সুনামগঞ্জে মৃত্যুর দু’দিন পেরিয়ে গেলেও দু’মাসের কন্যা শিশুর লাশ দাফন করতে দেয়া হচ্ছে না!

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ: শশুর বাড়ির লোকজন নিজেদের আখের গোছাতে গিয়ে শিশু কন্যার লাশ নিয়েও এবার বাণিজ্যে নেমেছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উওর ইউনিয়নের বানিয়াগাঁও গ্রামে দু’মাস বয়সী এক শিশু কন্যা শুক্রবার ভোররাতে স্বাভাবিক মৃত্যু হলেও শনিবার রাত ১১ টায় এ রিপোর্ট লিখা পর্য্যন্ত ওই শিশু কন্যার লাশ দাফন করতে দেয়নি প্রভাবশালী শশুর বাড়ির লোকজন।

নিহত শিশু কন্যার নাম মাহিরা বেগম। সে উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের আবদুর নুরের ছেলে হুমায়ুন কবীর ও আলপিনা বেগমের গর্ভজাত সন্তান। নিহত শিশুর পরিবার ও স্থানীয় গ্রামবাসী সুত্রে শনিবার রাতে জানা যায়, উপজেলার বানিয়াগাঁও গ্রামের কাজীম উদ্দিনের মেয়ে আলপিনা বেগম স্বামীর বাড়ির লোকজনের সাথে বণিবনা না হওয়ায় ৪০ দিনের কন্যা শিশুকে স্বামী হুমায়ুনের বাড়িতে রেখে পার্শ্ববর্তী বাপের বাড়ি চলে যায়। নবজাতক ওই শিশু কন্যাকে মা ছাড়াই পরিবারের লোকজন আগলে রেখেছিলেন। কিন্তু বিধিবাম শুক্রবার ভোররাতে ওই শিশু কন্যা স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যুবরণ করে।

এরপর শশুর বাড়ির লোকজনকে জানিয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় নামাজে জানাযা শেষে বাড়ির সামনে কবরে নামানো হয় লাশ। এক পর্যায়ে শশুর কাজীম উদ্দিন তার সহোদর ভাই প্রভাবশালী কাইয়ুম বাঁধা দেন লাশ দাফনে। বাধ্য হয়ে লাশ ফের বাড়িতে উঠিয়ে আনা হয়। হুমায়ুন কবীর শনিবার রাত সাড়ে ১০ টায় কান্নাজড়িত কন্ঠে জানায়, শশুর বাড়ির লোকজন লাশ দাফন করতে হলে স্ত্রীর নামে তার নীজ বাড়ি. ১ কেয়ার জমির দলিল ও আরো ৫ কেয়ার জমি কিনে দিয়ে লাশ দাফন করতে হবে বলে আলটিমেটাম দেয় । অন্যথায় ওই শিশু কন্যাকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে থানা পুলিশে মামলা করারও হুমকি দেয়া হয় হুমায়ুনের পরিবারের লোকজনকে।

এদিকে শিশু কন্যার মৃত্যুও পর পাষাণী মা আলপিনা কিংবা তার বাবার বাড়ির লোকজনও লাশ পর্য্যন্ত দেখতে আসেনি। বিষয়টি নিয়ে শুনবার বাদ জোহর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরুল আলম পরিষদ কার্যালয়ে সুরাহার জন্য বসলেও শশুর বাড়ির লোকজন তাদের কথায় অনঢ় থাকায় শেষ পর্য্যন্ত দরিদ্র হুমায়ুনের বাড়িতেই পড়ে ছিলো শিশু কন্যার লাশ!

এ ব্যাপারে কাইয়ুমের সাথে শনিবার রাত ১১টায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লাশ দাফনে বাঁধা দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমার ভাতিজি আলপিনা বলছে যে তার স্বামী শিশু কন্যাকে মেরে ফেলছে, এই জন্য লাশ দাফন করতে দেইনি। বাড়ি, জমি চাওয়ার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, আমার ভাতিজীকে খুব অত্যাচার করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিলো।

শিশু কন্যার মুত্যুর পর আলপিনাকে নিয়ে পরিবারের লোকজন লাশ দেখতে গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমরা কেউ যাইনি। তাহলে কেমন করে বুঝলেন বা জানতে পারলেন শিশু কন্যাকে তার পিতাই মেরে ফেলছে এমন প্রশ্নের কোন সদুক্তরও তিনি দিতে পারেননি।

ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব খসরুল আলম বলেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম বিষয়টি সুরাহা করার জন্য কিন্তু কাজীম ও তার পরিবারের লোকজন থানা পুলিশের কথা বলায় আমি সড়ে এসেছি। শিশুটির স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বলেই গ্রামবাসী সুত্রে জানতে পেরেছি। লাশ দাফন করতে না দেয়ার বিষয়টি বড়ই মর্মান্তিক ও অমানবিক কাজ করা হয়েছে।

থানার ওসির দায়িত্বে থাকা এসআই নুরুল ইসলাম শনিবার রাতে এ প্রতিবেদকে বলেন বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি, খোঁজ নিয়ে দেখছি কী করা যায়। এদিকে মধ্যরাত ১২টায় সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় শেষ পর্য্যন্ত লাশ দাফনের বিষয়টি কোন রকম সুরাহাই হয়নি।