সিরিজ টাইগারদের হাতের মুঠোয়

মিরপুরে সিরিজ নির্ধারণী ম্যচে আফগানিস্তানকে ইতিমধ্যেই জয়ের ধারা থেকে ছিটকে দিয়েছে টাইগার বোলাররা। ২৮ ওভার শেষে ৭ উইকেট হারিয়ে তাদের স্কোর ১০২। জয়ের জন্য দরকার আরো ১৭৮।

টাইগার বোলাদের দাপটে ম্যাচ থেকে ইতিমধ্যেই ছিটকে গেছে সফকারীরা। এখন লেট অর্ডারা যা করছে তাতে শুধু ব্যবধানই কমতে পারে।

২৮০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মোশারফ হোসেন আর তাসকিনের বোলিং তোপে এক প্রকার উড়েই গেছে স্তানিকজাইয়ের দল। মোশারফ এখন পর্যন্ত ৩টি ও তাসকিন ২টি উইকেট নিয়েছেন।

মাশরাফির শিকার হয়ে ০ রানে বিদায় নিয়েছিলেন সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ শেহজাদ। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে নওরোজ মঙ্গল ও রহমত শাহর ৪৭ রানের পার্টনারশিপ। এই জুটি ভাঙার পর আফগান ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ছেলে খেলায় মেতে ওঠেন বাংলাদেশের বোলাররা।

বাংলাদেশের ইনিংস
জয়ের জন্য সফরকারী আফগানিস্তানকে ২৮০ রানের টার্গেট দিয়েছে বাংলাদেশ। আজ মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওডিআই সিরিজের তৃতীয় ও অঘোষিত ফাইনাল ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান সংগ্রহ করে।

ওপেনার তামিম ইকবাল স্বাগতিক দলের হয়ে সেঞ্চুরিসহ সর্বোচ্চ ১১৮ রান ও সাব্বির রহমান ৬৫ রান সংগ্রহ করেন। স্লগ ওভারে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ করেন অপরাজিত ৩২ রান। আফগানিস্তানের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবী, মিরওয়াইস আশরাফ ও রাশিদ খান।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারেই ব্যক্তিগত ১১ রানে সাজ ঘরে ফেরেন নিয়মিত ব্যর্থতার মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকা সৌম্য সরকার। মিরওয়াইস আশরাফের বলে মো. শেহজাদের তালুবন্দী হয়ে তিনি যখন সাজ ঘরে ফেরেন তখন বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ২৩ রান।

সৌম্য ফিরে যাওয়ায় সাব্বির রহমানকে এগিয়ে দিয়ে ওয়ানডাউনে আনা হয়। ওয়ানডাউনে এসেই তামিমের সঙ্গে নিজেকে মেলে ধরেন সাব্বির। তামিমের সঙ্গে ১৪০ রানের জুটি গড়েন তিনি।

তুলে নেন নিজের তৃতীয় অর্ধশতক। ৭৮ বলে ৬৫ রান করে আউট হন সাব্বির। ৩টি ছয় ও ৬টি চারে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি। জুটি ভেঙ্গে সাব্বির ফিরলেও প্রথম ম্যাচে সেঞ্চুরির কাছ থেকে ফিরে আসা তামিম আর ভুল পথে মাড়াননি। ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরিটি তুলে নেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১১৬ বলে ১১৮ রানে আউট হন তামিম। ১১টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ইনিংসটি।

তামিম ও সাব্বিরের ভালো জুটির কারণে একসময় মনে হয়েছিল ৩শ’ বা তারও বেশি রান হবে স্বাগতিকদের। এই দুই বড় সংগ্রাহকের বিদায়ের পর বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা। ছন্দপতন ঘটে ধারাবাহিক রান সংগ্রহে।

তামিমের বিদায়ের পর উইকেটে থিতু হতে পারেননি অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তিনি ৩৫ বলে মাত্র ১৭ রান করে আউট হন। এরপর পরপর সাজ ঘরে ফেরেন মুশফিক ও মোসাদ্দেক। মুশফিক ১২ ও মোসাদ্দেক ৪ রান করেন। প্রথম বলে ৪ মেরে ভালো কিছু করারই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মোসাদ্দেক। কিন্তু রশিদ খানের বলে স্টাম্পিং হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন এ অলরাউন্ডার।

শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে ২৭৯ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় টাইগাররা। মাত্র ২২ বলে ৩২ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস খেলেন রিয়াদ। মূলত তার ওই ব্যাটিংয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত আফগানদের চ্যালেঞ্জিং টার্গেট ছুড়ে দিতে পেরেছে বাংলাদেশ। — নয়া দিগন্ত অনলাইন