সালমান শাহ্‌কে নিয়ে এখনো যে আফসোস পপির

বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নব্বইয়ের দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সুদর্শন নায়কের নাম সালমান শাহ্‌। সারা দেশে অনেকের মতো তার ভক্ত ছিলেন চিত্রনায়িকা পপি। মূলত তার সঙ্গে অভিনয় করার জন্যই চলচ্চিত্রে আসা এ নায়িকার। এমনকি প্রয়াত এই নায়কের সঙ্গে নয়টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধও হয়েছিলেন তিনি।

আজ এই নায়কের জন্মদিন। তার সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে পপি বলেন, সালমান শাহ্‌ অনেকের ড্রিম বয় ছিল। চলচ্চিত্রে আমার আসার কথা ছিল না। তবে এক প্রযোজক যখন সালমান শাহর সঙ্গে ছবির প্রস্তাব দিলেন তখন আর না করতে পারিনি। তবে আফসোস সালমান তার সঙ্গে নয়টি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হলেও তিনি অকালে চলে যাবার কারণে পরে ছবিগুলোতে কাজ করা হয়নি।

তিনি আরো বলেন, আমার এখনও মনে আছে সালমান শাহ্‌ সেপ্টেম্বরের ৬ তারিখ মারা গেলেন আর আমাদের শুটিং শুরু করার কথা ছিল ১৫ই সেপ্টেম্বর। ছবিগুলোতে কেমন পোশাক ও সাজগোজ হবে তা নিয়ে একাধিকবার বসাও হয়েছিল। কিন্তু কাজ না করার অপূর্ণতা রয়ে গেল। সালমান শাহ্‌কে ভুলতে পারবো না।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে ‘কুলি’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে পপির। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত এই ছবিতে তার অভিনয় নৈপুণ্য সবার চোখে পড়ে। প্রথম ছবিতেই বাজিমাত করেন তিনি। এরপর পপি ব্যস্ত নায়িকা হয়ে যান। শাবনূর ও মৌসুমীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে অভিনয় করেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে অভিনয় করেছেন। কিন্তু গত প্রায় বছর সাতেক বড় পর্দায় তিনি একেবারেই অনিয়মিত।

‘কারাগার’ (২০০৩) ছবিতে অভিনয় করে প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান পপি। এরপর তিনি নার্গিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ (২০০৮) আর সৈয়দ অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’ (২০০৯) ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

দীর্ঘদিন পর পপি অভিনীত সবশেষ নার্গিস আক্তারের ‘পৌষ মাসের পিরিত’ ছবিটি চলতি বছরের ২রা সেপ্টেম্বর মুক্তি পায়। দুই বাংলার বিখ্যাত ঔপন্যাসিক নরেন্দ্রনাথ মিত্রের ‘রস’ গল্প অবলম্বনে নির্মিত এ ছবিতে পপির বিপরীতে অভিনয় করেছেন টনি ডায়েস। — এমজমিন