Thursday, July 18, 2024

ম্যাচ সেরা, সিরিজ সেরা দুটোই তাসকিন

অসাধারণ তাসকিন! অসাধারণ বোলিং! এর বেশি দুই তিন শব্দে আর কি বা বলা যায় টাইগার পেসার তাসকিন আহমেদকে নিয়ে? শন পলক-ডেইল স্টেইনদের দেশে নিজের জাত চেনালেন এই বাংলাদেশি স্পিডস্টার। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা।

পুরো সিরিজজুড়েই দূর্দান্ত ছিলেন তাসকিন। ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে মোট ৮টি উইকেট পেয়েছেন এই পেসার। প্রথম ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। দ্বিতীয় ম্যাচে উইকেটের দেখা না পেলেও সিরিজের গুরুত্বপূর্ণ ও সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ম্যাচে তুলে নিয়েছেন ৫টি উইকেট। যার ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। প্রথমবারের মতো বিদেশের মাটিতে সিরিজ সেরার পুরুষ্কার পেয়েছেন এই পেসার। সেই সঙ্গে তৃতীয় ম্যাচের সেরা খেলোয়ারও নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

এদিকে, প্রায় আট বছরের ব্যবধানে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো ৫ উইকেট শিকারের স্বাদ পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। সময়ের হিসেবে গত ১০ বছরে ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে তাদের বিপক্ষে ৫ উইকেট নেয়া প্রথম পেসার তিনি।

বুধবার সেঞ্চুরিয়ানে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ৯ ওভারে ৩৫ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব গড়েন তাসকিন। তার আগুন ঝরানো বোলিংয়ের সামনে অসহায় হয়ে পড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা। সুপারস্পোর্ট পার্কে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ ওভারে তারা অলআউট হয় মাত্র ১৫৪ রানে। তাতে বাংলাদেশ পাচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে প্রথমবারের মতো কোনো সিরিজ জয়ের সুবাস।

তাসকিনের আগে ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শেষবার ফাইফার নেয়া পেসার ছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা। ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি শ্রীলঙ্কার সাবেক এ তারকা ১০ ওভারে ৫ উইকেট শিকার করতে খরচ করেছিলেন ৫৪ রান। এরপর পেরিয়ে গেছে এক দশকেরও বেশি সময়। কিন্তু কেউই পাচ্ছিলেন না ৫ উইকেটের দেখা। অবশেষে তাসকিনের হাত ধরে অবসান হলো দীর্ঘ অপেক্ষার।

এদিন ১৩তম ওভারে কাইল ভেরেইনাকে বোল্ড করে নিজের উইকেট উৎসবের শুরু করেন তাসকিন। এরপর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একে একে তুলে নেন আরো ৪ উইকেট। ১৫তম ওভারে তার বলে ইয়ানেমান মালান কুপোকাত হন। পরের স্পেলে যেন আরো বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন তিনি! ২৫তম ওভারে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে সাজঘরে ফেরানোর পর ২৯তম ওভারে ধরেন জোড়া শিকার।

ঐ ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার আশার আলো হয়ে জ্বলতে থাকা ডেভিড মিলারকে সাজঘরে ফেরান তাসকিন। এরপর ওভারের শেষ বলে কাগিসো রাবাদা হন তার পঞ্চম শিকার। তার পরের উইকেটগুলোর প্রতিটিতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন মুশফিকুর রহিম। দারুণ চারটি ক্যাচ লুফে নেন এ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট