Friday, June 21, 2024

লিচুর বাজারদর ভাল পাওয়ায় খুশি আখাউড়ার চাষিরা!

বর্তমানে এখানকার হাট বাজারগুলোতে শুধু লিচু আর লিচু। ফলের বাজারগুলোতে ক্রেতা বিক্রেতাদের পদাচারণায় মূখরিত হচ্ছে। এবছর বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লিচুর আকার ছোট হলেও বাজারদর ভাল। এতে ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে খুশি চাষিরা। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আখাউড়ায় লিচুর ব্যাপক ফলন হয়েছে।

হাট বাজারে, রাস্তার মোড় ও ফুটপাতে লিচু ক্রেতার বিক্রেতাদের আনাগোনায় বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। বিগত ১০ দিন যাবত লিচুর বেচাকেনা চলছে। মৌসুমের শুরুর দিক হওয়ায় এখন দাম বেশি। আস্তে আস্তে সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে। বাজারে প্রতি ১০০ পিস লিচু ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

উপজেলার আজমপুরের খোরশেদ আলম বলেন, আমার বাগানে ৩০টি লিচুর গাছ রয়েছে। আমার বাগানে পাটনাই মাদ্রাজি, চায়না জাতের লিচু রয়েছে। প্রচন্ড দাবদাহের কারণে ফলন কিছুটা কম পেয়েছি। ইতোমধ্যে গত ১ সপ্তাহে প্রায় ১৮ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেছি। তাই পাইকারের কাছে বিক্রি করিনি। আমি নিজেই বাগান থেকে লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি করছি। বাজারে লিচুর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি।

চাষি মুর্শেদ মিয়া বলেন, আমার ২টি বাগানে প্রায় ৪০টি লিচু গাছ রয়েছে। এ বছর তীব্র তাপমাত্রার কারণে তুলনামূলক লিচু ফলন কম হয়েছে। ফলন কম হলেও বাজারে ভালো চাহিদা ও দাম ভাল। পাইকারের কাছে বিক্রির পাশাপাশি এখন নিজেও বিক্রি করছি। এখন পযর্ন্ত আমি ২২ হাজার টাকা লিচু বিক্রি করেছি। আশা করছি লাভবান হতে পারবো।

ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মৌসুমি লিচুর ব্যবসা করছি। এখানকার লিচু খেতে মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় বাজারে বেশ ভাল চাহিদা রয়েছে। এবছর ৩ টি বাগান ইজারা নিয়েছি। প্রতিদিন প্রায় ৮ হাজারের উপর লিচু বিক্রি করছি। এছাড়াও ভালো দাম পাওয়ায় লাভবান হতে পারছি। বাজারে লিচুর অনেক চাহিদা রয়েছে।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানা বেগম বলেন, চলতি বছর উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। এ মৌসুমে আবহাওয়া গরম থাকার কারণে লিচুর কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পযর্ন্ত চাষিরা ভাল ফলন পেয়েছেন। আশা করছি এবছর প্রায় ১ কোটি টাকারও বেশি টাকার লিচু বিক্রি হবে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট