- Advertisement -

যেভাবে প্রোটিয়াদের প্লান ভেঙেছেন, জানালেন সাকিব নিজেই

Must Try

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে আজ টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকদের বিপক্ষে রেকর্ড রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। লিটন দাস, সাকিব আল হাসান এবং ইয়াসির আলী রাব্বির হাফসেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। জবাবে, ব্যাটিং করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সব উইকেট হারিয়ে ৪৮.৫ ওভার খেলে ২৭৬ রান সংগ্রহ করে দক্ষিণ আফ্রিকা।

- Advertisement -

ফলে ৩৮ রানের বিশাল ব্যবধানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশ জয় পায়। সেই সাথে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। কেন না, এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে ওডিআাইতে বাংলাদেশের কোনো জয় ছিল না। আজকে সেই রেকর্ড ভেঙ্গে ইতিহাস গড়ল টাইগাররা।

- Advertisement -

ম্যাচ শেষে জয়ের পরে ম্যাচ সেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার নিতে এলেন সাকিব আল হাসান। দলের জয়ের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বললেন। নিজের ‌ব্যাটিং, দলের রানের লক্ষ্য ও ইয়াসির রাব্বির সঙ্গে জুটি নিয়ে কথা বললেন। এরপর পরাজিত দলের অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা এসে জানালেন, তাদের পরিকল্পনা ঠিক মতো কাজে লাগেনি। প্রোটিয়া ওয়ানডে অধিনায়কের মতে, নতুন বলে এবং স্লগে তাদের হাত থেকে ম্যাচ বেরিয়ে গেছে। ওই দুই জায়গায় বহু চেষ্টা করেও ম্যাচের লাগাম হাতে পাননি তারা, ‘শেষ ২০ ওভারে ওরা (বাংলাদেশ) ১৮০ রানের মতো করেছে। বোলারদের সঙ্গে পরামর্শ করেও কোন কুলকিনারা করতে পারিনি।’

- Advertisement -

প্রোটিয়া টপ অর্ডার ব্যাটার বাভুমা এরপর বললেন, ‘ইনিংসের শুরুতে আমরা উইকেট আদায় করতে পারিনি। নরম্যালি, টপ অর্ডার থেকে আমরা উইকেট পাই এবং ডট বলের ধারা বজায় রাখতে পারি। নরম্যালি, স্লগ ওভারে আমাদের পরিকল্পনা কী সেটাও আমরা জানি। আমাদের লক্ষ্যটা ২৭০-২৮০’র মধ্যে রাখতে হতো। তিনশ’র ওপরের ওই রান তাড়া করতে হলে কাউকে সেঞ্চুরি করতে হতো।’

সাকিব আরও বললেন, কোথায় তারা ঝুঁকি নেওয়ার পরিকল্পনাটা করেছিলেন, ‘আমাদের কিছু ক্যালকুলেটিভ ঝুঁকি নিতে হতো। ইনিংসের ৩০-৪০ ওভারে ওই ঝুঁকিটা নিয়ে রানের গতি বাড়াতে পারা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ আমরা জানতাম, স্লগে রাবাদা বোলিংয়ে আসবে এবং ওকে খেলা কঠিন হবে। সেজন্য পরিকল্পনা ছিল, ওকে (রাবাদা) আগে-ভাগেই (৩০-৪০ ওভারের মধ্যে) আক্রমণে আনা।’

সাকিবের পরিকল্পনা যে দুর্দান্তভাবে কাজে লেগেছে ম্যাচের ফলই তা বোঝাতে যথেষ্ঠ। আর ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তার সঙ্গে ১১৫ রানের দুর্দান্ত এক জুটি গড়েছেন ইয়াসির রাব্বি। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে খেলতে নেমে তার ওই ৪৪ বলে ৫০ রানের ইনিংসের প্রশংসা করলেন দেশ সেরা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান।

তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, জিততে হলে আমাদের ৩০০ রান করতে হবে। শুরুতে ব্যাটিংটা ভালো হয়েছে। পুরনো বলে ব্যাটিং করা আমাদের জন্য সহজ ছিল। ইয়াসির খুবই ভালো ব্যাটিং করেছে। ওকে অনেক বেশি কৃতিত্ব দিতে হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় (চতুর্থ) ম্যাচ খেলতে নামা একজনের জন্য কাজটা সহজ নয়।’

এর আগে, ম্যাচের শুরুতে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। ফলে ব্যাট করতে নামে সফররত বাংলাদেশ দল। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সূচনা পায় সফরকারীরা। ওপেনিং জুটিতেই তামিম এবং লিটন মিলে তুলেন ৯৫ রান।

অতপর ব্যক্তিগত ৪১ রানে আউট হন দলীয় ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিম আউট হওয়ার পরের ওভারেই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন লিটন কুমার দাস। তবে সেই ওভারেই প্যাভিলিয়নে ফিরে যান তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৫০ রান। আর মুশফিক ফেরেন মাত্র ৯ রানে।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে আপনতালে খেলে যান সাকিব আল হাসান এবং ইয়াসির আলি রাব্বি। দুজন মিলে গড়েন ১১৫ রানের জুটি। দুজনই ব্যক্তিগত অর্ধশতক পূর্ণ করেন। সাকিব এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। কিন্তু লুইগি এনগিদির বলে আউট হওয়ার আগে করেন ৭৭ রান। এদিকে ব্যক্তিগত অভিষেক ফিফটির দেখা পেয়েছেন ইয়াসির রাব্বি। আউট হয়েছেন ৫০ রানেই।

শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ, আফিফ এবং মেহেদিরা মিলে দলীয় স্কোরটা তিনশর ঘর ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। ১৭ বলে ২৫ রানে মাহমুদউল্লাহ এবং ১৩ বলে ১৭ রানে আউট হন আফিফ হোসেন। আর ১৩ বলে ১৯ রানে মেহেদি ও ৫ বলে ৭ রানে তাসকিন অপরাজিত থাকেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বোচ্চ দুটি করে উইকেট নেন মার্কো জানসেন এবং কেশব মাহারাজ।

- Advertisement -
- Advertisement -
- Advertisement -

Latest Post

- Advertisement -

You Like This

- Advertisement -