Wednesday, May 22, 2024

লেটুস পাতা চাষে লাভবান সৌরভ!

বিদেশি এই সবজিটি আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। জেলা শহর বা রাজধানীর ফাস্টফুড ও রেস্টুরেন্টে এর ব্যাপক ব্যবহার হয়। দিন দিন এর চাহিদা ও জনপ্রিয়তার কথা মাথায় রেখে লেটুস পাতার চাষ করেন তিনি। প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এই পাতাটির সাথে পরিচিতি না থাকলেও সৌরভকে চাষ করে লাভবান হতে দেখে অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হয়েছেন। কুমিল্লায় লেটুস পাতা চাষে সফল সৌরভ ভৌমিক।

সৌরভ ভৌমিক কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার গোক্ষর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাঞ্ছারামপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষার্থী। তিনি ইন্টার্নি করতে নিজ গ্রামে আসেন। তারপর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ডাব বেগুনের জমিতে লেটুস পাতার চাষ করেন। শহরের মতো এখন গ্রামাঞ্চলেও ফাস্টফুড ও ছোট ছোট রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে। এইসব দোকান গুলোতে চাইনিজ খাবার, বার্গার ও সালাদে লেটুস পাতার ব্যবহার বেশি হয়। পুষ্টিকর এই পাতাটি মানুষ স্বানন্দেই খেয়ে থাকেন। এই পাতাটি অনেকটা বাধাকপির মতো দেখতে বলে গ্রামের মানুষ এখনো চিনতে পারেনি। তবে সৌরভের লাভজনক অবস্থান দেখে অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। দিন দিন এর চাহিদা বাড়ার কারণেই সৌরভ এর চাষ করতে আগ্রহী হন।

সৌরভ ভৌমিক বলেন, আমি আসার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেটুস পাতা দেখেছি। তারপর নিজ এলাকায় ইন্টর্নি করতে এসে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে ৭ শতক জমিতে ডাব বেগুনের সাথে এই পাতার চাষ করি। ডাব বেগুন চাষে ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। দেড় লাখ টাকার মতো ডাব বেগুন বিক্রি করেছি। ডাব বেগুনের জমিতে ২ হাজার টাকা খরচে লেটুস চার লাগিয়েছি। ২০ হাজার টাকার পাতা বিক্রি করেছি। আগামী বছর আরো বেশি জমিতে এই পাতার চাষ করবো।

লেটুস পাতা পাইকারি প্রতি কেজি ১০০ টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি। আবার খুচরা এই পাতা প্রতি কেজি ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তিনি স্থানীয় চাইনিজ খাবার, বার্গার ও সালাদের দোকানে সরবরাহ করে লাভবান হয়েছেন। তাকে লাভবান হতে দেখে অনেকেই এর চাষ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসার বানিন রায় বলেন, বিদেশি সবজি ক্যাপসিকাম, লেটুস এই গুলো গ্রাম পর্যায়ে এখানো অপরিচিত। তবে এখন ধীরে ধীরে এর পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়াও অন্য ফসলের সাথে সাথি ফসল হিসেবেও এর চাষ করা যায়। বেগুন ও মরিচের জমিতেও এর চাষ করা যায়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট