Tuesday, May 21, 2024

মিষ্টি পানে জহিরুলের মুখে হাসি

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে ধান, গম, ভূট্টাসহ বিভিন্ন প্রকার সবজির পাশাপাশি প্রথমবারের মত মিষ্টি পান চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এক চাষী। তার নাম মো: জহিরুল ইসলাম (৩৫)। তিনি উপজেলার মামুদনগর ইউনিয়নের ভাতশালা গ্রামের মৃত সরব আলীর ছেলে।

অন্যের দোকানে কাজ করে অভাব-অনটনে কোনো রকম সংসার চলে জহিরুলের। এক বন্ধুর সাথে পরামর্শ করে রাজশাহী থেকে মিষ্টি জাতের প্রায় পাঁচ হাজার পানের চারা এনে পরিত্যক্ত বাড়ির পতিত জমিতে রোপন করেন। পান চাষ করেই ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন তিনি ও তার পরিবার। এখন শখের বসে গড়ে তোলা পানের বরজের পরিচর্যা করে দিন কেটে যাচ্ছে তার। বরজের পান বিক্রি করেই স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে চলছে তার সংসার।

জহিরুল ইসলাম জানান, নাগরপুর উপজেলায় তিনিই প্রথম পান চাষ শুরু করেন। রাজশাহী থেকে পানের ডগা এনে প্রায় ২৫ শতাংশ ভিটে বাড়ির পতিত জমিতে রোপন করেন। চারদিকে পাট খড়ির বেড়া ও উপরে ছাউনি দিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে তার খরচ হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার টাকা। কোনো রকম সমস্যা দেখা দিলে রাজশাহী থেকে অভিজ্ঞ দুই একজন পান চাষি এনে তাদের পরামর্শ নেন। নয় মাস পর থেকে পান তোলা শুরু করেন তিনি।

স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে রাজশাহীতে গিয়ে পান বিক্রি করেন জহিরুল। তবে পান চাষের জন্য জমি উপযোগী কিনা তা নিয়ে সংশয় ছিল তার। তা কাটিয়ে এখন সফলতার মুখ দেখছেন। কয়েক মাসেই পুরো খরচের টাকা উঠে আসে তার। তিনি এখন নিজেকে একজন সফল পান চাষি ভাবতে শুরু করেছেন।

জহিরুল জানান, তার অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। তাই যদি উপজেলা প্রশাসন কিংবা কৃষি অফিস থেকে কোনো সহযোগীতা পান তা হলে আরো বড় পরিসরে চাষাবাদ করবেন।

স্থানীয় সোলাইমান মাস্টার বলেন, আমাদের এলাকায় পান চাষ হবে এটা আমরা বিশ্বাস করতে পারিনি। জহিরুলের সফলতা দেখে আমরা খুবই খুশি। শিক্ষিত বেকার যারা আছে তার পান চাষ দেখে উপজেলায় এবার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা যায়।

নাগরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, নাগরপুর উপজেলায় পান চাষে জহিরুল ইসলাম একজন সফল উদ্যোক্তা। পান যেহেতু অর্থকরী ফসল। তাই কৃষি অফিস থেকে জহিরুল ইসলামসহ যারা পান চাষে এগিয়ে আসবে তাদের সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করা হবে।-নয়া দিগন্ত।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট