হিন্দু-মুসলমান এক আইন নিয়ে এবার সম্মুখ সমরে বিজেপি ও মুসলিম বোর্ড

‘এক বিধান’ ইস্যুতে এবার শুরু হল বাক-যুদ্ধ। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে এ দেশে অনেক রাজনীতি হয়েছে। কিন্তু কোনও সরকার তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়নি। এবার সেই উদ্যোগ নিতেই শুরু হল বিতর্ক।

গত সপ্তাহে সুপ্রিম কোর্ট মুসলমান ধর্মের ‘তিন তালাক’ প্রথার বিরোধিতা করেছে। আদালত বলেছে, এই প্রথা কোনও ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে না।

এর পরেই ভারতের ধর্ম-মত নির্বিশেষ নাগরিকদের জন্য এক ও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (uniform civil code) চালু করতে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী ডি ভি সদানন্দ গৌড়াকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

আইন কমিশন একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে জনগণের মতামত চেয়েছে। বৃহস্পতিবার মুসলিম পার্সোনাল ল’ বোর্ড এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, তিন তালাকের বিধান উচ্ছেদের বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে আইন কমিশন যে প্রশ্নমালা প্রকাশ করেছে তা বয়কট করা হবে।

মুসলিম ল’ বোর্ডের হজরত মাওলানা ওয়ালি রহমান বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড এই দেশের জন্য ভাল হবে না। এই দেশে অনেক সংস্কৃতির মানুষ রয়েছে। তাদের অবশ্যই সম্মান দেখাতে হবে। জনগণের উপরে দেশ কোনও একটি মতাদর্শ চাপিয়ে দিতে পারে না।

ইসলামি আইন অনুযায়ী, স্ত্রীকে তিনবারে তিন তালাক দিয়ে বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে স্বামীকে। ল কমিশনের ওই প্রশ্নমালায়, তিন তালাকের এই বিধান বিলুপ্ত বা সংশোধন করা হবে কিনা, সে বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হয়েছে।

মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের দাবি, তিন তালাকের বিষয়টি একটি ব্যক্তিগত আইন। সুতরাং তা কেন্দ্র সংশোধন করতে পারে না। এই প্রসঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ডিক্টেটর বলে মন্তব্য করেন মুসলিম ল বোর্ডের মুখপাত্র হজরত মওলানা ওয়ালি রহমান।

আজ তারই জবাব দিতে মুখ খুললেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বেঙ্কাইয়া নাইডু। তিনি বলেন, ইউনিফর্ম সিভিল কোড বিষয়টির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নাম জুড়ে দেওয়া ঠিক হয়নি। মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডকে এ নিয়ে বিতর্কে অংশগ্রহণ করারও ডাক দিয়েছেন নাইডু। ‘তিন তালাক’ ইস্যুকে অভিন্ন দেওয়ানি আইনের সঙ্গে মিলিয়ে ফেলাও ঠিক নয় মন্তব্য করেছেন বেঙ্কাইয়া। — এবেলা