Friday, April 19, 2024

শখের বাগান থেকে জাহাঙ্গিরের বছরে আয় ৮ লাখ!

বাড়ির আঙিনায় বিভিন্ন জাতের আমের চাষ করে সফলতা পেয়েছেন জাহাঙ্গির। তার শখে গড়ে তোলা বাগান এখন বাণিজ্যিক রূপ ধারন করেছে। স্বপ্ন ও শখ দুটোই পূরণ হচ্ছে এই বাগানের মাধ্যমে। কথায় আছে শখের তোলা আশি টাকা। কিন্তু জাহাঙ্গির মুসুল্লির শখের বাগান থেকে বছরে আয় ৮ লাখ টাকা।

জাহাঙ্গির মুসুল্লি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউপির মুসুল্লিয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তিন ২০০৫ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ গেলে সেখানে এক আম বাগান মালিকের সাথে পরিচিত হন। তার কাছে থেকে পরামর্শ ও চারা সংগ্রহ করে বাড়ির আঙিনায় রোপন করেন। ২০১০ সালে গাছে মুকুল ও তারপর ফল দেখা দিলে তিনি খুব খুশি হয়ে যান। তারপর ৬ একর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে বিভিন্ন জাতের আমের চাষ শুরু করেন। তিনি লবনাক্ত জমিতে দেশি-বিদেশি জাতের আম বাগান গোটা এলাকায় করে সারা ফেলেছেন। ২০১৫ সালে সেই বাগান থেকে ৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করেন।

তার বাগানে ফজলি, হিমসাগর, আম্রপালি, বাড়িফোর, লোকনা, ব্যানানা, কাটিমন, হাড়িভাঙ্গা, কিউজাই, সূর্যডিম, ফোরকেজি, বোম্বাই, মিশ্রিকান্ড, গোপালভোগসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের গাছ রয়েছে। সারিবদ্ধভাবে লাগানো প্রতিটি গাছেই আম ঝুঁলছে। পাঁকা আমের গন্ধ পুরো বাগানজুড়ে মম করছে। তার বাগানের আম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বরিশাল, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়ে থাকে। আম ছাড়াও তার বাগানে বিভিন্ন জাতের পেয়ারা, লিচু, লেবু,কাঁঠাল, কলাগাছও রয়েছে।

সফল চাষি জাহাঙ্গীর মুসুল্লি বলেন, প্রথমে শখে শুরু করলেও এখন বাণিজ্যিকভাবে বাগান করেছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ভাল ফলন হয়েছে। আশা করছি প্রায় ৩০০ মণ আমের ফলন পাবো। আমার কাছ থেকে অনেকেই পরামর্শ নিতে আসেন আমি তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছি। আমার দুটি বাগান থেকে আমসহ বিভিন্ন ফল বিক্রি করে বছরে প্রায় ৮ লাখ টাকা আয় করতে পারি।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এআরএম সাইফুল্লাহ বলেন, চলতি বছর কলাপাড়া উপজেলায় ১১০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ বাগান রয়েছে। তারমধ্যে সব চেয়ে বড় বাগান কুয়াকাটার জাহাঙ্গীর মুসুল্লির। আমরা তার বাগানটি পরিদর্শন করেছি। আশা করছি এবছর এই উপজেলায় কৃষকরা প্রায় দুই কোটি টাকার আম বিক্রি করতে পারবেন। আমরা তাকে সহ সকল আম চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট