Saturday, February 24, 2024

এবার লেবু চাষে সৌদি ফেরত শাহজালালের বাজিমাত

জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরব পাড়ি জমিয়ে সুবিধা করতে না পেরে দেশে এসে লেবু চাষে মনোনিবেশ করেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে লেবু চাষ করে সফলতা পেয়েছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা শাহজালাল। মাত্র ২০ শতাংশ জমিতে লেবু চাষ করে বছরে প্রায় ৩ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন। এরইমধ্যে গ্রামের শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবকরা শাহজালালকে অনুসরণ করতে শুরু করেছেন।

উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের সাহেবেরচর নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক লাল মিয়ার ছেলে শাহজালাল। ভাগ্য উন্নয়নের আশায় জমিজমা বিক্রি ও দেনা করে পাড়ি জমায় সৌদি আরব। কিন্তু বিধিবাম। ৮ মাস যেতে না যেতেই দেশে ফেরত আসেন শাহ জালাল। আত্মীয়-স্বজনসহ বন্ধু-বান্ধবের দেনা পরিশোধের চাপ আসতে থাকে। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি। শেষ সম্বল বিশ শতক জায়গায় লেবু চাষের সিদ্ধান্ত নেন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই লেবু থেকে লাভ আসতে থাকে। ধীরে ধীরে আত্মীয় স্বজনের দেনা পরিশোধ করে এখন তিনি স্বাবলম্বী।

শাহ জালালের বীজহীন লেবুর বাগান দেখতে বিভিন্ন স্থান থেকে ছুটে আসছেন মানুষ। অনেকেই আগ্রহী হয়ে উঠছেন। প্রস্তুতি নিচ্ছেন বীজহীন লেবুর চাষ করতে। লেবু চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে ভাগ্য বদল করে এখন তিনি এলাকায় তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

শাহ জালাল বলেন, ২০২০ সালে প্রবাসে গিয়ে সুবিধা করতে না পেরে দেশে এসে ২০ শতক জমি নিয়ে ওই জমিতে ২২০টি বীজহীন লেবুর কলমকৃত চারা রোপণ করি। চারা কেনা, চারা রোপণ, জমি প্রস্তুত, জমি তৈরি, সেচ ও সারসহ বিবিধ খরচ মিলিয়ে ৫০ হাজার টাকা। পরের বছরেই ওইসব লেবু গাছে লেবুর ফলন শুরু হয়। এরপরের বছর বেশ চাহিদা ও দাম পাওয়ায় প্রায় এক লাখ টাকার লেবু বিক্রি করি।সপ্তাহে প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার লেবু বিক্রি করেন। তার মাসিক আয় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকা। ২০২২ সালে প্রায় ২ লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছি।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহফুজ রাজা জানান, এটি অল্প পুঁজিতে ভালো একটি চাষাবাদ ও লাভজনক। শাহ জালালের লেবু চাষের সফলতা দেখে অনেকেই লেবু চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

হোসেনপুর উপজেলা উপ-সহকারী জাহিদ হাসান রনি বলেন, বীজহীন লেবু সারা বছর ফলন দেয়। এ লেবু অধিক ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রচুর রস ও সুঘ্রাণযুক্ত। একবার এ লেবুর চারা রোপণ করলে একাধারে ১২ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত এ জাতের লেবু গাছে ফলন দেয়।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট