শীতে কাঁপছে উত্তরের জনপদ

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ‘মাঘের শীতে বাঘ কান্দে’- এ প্রবাদের প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছে লালমনিরহাটসহ গোটা উওরাঞ্চরে। এখানে নতুন করে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কাহিল হয়ে পড়েছে এলাকার মানুষ।

বিশেষ করে শ্রমজীবীসহ তিস্তাপাড়ের মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে। প্রচণ্ড শীতের কারণে বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় হাজার হাজার ক্ষেতমজুর পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। শীতের দাপটে হাট-বাজার, রাস্তাঘাট ফাঁকা থাকায় বিপর্যস্ত হয় পড়েছে গোটা অঞ্চল।হিমালয়ের চারদিক দিয়ে অক্টোপাসের মতো ধেয়ে আসছে শীতের সাঁড়াশি আক্রমণ।

পারদ নিম্নমুখী হওয়ায় রীতিমত শৈত্যপ্রবাহ দিন দিন বেড়েই চলছে, আর থরথরে কাঁপছে উত্তরের মানুষজন। শীতের এই দাপটে আছে আকাশ মেঘাছন্ন হয়ে যাওয়ায় উত্তরী হাওয়ার অবাধ গতিতে মানুষের শরীরে হাড় কাঁপানো কাঁপুনী ধরেছে।

দেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা শহর তেঁতুলিয়া হলেও হিমালয়ের পাদদেশ থেকে লালমনিরহাট জেলাও বেশি দূরে নয়। তাই দেশের দক্ষিণে শীতের প্রকোপ আসতে কিছুকাল দেরি হলেও লালমনিরহাট জেলায় শীতের ছোঁবল একমাস পূর্বে থেকেই পড়ে গেছে। শিশুসহ বয়স্কদের দূরাবস্থা চোখে পড়ার মতো। আরো আছে গরীব-দুস্থ মানুষজন।

হিমালয় কাছাকাছি হওয়ায় সন্ধ্যা না হতেই কুয়াশা বুড়ি এসে ঢেঁকে দেয় চারপাশ। পথঘাটে চলাচলের সমস্যা দেখা দেয়। বিপাকে পড়ে যায় হাটুরে মানুষজন। গরম কাপড় ছাড়া চলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সমস্যায় পড়ে সকালের দিকে স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।গ্রাম-গঞ্জে আগুন তাপানোর মেলা বসে যায় বাড়ির উঠানে উঠানে। যাদের সামর্থ্য আছে তারা লেপ তোষকের বন্দোবস্ত করে। আর যাদের সামর্থ্য নেই তারা পথ চেয়ে থাকে দাতব্য সংস্থার দিকে।

কখন একটি কম্বল দেবে।শনিবার সকাল থেকে দেখাগেছে, কালীগঞ্জ সহ বাকি চার উপজেলার আশপাশের এলাকার ফুটপাথের দোকানগুলোতে মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। নিম্ন আয়ের থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ ফুটপাথের গরম কাপড় কিনছেন। এ অঞ্চলের মানুষ বলছেন, একযোগে এভাবে শীত পড়ার ঘটনা খুবই কম। যা অতীতে তেমনটা দেখা যায়নি।

ফুটপাতার দোকানদার আব্দুল জলিল জানালেন, গত কয়েকদিন থেকে বিক্রি একেবারেই কমে গিয়েছিল, আজ আবার বেড়ে গেছে।সূত্রমতে,আরো শীতবস্ত্র চেয়ে ঢাকায় ফ্যাক্সবার্তা পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসকগণ। এর মধ্যে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মোঃ আলাল উদ্দিন খান কম্বলের চাহিদাপত্র পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন।

তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর চর এলাকায় দেখা যায়, আগুনের কুণ্ডলি জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করার চেষ্টা করছে অসহায় পরিবারগুলো। শীতবস্ত্রের অভাবে বিপাকে অসহায় জনগোষ্ঠী। বেশি বিপাকে পড়েছে সহায় সম্বলহীন হতদরিদ্র পরিবারগুলো। পুরনো গরম কাপড়ের দোকানে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। আজও সারাদিন ঘন কুয়াশায় ঢাকা আছে প্রকৃতি।পশ্চিমা বাতাসে প্রচন্ড ঠাণ্ডায় মানুষজন ঘরের বাইরে বের হতে পারছে না, রাস্তা-ঘাট ও হাট-বাজার অনেকটাই ফাঁকা।

মাঠেও কাজ করার সাহস পাচ্ছেনা কৃষি শ্রমিকরা।গত শনিবার থেকে এ অঞ্চলে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে রংপুর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, যা আরো কয়েকদিন শীত স্থায়ী হতে পারে।শীতের তীব্রতা বাড়ায় শিশুরা বিভিন্ন ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের চিকিৎসায় তৎপর রয়েছে চিকিৎসকরা।