Tuesday, May 21, 2024

বাজারদরে খুশি পাবনার পেঁয়াজ চাষিরা!

চাষ বাড়ালেও এবছর কৃষকরা ফলন কম পেয়েছেন। গত বছরের তুলনায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন কম হলেও বাজারদরে খুশি কৃষকরা। ফলন কম হওয়ায় লোকসানের আশঙ্কা করলেও বাজারদর ভাল থাকায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। চলতি বছর পাবনায় ব্যাপক পরিমানে পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে।

কৃষকরা মাঠ থেকে পেঁয়াজ তুলে নিয়েছেন। কোনো মাঠে এখন আর পেঁয়াজ নেই। কৃষকরা তাদের বাড়িতে এর সংরক্ষণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ কেউ আবার উঠানে পেঁয়াজ শুকাচ্ছেন। ফলন কম হওয়ায় কৃষক চিন্তিত থাকলেও বাজারদর ভাল থাকায় এখন আর সেই চিন্তা নেই।

গত বছর পাবনা জেলায় ৫৩ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের চাষ হয়েছিল। যা থেকে ৭ দশমিক ৯৭ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজের উৎপাদন হয়েছিল। এবছর ৫২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। যা থেকে ৭ দশমিক ৩৭ লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন কম উৎপাদন হয়েছে।

পেঁয়াজচাষি মন্টু খান বলেন, এবছর আমি ৮ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। এই জমি থেকে গত বছর ৪০০ মণ পেঁয়াজের ফলন পেয়েছিলাম। আর এবছর ২৫০ মণ পেয়েছি। ফলন কম পেলেও বর্তমান বাজারদর ভাল থাকায় লোকসানের আশঙ্কা কিছুটা কাটছে।

অন্যান্য পেঁয়াজ চাষিরা বলেন, এবছর দেশি পেঁয়াজের পাশাপাশি হাইব্রিড জাতেরও রোপন করেছেন। হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজের বেশি ফলন পেলেও দেশি নাবি জাতের পেঁয়াজের ফলন কম পেয়েছেন। আগের তুলনায় চাষে খরচের পরিমান বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘায় ৪০-৪২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ বিঘায় ৪০-৪৫ মণ ও দেশি নাবি জাতের ২০-২২ মণ ফলন পেয়েছেন। তবে ঈদের পরে বর্তমানে প্রতিমণ পেঁয়াজ ১৪৫০-১৬৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে কৃষকের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। রোজার ঈদের আগে বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজ ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হলে কৃষকরা লোকসানে পড়ার আশঙ্কা করছিলেন।

পাইকারি ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, রোজার ঈদের পর থেকে বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা ও দাম দুটোই বেড়েছে। বর্তমানে প্রতিনিয়তই চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাহিদার তুলনায় এবার পেঁয়াজের জোগান দিতে বেশি দামে পেঁয়াজ কেনাবেচা হচ্ছে। এছাড়াও এবছর পেঁয়াজের ফলন কম হওয়ায় বাজারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আলী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে চাহিদার পাশাপাশি বাজারে পেঁয়াজের দামও বাড়ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন। প্রথমদিকে বাজারদর কম থাকায় কৃষকরা লোকসানে পড়ার আশঙ্কায় ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট