ব্যাপক ফলন এসেছে।

চলতি বছর এই জেলার চাষিরা ব্যাপক পরিমানে আমের চাষ করেছেন। জেলার ৫ উপজেলায় ৪৮০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এতে হেক্টরপ্রতি জমিতে ১১ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আম চাষি মোহাম্মদ আব্দুল মালেক শিকদার বলেন, আমি ২০১৮ সালে অনলাইনে অনেক কৃষি উদ্যেক্তাকে উন্নত জাতের আমের বাগান করে লাভবান হতে দেখি। তারপর আমিও আমের বাগান করার পরিকল্পনা করি। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৩০০ চারা সংগ্রহ করি। তারপর জমি তৈরী করে আড়াই একর জায়গায় চারাগুলো রোপন করি। এখানকার মাটি উর্বর হওয়ায় বাগানের প্রতিটি গাছেই ফলন এসেছে। আমার প্রতিটি গাছে প্রায় ৩০-৪০ কেজি করে আম ধরেছে। আর তা বিক্রি করে লাভবান হতে পারবো। আশা করছি বাগান থেকে ২০০-২৫০ মণ আমের ফলন পাবো।

আম চাষি আব্দুল মালেক আরও বলেন, উন্নত জাতের আমের গাছে ফলন বেশি পাওয়া যায়। আর এর চাষ একটি লাভজনক ব্যবসা। আমার বাগানের ফলন ও সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই আমের বাগান তৈরী করেছেন। আমি আমার বাগানে কোনো প্রকারের ক্ষতিকারক ঔষধ বা কী’টনাষক প্রয়োগ করিনি আর কাউকে এর ব্যবহারের পরামর্শও দেইনি। আমিও কম দামে বাগানের আমা বিক্রি করে থাকি। সকলের কাছে আমার বাগানের আমের সুনাম রয়েছে।

আম কিনতে আসা এমের আলী শেখ বলেন, আমি আগে বাজার গিয়ে আম কিনতাম। বাজারের আমে অনেক সময় পোকা ও ফরমালিন যুক্ত থাকতো। বর্তমানে আমাদের এখানে আমের বাগান গড়ে উঠেছে তাই আর বাজারে যাই না। এত কোনো প্রকার ক্ষতিকারক ক্যামি’ক্যাল মুক্ত ফল পেয়ে থাকি। এছাড়াও বাগানে এসে কিনলে বাজার থেকে কম দামে কিনতে পারা যায়। সরাসরি বাগান থেকেই আমি কিনেনেই।

ব্যাপারী ইয়াকুব মৃধা বলেন, আমি এর আগে যশোর, সাতক্ষীরা থেকে পাইকারিভাবে আম কিনে নিয়ে আসতাম। আমাদের এখানেই অনেকে আমের বাগান করেছে। তাই আর অন্য জেলায় যেতে হয়। এতে আমাদের পরিবহন খরচ কমে গেছে। বর্তমানে এখানকার আম স্থানীয় চাহিাদ মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানকার আম খুব সুস্বাদু ও মিষ্টি। এর সুনাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ায় চাহিদও বেড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগে শুধু অন্যান্য জেলায় আমের বাণিজ্যিক চাষ হতো। আমরা সেখান থেকে কিনে এনে তারপর খেতে পারতাম। এখন আমাদের এই জেলায়ও অনেক বাগান গড়ে উঠেছে। আশা করছি আগামীতে এর চাষ আরো বাড়বে। আমরা চাষিদের চাষের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট