যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গণ, শাহজাদপুরে ৬ গ্রাম বিলীন

সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে: গত কয়েক দিন ধরে যমুনা নদীতে বন্যার পানি কমতে থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতুনি ইউনিয়নের ৬টি গ্রামে ভয়াবহ ভাঙ্গণের তান্ডব শুরু হয়েছে। এতে কম পক্ষে ৬ টি গ্রাম বিলীন হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে।

এ গ্রাম গুলি হল,সোনাতুনি,মাকড়া,বারপাখিয়া,বানতিয়ার,বড়চানতারা,ছোটচানতারা। এ সব গ্রামের ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও ২ শতাধিক ইরি স্কীমের ২ হাজার বিঘা জমি ইতিমধ্যেই যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙ্গনের তান্ডবে বিলীন হয়ে গেছে। এতে এ সব গ্রামের অন্তত ২ হাজার মানুষ নতুন করে গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

বানতিয়ার গ্রামের আবুল কাশেম, শিরিন আক্তার,কুরমান আলী, মালেকা খাতুন, আনোয়ারা বেগম, ছোটচানতারা গ্রামের লিপি খাতুন, লালবানু,কুলছুম, সুফিয়া,ফুলমালা, সানোয়ার হোসেন,সোনাতুনি গ্রামের রাবেয়া খাতুন, হানিফ আলী, আয়শা বেগম ও বুলবুলি জানান, এ বছর বন্যার পানি বাড়ার সাথে সাথে এ সব গ্রামে যমুনা নদীর ভাঙ্গণের তান্ডবও ভয়াবহ রূপ নেয়। দেখতে দেখতে চোখের সামনে বাড়িঘর, ভিটামাটি, জমিজমাসহ সব কিছু মুহুর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়। এতে ঐ সব এলাকার অসহায় মানুষ গুলো সর্বস্ব খুইয়ে সর্বশান্ত ও নিঃস্ব হয়ে গেছে।

এখন তাদের জীবন জীবিকা চালানোর মত কোন ব্যবস্থা না থাকায় তারা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবন যাপন করছে। যমুনা নদী থেকে মৎস্য আহরণ ও চরের কাশিয়া-ছোন সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে যে সামান্য অর্থ জোটে তা দিয়ে তাদের এক বেলার আহারও জোটেনা। এর উপরে এদের মাড়ি-মড়ক লেগেই আছে।

ফলে রোগে শোকে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তবে এলাকাবাসিরা অভিযোগ করে বলেন, সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের ব্যাপক অনিয়ম-দূর্ণীতির কারণে গত ২ মাসের মধ্যেও টিআর,জিআর,ভিজিএফ এর চাল,নগদ টাকা বা খাদ্য সমগ্রীর কোন কিছুই তারা হাতে পায়নি। সরকারি বরাদ্দ যা এসেছে তার অধিকাংশই চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ব্যাপারে সোনাতুনি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম ফজলু অসুস্থ্য থাকায় তার পক্ষে তার ভাই শামছুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বন্যা ও ভাঙ্গণে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ৪ দফায় ১৭/১৮ মেট্রিক টন জিআর এর চাল বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে কোন অনিয়ম- দূর্ণীতি করা হয়নি।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প অফিসার জিন্দার আলী বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনিয় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।