Wednesday, May 22, 2024

দাবদাহে শুকিয়ে যাচ্ছে মরিচ গাছ, কৃষকের স্বপ্ন ভঙ্গ

মানিকগঞ্জে প্রচন্ড দাবদাহে মরিচের ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এতে বিভিন্ন রোগের আক্রমণে গাছ শুকিয়ে মারা যাচ্ছে। ফলে লোকসানে মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়াও উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় জেলার বড় বরংগাইলের মরিচের আড়তগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

জেলার ঘিওর, দৌলতপুর, শিবালয় ও হরিরামপুর উপজেলার মাঠ জুড়ে মরিচের আবাদ করা হয়। মরিচের সবুজ গাছে ছেয়ে যাওয়া মাঠ এখন ধূসর বর্ণ ধারণ করেছে। প্রচন্ড তাপে গাছ শুকিয়ে চুপসে গেছে। অনেক কৃষক গাছ বাঁচানোর জন্য ঋণ করে জমিতে সেচ, কিটনাশক দিচ্ছেন। তাতেও কাজ হচ্ছে না। গাছের এমন করুণ অবস্থায় কৃষকের কপালে চিন্তার ভাজ পড়েছে।

চাষিরা বলেন, প্রচন্ড রোদ ও অনাবৃষ্টির কারণে জমিতেই মরিচ গাছ মারা যাচ্ছে। তারা সার, সেচ ও কী’টনাশক দিয়েও গাছ বাঁচাতে পারছেন না। অনেকেই মরিচের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এদিকে ফলন না থাকায় জেলার সবচেয়ে বড় বরংগাইলে আড়তে মরিচের সরবরাহ না থাকায় এর সাথে যুক্ত সবাই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। আড়তদাররা বাধ্য হয়ে আড়ত বন্ধ করে দিয়েছেন।

বরংগাইল আড়ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পদক মো. বাচ্চু মিয়া বলেন, এখানকার উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হতো। আগে মাসে প্রায় ৩০-৩৫ কোটি টাকার মরিচ কেনাবেচা হতো। মরিচ সংকটের ফলে আড়তদাররা তাদের দোকানই খুলতে পারছেন না। বর্তমানে খরায় কৃষকের মরিচ গাছ মরে যাওয়ায় আড়তে কোনো মরিচ আসছেনা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, চলতি বছর মানিকগঞ্জ জেলায় ৩ হাজার ৫৫১ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ করা হয়েছে। বর্তমানে খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তবে বৃষ্টি হলে আগের মতো ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। আমরা কৃষকদের সেচ ও কী’টনাশক দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট