শুধু ওকে ব্লেম করে লাভ নেই’

জয়ের ধারায় থাকলেও সহজ প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আগের ম্যাচে হারতে হারতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আর বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে টাইগার বাহিনী । ব্যাটসম্যান নয়, বুধবার ‘উইকেটরক্ষক’ মুশফিকুর রহিমের উপর নাখোশ সবাই। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দু’দফা ‘কট বিহাইন্ড’ মিস করার মূল্যটা হার দিয়েই দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। অবশ্য শুধু মুশফিককে দোষ দিতে চান না মাশরাফি বিন মুর্তজা।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনের বড় একটা অংশ জুড়েই ছিলো মুশফিকুর রহিম। বলা যায়, এ নিয়ে মাশরাফিকে একরকম চেপে ধরেছিলো গণমাধ্যম। তবে, মাশরাফি বারবারই বলেছেন সবকিছুর পিছনে একা মুশফিকুর রহিমকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। ম্যাচের অনেকেই তাদের সেরাটা দিতে পারেনি বলে মন্তব্য দেশের সফলতম এই অধিনায়কের। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাই মাশরাফি বললেন, ‘এই একটা ম্যাচের জন্য যদি মুশফিককে দোষ দেই তাহলে খুব কঠিন হয়ে যাবে।

ওই স্ট্যাম্পিয়ের কথা বলছেন। যদি ওটা হত তাহলে সুযোগ থাকতো। এর থেকে ভালো ক্যাচ কঠিন পরিস্থিতি মুশফিক নিয়েছে। এক তরফা বলা ঠিক হবে না। আমি মনে করি না যে খেলা মুশফিক পর্যন্ত এসেই আমরা হেরে গেছি। খেলা আমরা আগে ভালো খেলতে পারতাম। আমরা সবাই প্রত্যাশা করেছিলাম এ পর্যন্ত খেলা না আসাই স্বাভাবিক। ভালো খেললে এ পর্যন্ত আসত না। একা ওকে ব্লেম করে লাভ নেই।

’ প্রশ্ন উঠেছে উইকেটকিপিংয়ে মুশফিকের মনযোগের ঘাটতি নিয়েও। মাশরাফি অবশ্য মুশফিকের পক্ষেই গাইলেন। মুশফিকের প্রস্তুতি নিয়ে কোনরকম সন্দেহ নেই বলে মনে করছেন মাশরাফি। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি যতোটুকু দেখেছি, ও সবার আগে এসে ব্যাটিং করে আবার কিপিং করে। সমানভাবে ও অনুশীলন করে। আমি কখনো দেখিনি যে কিপিংয়ে ওর মনযোগের ঘাটতি আছে। দূর্ভাগ্যবশত ও এবং আমরা যেটা আশা করিনি সেটা হচ্ছে। এটা কোনো কোনো ক্রিকেটারের হয়ে  থাকে।

আগের ম্যাচেও কঠিন মুহূর্ত থেকে ম্যাচ বের করে এনেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে হার। আগের ম্যাচেই মাশরাফি বলেছিলেন দীর্ঘ বিরতিই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো বাংলাদেশের। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে এমন কিছু বললেন না। স্বীকার করে নিলেন, হারের পিছনে কোনরকম অজুহাত দিতে চান না। তবে ভেজা উইকেট আর সময়মত পরিকল্পনা কাজে লাগাতে না পারার ব্যাপারটিকে সামনে নিয়ে আসলেন। বললেন, ‘২০৮ করলেও আমরা শুরুতে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে আমরা যদি দ্রুত দুইটি উইকেট নিতে পারি তাহলে ম্যাচে ফিরতে পারবো।

উইকেটে কিছুটা শিশির ছিলো। পরিকল্পনামত আমরা ওদের চারটি উইকেট ফেলেও দিয়েছিলাম। তারপরও আমরা ব্রেক থ্রু পেয়েছি সেটা অনেক আগে দরকার ছিল। ১০,১৫ কিংবা ২০ রান আগে উেইকেটটা আসলে ভালো হত। শেষ পর্যন্ত আমাদের পরকল্পনার শতভাগ আমরা বাস্তবায়ন করতে পারিনি।’

তবে এসব নিয়ে আপাতত ভাবনা বন্ধ রাখছেন অধিনায়ক। সামনের একটি ম্যাচ মানে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখছেন। দ্বিতীয় ম্যাচের ভুলগুলো শেষ ম্যাচে শুধরে আবারো স্বরূপে ফেরার ইঙ্গিতও দিয়ে গেলেন। -shadhinbangla