Friday, July 19, 2024

শিক্ষক শামসুল আলমের বাগানে ১১৯ প্রজাতির ফল

শিক্ষক শামসুল আলম সাত একর জমিতে চাষ করেছেন দেশি-বিদেশি প্রজাতি মিলে ১১৯ ধরনের ফলের গাছ। তার এই সফলতা দেখে স্থানীয় অনেকেই অনুপ্রাণিত হচ্ছেন এমন ফল বাগান করতে। স্কুল সময় বাদে গড়ে তোলা তার ফল বাগান দেখতে জেলাসহ অন্যান্য জেলার মানুষও আসছেন এখানে। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের শিক্ষক শামসুল আলম। তিনি ঘাটাইল এস.ই বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ফল জাতীয় খাদ্যে বিষাক্ত রাসায়নিক মেশানোর এ যুগে তিনি স্বপ্ন দেখতেন নিরাপদ ফল উৎপাদনের। যা বাস্তব রূপ দিয়েছেন তিনি।

শামসুল আলম জানান, কৃষি বিষয়ক শিক্ষক হওয়ায় কৃষি কাজের প্রতি তার আগ্রহ ছিল অনেক আগে থেকেই। শুরুটা অল্প পরিসরে হলেও, এখন তা রূপ নিয়েছে পরিকল্পিত ও বাণিজ্যিক ভাবে। ৭ একর জমিতে ১১৯ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে। কোনো গাছে শোভা পাচ্ছে ফুল আবার কোনো গাছে থোকায় থোকায় ধরে আছে দেশি-বিদেশি পরিপক্ক ফল ও ফলের গুটি। ফল গাছ কেনা থেকে শুরু করে বাগানে তাঁর খরচ হয়েছে প্রায় ৭০ লাখ টাকা।

দেশীয় সকল ফল ছাড়াও বিদেশী ত্বীনফল, কালো আংগুর, আপেল, রামবুটান, নাশপাতি, এগফ্রুট, ডুরিয়ান, ম্যাংগোস্টিন, কফি, মিরাক্কেল, সৌদি খেজুর, ভিয়েতনামী ওপি নারিকেল, লটকন, ড্রাগন, থাই বাতাবী লেবু, চায়না কমলা, চায়না লিচু, চায়না পেয়ারা, থাই পেয়ারা, লকেট, সুদানী শরিফা, জাপটিকাবা, আলু বোখারা, কিং আম, ব্যানানা ম্যাংগো, কিউজাই আম, অ্যামেরিকান সুন্দরী আমসহ আরও নানা ধরনের ফলের চাষ হচ্ছে বাগানটিতে। গাছে নেই কোনো রাসায়নিক প্রয়োগ। পোকা দমনে ব্যবহার হয় জৈব বালাই নাশক। সারা বছর তার বাগানে দেশি-বিদেশি ৩০-৩৫ ধরনের ফল পাওয়া যায়।

শিক্ষক শামসুল আলম জানান, এ বছর বিভিন্ন জাতের ফল বিক্রি করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাভ হবে। এরই মধ্যে কমলা ৬০ হাজার টাকা, মাল্টা ৫০ হাজার, আম ৩৫ হাজার এবং লটকন বিক্রি করেছেন দুই লাখ টাকা। বাজারে নাকি এ ধরনের ফলের চাহিদাও রয়েছে অনেক। এ বছর লটকনের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাঁর বাগানে লটকনের গাছ রয়েছে আড়াই হাজার। শতকরা ৮০ ভাগ গাছে লটকনের ফলন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত বিদ্যার পাশাপাশি হাতে কলমে শিক্ষার বাস্তব উপকরণ হচ্ছে তার এ বাগান। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলা বাগানে বছরের নির্দিষ্ট একটা সময় শিক্ষার্থীদের নিয়ে বাগান পরিদর্শন করান তিনি। গাছ লাগান থেকে শুরু করে পরিচর্চা কিভাবে করতে হয় তা হাতে কলমে শিক্ষা দেন তিনি।

শামসুল আলম জানান, শুরুতে স্থানীয় লোকজন বলাবলি করতেন, মাস্টার কি কাজ শুরু করলেন, বড় ধরনের ধরা খাবেন মাস্টার। আর আজ সেই মানুষগুলোই এখন বাগান করতে চারার অর্ডার করছেন। মূলত ভিন দেশি ফল চাষ করে দেশে তার অভাব পূরণ করা। আর বিভিন্ন ধরনের কলমের মাধ্যমে এ গাছ গুলোর বংশবিস্তার ঘটিয়ে অন্যান্য চাষিদের মাঝে তা ছড়িয়ে দেওয়া।

ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিলশাদ জাহান বলেন, শামসুল আলম একজন শিক্ষক ও মিশ্র ফলচাষি। নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে তিনি বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। তার এই কাজে উপজেলা কৃষি অফিস প্রতিনিয়ত পরামর্শ ও কারিগরী সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

এই সম্পর্কিত আরও খবর

সর্বশেষ আপডেট