Saturday, February 24, 2024

পাটকে ঘিরে কৃষকের রঙিন স্বপ্ন!

উৎপাদিত পাট স্থানীয় বাজারে ভাল দরে বিক্রি করতে পারা যায় বলে কৃষকরা এর চাষে ঝুঁকে পাড়ছেন। সোনালি আঁশ খ্যাত এই ফসলটিকে ঘিরে কৃষকরা এবার লাভের স্বপ্ন দেখছেন। আশানুরূপ ফলন ও লাভবান হওয়ায় যায় বলে পাট চাষে ঝুঁকছে যশোরের চাষিরা। অন্যান্য ফসলের তুলনায় এর চাষ খুবই সহজ। বর্ষার পানিতেই বেড়ে উঠে। এছাড়াও এর চাষে স্থানীয় কৃষি বিভাগ পরামর্শ ও সহযোগিতা করে থাকেন।

চলতি বছর যশোরের শার্শায় ব্যাপক পরিমানে পাটের চাষ করা হয়েছে। এই জেলার মাটি ও অনুকূল আবহাওয়া পাট চাষের বেশ উপযোগী। অন্যান্য ফসলের তুলনায়মূলক খরচ কম লাগে ও বেশি উৎপাদন হয়। এছাড়াও কৃষকদের পাট চাষের পরামর্শ ও সরকারি সহায়তা দিয়ে থাকেন। ফলে এই উপজেলায় পাটের চাষ বেড়েছে। কৃষি বিভাগের অফিসাররা নিয়মিত চাষিদের খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন।

চলতি বছর শার্শা উপজেলায় ৫৪৬০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ১০ হেক্টর বেশি। কৃষকরা ইন্ডিয়ান কৃষি সেবাইন ১৩৫২৪, শঙ্খ ৯৮৯৭, দেশি রবি ১ এবং তোষা ৮ জাতের পাট চাষ করছেন। আষাঢ় মাসের শেষ পর্যন্ত পাট কাটা যায়। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের জমি প্রস্তুত করে জমিতে ছিটিয়ে পাট চাষ করতে বলা হয়েছে। বীজ ছিটিয়ে দেওয়ার ১২০ এবং ধানের জমিতে ছিটিয়ে বোনার ১১০ দিনের মধ্যে কাটার পাট উপযোগী হয়।

ডিহি ইউনিয়নের দরিদূর্গাপুর গ্রামের কৃষক লাভলু মিয়া, নিজাম উদ্দিন ও জহুরুদ্দিন বলেন, আমরা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী ২০ বিঘা ধানের জমিতে পাট ছিটিয়ে চাষ করছি। এবছর বৃষ্টি তেমন নেই। তাই ঘনঘন সেচ দিতে হয়েছে। আবহাওয়া ভাল থাকলে প্রতি বিঘায় ৮-১৬ মণ করে ফলন পাওয়া যাবে। আশা করছি বাজারদর ভাল থাকলে বিঘাপ্রতি ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ করত পারবো।

দরিদূর্গাপুরের আকবার আলি ও গোকর্ণ গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, এবছর আবহাওয়া ভাল আছে। আশা করছি বাম্পার ফলন পাবো। গত বছর একবার মান অনুযায়ী প্রতি মণ পাটের দাম ৬-৭ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে শেষের দিকে আবার দাম কমে ১৮০০-২৭০০ টাকা মণে চলে আসে। দাম বাড়ালে আমরাও এর চাষে আগ্রহ পাই।

শার্শা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ কুমার মন্ডল বলেন, চলতি বছর কৃষি বিভাগ থেকে এই উপজেলায় ৪৩০০ জন কৃষককে ১ কেজি করে পাটের বীজ প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পাট উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে চাষিদের সহযোগিতা করা হয়েছে। পাটের বাজার মোটামোটি ভাল। এই পাট রপ্তানি করতে পারলে কৃষকরা আরো লাভবান হতে পারবেন। বর্তমানে ২৫০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট