হার মেনে নিতে না পারায় বাংলাদেশকে দুষছে ইংল্যান্ড!

বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের হার যেন মেনেই নিতে পারছেন না ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের সদস্যরা। রোববার রাতে খেলার মাঠ থেকেই নিজেদের আক্রমণাত্মক চরিত্র প্রকাশ করতে শুরু করেন দলটির খেলোয়াড়রা।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে খেলা চলাকালে। ৫৭ রানে আউট হওয়ার পর বাংলাদেশ দলের সদস্যদের উল্লাস মেনে নিতে পারেননি ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। খেলার মাঠেই রীতিমতো তেড়েফুঁড়ে ওঠেন তিনি। শেষ পর্যন্ত দুই আম্পায়ারকে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে হয়।

বিষয়টি এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। ৩৪ রানের জয় নিয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা, তখন ঘটে আরেক ঘটনা। নিয়ম অনুযায়ী তখন বাংলাদেশ দলের সদস্যদের সঙ্গে সারি বেঁধে করমর্দন করছিলেন ইংল্যান্ড দলের সদস্যরা।

মাশরাফির সঙ্গে করমর্দন শেষে তামিম ইকবালের সঙ্গে করমর্দনের সময় ইংল্যান্ড দলের সদস্য জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ লেগে যায়। আর এ সময় সেখানে এসে তামিমের সঙ্গে দুর্ব্যবহার শুরু করেন ইংল্যান্ডের আরেক সদস্য বেন স্টোকস।

এ সম্পর্কে ব্রিটেনের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া বক্তব্যে ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার দাবি করেন, ‘তামিম করমর্দন করতে চাননি তাই রেগে গিয়েছিলেন বেন।’

বাটলার আরো বলেন, ‘কিছু একটা তো ঘটেছিলই। কোনো কারণ ছাড়া তো আর এমন প্রতিক্রিয়া দেখাননি বেন।’

যদিও ওই সময়ের ভিডিওতে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বাভাবিকভাবেই সতীর্থদের সঙ্গে সার বেধে হেঁটে আসছিলেন তামিম। জনি বেয়ারস্টোর সঙ্গে করমর্দন শেষে হাত ছাড়িয়ে নেওয়ার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর সঙ্গে কাঁধ লেগে যায় তামিমের। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে আসেন বেন স্টোকস। তামিমের বুকে ধাক্কা দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। তারপর শুরু হয় দুই পক্ষের কথাকাটাকাটি। পরে সাকিব আল হাসান এসে বিষয়টি মিটমাট করেন।

বাটলারের বক্তব্যের উল্টো কথা বলেছেন বেন স্টোকস নিজেই। নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাতের জয়ের জন্য বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন। তারা আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। তবে আমার দলের কোনো সদস্যকে হাত মেলানোর সময় কাঁধ দিয়ে ধাক্কা দেওয়া হলে সেটা আমি কিছুতেই মেনে নেব না।’

রোববার রাতে ম্যাচের ২৮তম ওভারে পেসার তাসকিন আহমেদের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে আউট হয়ে যান ৫৭ রান করা বাটলার। আম্পায়ার সাড়া দেননি। মাশরাফি রিভিউ নেন। রিভিউতে ধরা পড়ে বলটি ব্যাট স্পর্শ না করেই প্যাডে আঘাত করেছে। আর বাটলারের পা ছিল স্ট্যাম্প বরাবর। রিভিউতে আউট আসার পরই উল্লাসে ফেটে পড়ে বাংলাদেশ দল। ইংল্যান্ড তখন ৭ উইকেটে ১২৩।

তাসকিনের উল্লাস বরাবরই ব্যাপক। সঙ্গে মাশরাফি-সাকিব-মুশফিকরাও মেতে ওঠেন প্রচণ্ড উল্লাসে। দাঁড়িয়ে তাই দেখছিলেন বাটলার। একপর্যায়ে তেড়েফুঁড়ে যান মাহমুদুল্লাহর দিকে। মেজাজ কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলেন না ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। পরে বাটলারকে বাধা দেন আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা সৈকত। তাঁকে বুঝিয়ে ঠান্ডা মাথায় প্যাভিলিয়নে পাঠিয়ে দেন।

এই প্রতিক্রিয়ার কারণ জানতে চাইলে জস বাটলার বলেন, ‘আসলে তারা যেভাবে উদযাপন করছিলেন সেটা আমাকে হতাশ করেছিল। ওই সময় একটি উইকেটের পতনে তাঁরা খুশি হয়েছিলেন সেটা ঠিক কিন্তু কারো মুখের ওপর দৌড়ে উল্লাস করার তো কোনো প্রয়োজন ছিল না। ওই সময় আউট হওয়ায় আমিও খুব হতাশ হয়েছিলাম সে কারণেই ঘটনাটি ঘটেছে।’