Tuesday, May 21, 2024

বিঘাপ্রতি ফলন ৬০ মণ, লাভবান ভুট্টা চাষিরা

অল্প খরচে চাষ করে বেশি ফলনের পাশাপাশি ভালো বাজারদরও পাওয়া যায়। এবছর আশানূরূপ ফলন পাওয়ার সাথে সাথে বর্তমান বাজারদরে বিক্রি করে লাভবান হতে পারায় খুশি কৃষকরা। চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মেহেরপুরে ভুট্টা চাষে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছেন।

জেলার প্রায় সব গুলো উপজেলাতেই কমবেশি ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। এখানকার কৃষকরা জমি থেকে অন্যান্য ফসল তোলার পর ভুট্টার চাষ ‍শুরু করেন। এর চাষে খরচ কম ও ফলন বেশি পাওয়া যায় বলে কৃষকরা এর চাষে ঝুঁকছেন। বর্তমানে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ভুট্টা জমি থেকে তুলে বাজারজাত করছেন। গত মৌসুমে বাজারদর কম থাকায় কৃষকদের লোকসানে পড়তে হয়েছিল। চাষিরা বাজারে ভুট্টা বিক্রির পাশাপাশি এর গাছ জ্বালানী ও গোখাদ্য হিসেবেও বিক্রি করে বাড়তি আয় করতে পারছেন। তবে এবছর বাম্পার ফলন পাওয়ায় কৃষকরা আগের কষ্টের কথা ভূলে গেছেন।

গাংনী উপজেলার নিশিপুর গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান বলেন, আমি এবছর ১ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। জমিতে সার, বীজ, কীটনাশক ও পরিচর্যা বাবদ প্রায় সাড়ে ৮ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৫৮ মণ ফলন পেয়েছি। বর্তমান বাজারদর ভালো আশা করি লাভবান হতে পারবো।

অন্যান্য আরো কৃষকরা বলেন, বর্তমানে বিঘাপ্রতি ৮-১০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ৫০-৬০ মণ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আর বর্তমানে বাজারে প্রতিমণ ভুট্টা ১০০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। ভুট্টা ব্যবসায়ী জিয়াউর রহমান বলেন, আগের তুলনায় এখন ভুট্টার চাহিদা বেড়েছে। সাথে সাথে এর চাষও বাড়ছে। বর্তমান বাজারে প্রতিমণ শুকনো ভুট্টা ১০০০-১২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা ভুট্টা ৯০০-৯৫০ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে। কেননা কাঁচাগুলো শুকানো হলে পরে ওজন কমে যায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শঙ্কর কুমার মজুমদার বলেন, চলতি বছর মেহেরপুর জেলায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ করা হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরো ৪৫০০ হেক্টর বেশি। দিন দিন ভুট্টার চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই কৃষকরা চাহিদা অনুযায়ী ভুট্টার আবাদ করছেন। এতে কৃষক লাভবান হতে পারছেন। আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহয়োগিতা করছি। আশা করি এর চাষ আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও এর গাছ জ্বালানী হিসেবে ও ছোবড়া বিক্রি করে কৃষকরা বাড়তি আয় করতে পারছেন।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট