Sunday, June 16, 2024

আনারস চাষে লাভবান কৃষকরা!

সারাদেশে এখানকার উৎপাদিত আনারসের ব্যাপক সুনাম ও চাহিদা রয়েছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলার রাবানে আনারস চাষ ঝুঁকছেন চাষিরা। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া এর চাষের বেশ উপযোগী। স্থানীয় চাষিরা আবাদি, অনাবাদি জমি এমনকি বাড়িতেও আনারসের চাষ করে থাকেন।

আনারস নরসিংদীর চাষিদের প্রধান অর্থকরী ফসল। প্রায় ১৫০ বছর আগে ঘোড়াশালে দেশীয় জাতের আনারসের চাষ হতো। যার এরইমধ্যে বিলুপ্তি ঘটেছে। তারপর প্রায় ৫০ বছর আগে সিলেট থেকে পলাশের রাবানে আনারস আনা হয়। তখন থেকেই এখানে আনারসের চাষ করা হয়। বর্তমানে সফলতার সাথে এর ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। জলডুগি আনারস নামে পরিচিত হলেও এর বৈজ্ঞানীক না ‘হ্যানিকুইন’। এর স্বাদ খুবই মিষ্টি। আর যারা দেড়ি করে বাগান করেন তাদের আনারস পাকতে আরো বেশি সময় লাগে। জৈষ্ঠ্য মাসের শুরুতেই এর ভরা মৌসুম। তখনই বাজারে পাকা আনরস পাওয়া যায়।

রাবান, কুড়াইতলী, বিলপাড়, কাটাবের, বরিবাড়ি সহ ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী, রাজাব, খাওগাইর, চামড়াবসহ অনেক স্থানেই আনারসের চাষ করা হয়। এবছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ করা হয়েছে। এর থেকে প্রায় ১৫০০ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

রাবানের আনারস চাষী সমিরন রায় বলেন, আমি ১০ বিঘা জমিতে আনারস চাষ করেছি। এখন নিয়ে প্রায় ৩২ বছর যাবত এর চাষ করতেছি। এর চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। অধিক লাভবান হওয়া যায়। ফলন ভাল হলে বিঘাপ্রতি প্রায় ৭০-৮০ হাজার টাকার আনারস বিক্রি হয়।

অন্যান্য আরো কৃষকরা জানায়, এই ফলটি পচনশীল। এর সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে ভাল হতো। এছাড়াও এখানো এখানে সনাতন পদ্ধতিতে আনারসের চাষ করা হয়। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে আরো ফলন পাওয়া যেত। তারা একটি হিমাগার স্থাপনের জন্য সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। আধুনিকতার যুগেও যদি আনারস সংরক্ষণ করা না যায় তাহলে আর কখন হবে।

পলাশ উপজেলা কৃষি অফিসার আয়েশা বক্তার বলেন, চলতি বছর দাবদাহের কারণে সেচ ও বৃষ্টি হয়নি তাই আনারস বাজারজাত হতে দেড়ি হয়েছে। আমরা পোকামাকড়ের আ’ক্রমণ ও বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সহযোগিতা করছি।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট