ম্যাচ হারার কারন জানালেন মাশরাফি

ব্যাট-বলের লড়াই যতটা, তার চেয়ে বেশি পার্থক্য গড়ে ছিল শিশির! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে হারের জন্য মাশরাফি বিন মুর্তজা দায় দিচ্ছে শিশিরকেই। নিজেদের ভাবছেন দুর্ভাগা।

বুধবার জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট দুই ইনিংসে দেখা গেল দুই রূপে। প্রথম ইনিংসে উইকেটে স্পিন ধরল দারুণ, গ্রিপ করল বল, মন্থর উইকেটে বল আসল থেমে। ব্যাটসম্যানদের কাজটা হয়ে উঠল কঠিন।

দ্বিতীয় ইনিংসে বল স্কিড করে ব্যাটে আসলো দারুণ, শট খেলা হয়ে উঠল সহজ। বল গ্রিপ-টার্ন করল না।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি জানালেন, শিশিরের কারণেই পুরো উল্টে গেছে উইকেট।

“আজকে যে উইকেট ছিল, পরে শিশির পড়ে স্পিনাররা আর টার্ন পায়নি। খুব সহজ হয়ে গিয়েছিল ওদের কাজ, যেটা খুব কঠিন হওয়ার কথা ছিল। যে পরিমাণ শিশির পড়েছে, এর অর্ধেকও পড়লে আমি নিশ্চিত ২৭৮ রান তাড়ায় ম্যাচটি

পুরোপুরি অন্যরকম হতে পারত।”

এই স্টেডিয়ামে ২২৫ রানের বেশি তাড়া করে এর আগে কখনোই জেতেনি কোনো দল। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩৯ রান ছিল সর্বোচ্চ। অথচ এই ম্যাচে ইংল্যান্ড ২৭৭ তাড়া করল অনায়াসেই।

ইনিংস বিরতিতে রানটাকে কিন্তু জয়ের জন্য যথেষ্টই মনে হয়েছিল বাংলাদেশ দলের।

“ইনিংস বিরতিতে মনে হচ্ছিলো ২৭৭ যথেষ্টরও বেশি। মনে হচ্ছিলো, এই উইকেটে এটা তিনশর বেশি রানের মতো। আদিল রশিদ তো বটেই, এমনকি মইনও যে পরিমাণ টার্ন পাচ্ছিলো এবং আমাদের যত স্পিনার ছিল, আমাদের জন্য পারফেক্ট ম্যাচ হতে পারত, যদি শিশির না থাকত।”

উইকেটের আচরণ দুই ইনিংসে এভাবে নাটকীয়ভাবে বদলে যাওয়ায় মাশরাফির মনে পড়ছে গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এই মাঠেই শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি। দক্ষিণ আফ্রিকার ১৬৮ রান তাড়ায় বাংলাদেশ জিতে গিয়েছিল ২৬.১ ওভারেই।

“গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি, আমরা দারুণ টার্ন পেয়েছিলাম শুরুতে, এরপর বল দারুণ ব্যাটে এসেছে। ইংল্যান্ড ভালো খেলেছে, ওদের অভিনন্দন। তবে আমরা আনলাকি ছিলাম যে আমাদের স্পিনাররা ওদের স্পিনারদের মত কন্ডিশন পায়নি।”

বাংলাদেশের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান চল্লিশ ছাড়িয়েও করতে পারেননি অর্ধশতক। এক সময় রান ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে বলেই মনে হচ্ছিলো। সেটা মানলেন মাশরাফিও। তবে ম্যাচে পার্থক্য মনে করছেন সেই অতিরিক্তি শিশির পড়াকেই।

“একটা সুযোগ ছিল ৩০০ ছাড়ানো স্কোর গড়ার। তার পরও পার্থক্যটা স্পিনেই গড়তে হতো। আমাদের স্পিনাররা টার্ন পায়নি, পেসারদের দিয়ে কাজ চালাতে হয়েছে।”

“আমাদের কাছে সিম্পলি মনে হচ্ছে, ওদের স্পিনাররা ১১০ ভাগ সুযোগ নিতে পেরেছে উইকেটের, আমাদের স্পিনাররা সুযোগ পেয়েছে ১০ ভাগ। পার্থক্যটা এখানেই হয়ে গেছে। — বিডিনিউজ