Monday, July 22, 2024

যশোরে লিচুর বাম্পার ফলন, দামে খুশি চাষিরা!

বর্তমানে বাগান থেকে লিচু পেড়ে বাজারে বিক্রি করছেন। এতে অধিক ফলনের পাশাপাশি বাজারে বেশ ভাল দামে বিক্রি করতে পেরে লাভবান বাগান মালিকরা। যশোরের হাট বাজারে এখন লিচুর সমাহার। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এখানকার চাষিরা লিচুর বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

যশোর জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে সদর ও বাঘারপাড়া উপজেলায় সবচেয়ে বেশি লিচুর চাষ করা হয়। এছাড়াও চৌগাছা, শার্শা, মণিরামপুর, অভয়নগর, ঝিকরগাছা, কেশবপুর উপজেলায় লিচুর চাষ হয়েছে। চাষিরা দেশি, চায়না-৩, বোম্বাই, বারি, বারি-৪, মোজাফফর, ঈশ্বরদী, বেদানা, এলাচসহ বিভিন্ন জাতের লিচুর চাষ করেছেন। যশোর শহরের মণিহার ও বসুন্দিয়া এলাকায় প্রতিদিন লিচুর হাট বসে। হাটে প্রতিদিন কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হয়।

চলতি বছর যশোর জেলার ৮টি উপজেলায় ৬৪৯ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকায় কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

যশোর সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের লিচু বাগানি বজলুর রশিদ বলেন, এবছর আমি ২ লাখ টাকা দিয়ে একটি বাগান লিজ নিয়েছি। বাগানে দেশি, চায়না ও চায়না-৩ লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। ভালো ফলন পেতে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করেছি। তেমন ঝড় হয় নি। তবে কিছুদিন প্রচন্ড দাবদাহ ছিল। তখন বাগানে গাছে পানি ছিটিয়ে দিয়েছি। বর্তমান বাজারদর ভাল আশা করছি লাভবান হতে পারবো। এবছর বাগানের একেকটি গাছে প্রায় ২-৩ হাজার পিস লিচু পাওয়া গেছে।

বাগান মালিক মোতালেব মোল্লা বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগেই লিচুর বাগান করেছি। কৃষি বিভাগ থেকে আমাদের কোনো সহযোগিতা করা হয় নি।

এদিকে যশোরের শহরের খুচরা বাজারে প্রকারভেদে ১০০ লিচু ৩০০-৭০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে। আর পাইকারি বাজারে প্রতি হাজার লিচু ১২০০-৩০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারদর ভাল থাকায় খুশি বাগান মালিকরা। এখানকার হাট বাজার থেকে লিচু কিনে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় সরবরাহ করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক বলেন, চলতি বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় চাষিরা লিচুর ব্যাপক ফলন পেয়েছেন। এখানকার লিচুর স্বাদ ও মান খুবই ভাল। তাই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। আমরা চাষিদের সব ধরনের সহযোগিতা করছি। চাষিরা লিচুর চাষ করে লাভবান হওয়ায় অনেকেই এর চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট