Monday, July 22, 2024

শরিফা চাষে বাহাউদ্দীনের সাফল্য!

বিলুপ্ত প্রায় শরিফা ফলটি চাষে তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। তার এই সফলতার পেছনে অদম্য পরিশ্রম ও একাগ্রতা রয়েছে। বর্তমানে তার এমন সফলতা দেখে অনেক তরুণরাও শরিফা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। মেহেরপুরের গাংনীতে শরিফা চাষে সফলতা পেয়েছেন বাহাউদ্দীন।

বাহাউদ্দীন মেহেরপুর উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন যাবত একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন। তারপর বাগানে সফলতা পাওয়ার পার সেই চাকরি ছেড়ে দেন। ব্যতিক্রম কিছু করার চিন্তা থেকেই এই ফলের বাগান করেন। আর স্থানীয় ভাবে এটিকে মেওয়া নামে ডাকা হয়। বিলুপ্ত প্রায় এই ফলটি চাষ করে নিজে সফল হওয়ার পাশাপাশি অন্যদেরও অনুপ্রেণীত করেছেন। ফলটি আতা ফল নামে পরিচিত।

বাহাউদদ্দীন বলেন, প্রথমে স্থানীয়ভাবে বীজ সংগ্রহ করে ৪ বিঘা জমিতে শরিফা ফলের চারা রোপন করি। এতে প্রথমেই ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরের বছরই গাছে ফল আসে। তখন ৮০ হাজার টাকার ফল বিক্রি করতে পারি। গত বছর বাগানে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। তখন ৩ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছি। আমি প্রতিনিয়তই কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে থাকি। এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে ব্যাপক ফলন এসেছে। কিছুদিন পর ফল সংগ্রহ করতে পারবো। আশা করছি এবছর ৬ লাখ টাকার ফল বিক্রি করতে পারবো।

একজন স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী কাজল লতা বলেন, আতা ফল খুবই সুস্বাদু। এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। তবে এর চাষ কম হয় বলে বাজারে সব সময় পাওয়া যায় না। আমি বাগান থেকে সরাসরি ফল সংগ্রহ করি। তারপর স্থানীয় বাজার ও অন লাইনের অর্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করতে থাকি। খরচ বাদ দিয়ে আমার কিছুটা লাভ থাকে। বাগান থেকে প্রতি কেজি ৩০০ টাকা কেজি দরে ক্রয় করে ৪৫০-৫০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারি।

গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার লাভলী খাতুন বলেন, আতা ফলটি দেশি প্রজাতির একটি ফল। বিলুপ্ত প্রায় এই ফলটি এখন এই উপজেলায় চাষ করা হচ্ছে। ফলটি বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর। এর চাষে খরচ অনেক কম ও রোগ বালাই কম। বাজারে এর বেশ চাহিদা রয়েছে। তাকে দেখে অনেক তরুণ আতা বাগানের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মেহেরপুর জেলায় শুধুমাত্র গাংনী উপজেলার চেংগাড়া গ্রামের বাহাউদ্দীন এটির বাগান করেছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট