Saturday, February 24, 2024

ফারুকী-তিশার জীবনের প্রতিচ্ছবি

যেসিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার পেছন থেকে সামনে এলেন নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। সেটাকে বিশেষ বলাই যায়।তারপরও দিনশেষে সিনেমার ভালো-মন্দ নির্ভর করে গল্প ও অভিনয়ের ওপর। আর অভিনেতা হিসেবে ফারুকী উতরে গেছেন, তার আভাস মিলছে সিনেমার টিজার, ট্রেলার দেখার পর।

অটোবায়োগ্রাফি’র গল্প ও চিত্রনাট্য

পরিচালক-অভিনেত্রী দম্পতি ফারহান ও তিথির বিয়ের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সন্তান হয়নি। এজন্য তাদের সম্মুখীন হতে হয় নানা সমালোচনার। করোনার সময় তারা সিদ্ধান্ত নেন সন্তান নেওয়ার। কিন্তু এখানেই সব সমস্যার শেষ নয়; বরং তাদের ঘিরে দানা বাঁধতে শুরু করে আরও ভয়াবহ জটিলতা। এমন প্রেক্ষাপটে তিশা ও ফারুকীলিখেছেন ‘অটোবায়োগ্রাফি’র গল্প। রচনার সময় নিজেদের বাস্তবজীবনের অনুপ্ররনাও নিয়েছেন এই তারকা দম্পতি। জানা গেছে, সাধারণত যে বিষয়গুলোকে সমাজে প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়, সেগুলোকে সযত্নে এই গল্পে তুলে ধরেছেন নির্মাতা ফারুকী। নিজের এই সিনেমা প্রসঙ্গে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘এক ধরনের প্রেমের গল্প বলার চেষ্টা করেছি আমরা। একটি দম্পতির প্রেমের গল্প। তাদের স্বপ্ন ও ইচ্ছার গল্প। কিন্তু প্রেমের গল্পগুলো একরকম দুর্বলতার গল্পও। ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ মূলত মানুষ হিসেবে, দম্পতি হিসেবে, নাগরিক হিসেবে, সম্ভাব্য পিতামাতা হিসেবে এবং বছরের পর বছর পিতৃতান্ত্রিক মাছের বাটিতে সাঁতার কাটা দুটি হারিয়ে যাওয়া আত্মার মতো আমাদের দুর্বলতার গল্প। এটি একটি রাজনৈতিক চলচ্চিত্র বলে মনে হতে পারে; এটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত।কারণ ব্যক্তিগত বিষয় রাজনৈতিক।’

নির্মাতা থেকে অভিনেতা ফারুকী: বাংলাদেশের ভিন্ন ধারার সিনেমার নির্মাতাদের মধ্যে অন্যতম মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তাঁর চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৩ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে। এরপর একে একে‘মেড ইন বাংলাদেশ’, ‘থার্ড পারসনসিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’, ‘পিঁপড়াবিদ্যা’ ‘ডুব’সহ আরও কয়েকটি সিনেমার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নিজের স্বাক্ষর রেখেছেন। ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ সিনেমায় অভিনয়ের বিষয় নিয়েপ্রথমে বেশ ইতস্তত ছিলেন ফারুকী। এরপর স্ত্রী তিশার সহযোগিতাতেই ২০ বছর ধরে ক্যামেরার পেছনে থাকা নির্মাতা ক্যামেরার সামনে এসে দাঁড়ালেন। প্রথমবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানিয়ে ফারুকী বললেন, ‘আমি নানা রকম গল্প বলার চেষ্টা করেছি। সেগুলোর একেকটা একেক রকমভাবে মানুষকে স্পর্শ করেছে। অভিনয় কেমন হওয়া উচিত, কোন গল্প বলা জরুরি– এসব নিয়ে সারাক্ষণই নিরীক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু যে কাজটা কখনোই করার চেষ্টা করিনি, তা হলো অভিনয়। প্রথম দিকে আমার মধ্যে ইতস্তত ভাব থাকলেও তিশা আমাকে একটা কথা বলে, সংশয় দূর করে দেয়।’ ও বলে, ‘এই গল্প তুমি জীবনে একবারই করতে পারবে। করে ফেলপ্লিজ!শুটিং শুরু হওয়ারপর তেমন কোনো আলাদা অনুভূতি হয়নি। মনে হয়েছে, এটাই তো স্বাভাবিক। শুধু একটা জিনিস আলাদা ছিল। শটের সময় মনিটরে থাকা হতো না। শট শেষে গিয়েমনিটরে প্লেব্যাক করতাম।’ ফারুকীর অভিনয় প্রসঙ্গে নুসরাত ইমরোজ তিশা বলেন, ‘ফারুকী খুব ভালো ডিরেক্টরের পাশাপাশি ভালো অভিনেতা আগে থেকেই ছিল। কিন্তু সেটা ক্যামেরার পেছনে। এখন সেটা সবার সামনে চলে এলো।’ এ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রেঅভিনয় করেছেন ইরেশ যাকের, শরাফ আহমেদ জীবনসহ আরও অনেকে।‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’ নামটি জাপানি নির্মাতা আকিরা কুয়োসাওয়ার স্মৃতিকথা থেকে নেওয়া বলে জানান ফারুকী।
শেষ কথা

মোস্তফা সরয়ার ফারুকী মানেই যে ভিন্ন কিছু, অটোবায়োগ্রাফির সিনেমার মাধ্যমে তাআবারও প্রমাণিত হবে বলে আশা করছেন তার ভক্তরা। এই সিনেমার টিজার প্রকাশ হওয়ার পরথেকেই মিডিয়া পাড়াসহ ভক্তদের মধ্যে হইচই শুরু হয়ে গেছে অটোবায়োগ্রাফি নিয়ে। আজ চরকির দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ছবিটি। সর্বোপরি, ফারুকীর অভিনয়ের চমকের পাশাপাশি দীর্ঘদিন পর তিশার প্রত্যাবর্তনও হতে হচ্ছে এ সিনেমার মাধ্যমে। ফারুকী বললেন, ‘ছবিটি কন্যা ইলহামের কাছে আমাদের লাভ লেটার হিসেবে দেখছি। যখন সে বড় হবে এবং সিনেমাটি দেখার সুযোগ পাবে, আমি আশা করি সে, আমাদের তার কানে, ফিসফিস করে বলতে শুনবে, এটাই সেই পৃথিবী, সেখানে তুমি এসেছ।’ তিশা বলেন, ‘এই ছবি আমার হৃদয়ের খুব কাছের। চলচ্চিত্রটি জীবনের খুব কোমল মুহূর্ত নিয়ে কাজ করেছে।বেশির ভাগ দর্শক খুব সহজেই রিলেট করতে পারবে। বিশেষ করে নারী দর্শকরা ছবিটির মুহূর্তগুলো ভিন্নভাবে অনুভব করবেন।’

সূত্র: সমকাল।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট