মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে নতুন এক কৌতূহল!

‘মুশফিকুর রহিম’ নামটা কাল সারা দিনই রহস্য হয়ে থাকল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। এ রকম একাধিক লোক পাওয়া গেল যাঁরা শুনেছেন, মুশফিককে স্টেডিয়ামে দেখা গেছে। কিন্তু এমন একজনও পাওয়া গেল না যিনি স্বচক্ষে মুশফিককে সেখানে দেখেছেন। মুশফিককে নিয়ে এত কৌতূহল কেন? ঘটনা আসলে পরশু নজিবুল্লাহ জাদরানের ওই স্টাম্পিং মিস করা নিয়েই।

ম্যাচের ক্রান্তিকালে ওরকম একটা মিসজনিত ‘আহারে..আহারে’ শব্দ কালও শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে প্রতিধ্বনিত হলো। মুশফিক স্টাম্পিংটা করতে পারলে হয়তো বাংলাদেশ জিতত। সে জন্যই তাঁকে নিয়ে সবার আগ্রহ। মুশফিক কি মাঠে এলেন? এলে কি প্র্যাকটিস করলেন? ব্যাটিং নাকি উইকেট কিপিং? নিয়মিত যাঁরা বাংলাদেশ দলের অনুশীলন দেখেন, তাঁদের অবশ্য দাবি মুশফিক এখন শুধু ব্যাটিংই অনুশীলন করেন। উইকেট কিপিংয়ের অনুশীলন খুব একটা করেন না।

রুবেল হোসেনের জায়গায় তৃতীয় ওয়ানডের ১৪ জনের দলে ডাকা হয়েছে মোশাররফ হোসেনকে। তিনি কাল অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। এ ছাড়া কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের সঙ্গে মাঠে আসেন দ্বিতীয় ওয়ানডের দলে না থাকা ইমরুল কায়েস, নাসির হোসেন ও শফিউল ইসলাম। মুশফিক মাঠে এসে থাকলেও এই দলটার সঙ্গে যে আসেননি, তা নিশ্চিত।

ইনডোরে তাঁদের অনুশীলনের সময় মুশফিক ছিলেন না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইমরুল-শফিউলদের আগে-পরেও তিনি ইনডোরে ব্যাটিং অনুশীলন করতে যাননি। তবে কি শুধু উইকেট কিপিং অনুশীলন করেই হোটেলে ফিরে গেলেন! নাকি যানইনি স্টেডিয়ামে? শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়টিই সত্যি বলে জানা গেছে—মুশফিক কাল মাঠে যাননি।

জাতীয় দলের খেলা চলাকালীন তাঁর অনুশীলন না করার উদাহরণ খুবই কম। ছুটির দিনেও অনুশীলন করাটাকে প্রায় নিয়মের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া মুশফিক ঐচ্ছিক অনুশীলনের দিন মাঠে আসবেন না, তা কি করে হয়! সে জন্যই হয়তো ওই বিভ্রম। অন্য কাউকে দেখেই মুশফিক ধরে নেওয়া। মুশফিকের অনুশীলনে না যাওয়াটা বড় খবর, কৌতূহল উদ্দীপকও। তবে যাঁরা গেছেন, সেই চন্ডিকা হাথুরুসিংহে, তাঁর কোচিং স্টাফ সদস্য এবং চার খেলোয়াড়ের অনুশীলন নিয়েও কৌতূহলের কমতি ছিল না।

প্রায় সাড়ে আট বছর আগে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা মোশাররফকে যে ড্রেসিংরুমে বসিয়ে রাখার জন্য দলে ডাকা হয়নি, সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে অনুশীলনেই। সহকারী কোচ রিচার্ড হ্যালসল সারাটা সময় তাঁকে নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। যেটুকু আভাস পাওয়া গেছে, তাতে উইকেট দ্বিতীয় ওয়ানডের মতো থাকলে সাকিব, তাইজুলের সঙ্গে তৃতীয় বিশেষজ্ঞ স্পিনার হিসেবে দলে ঢুকতে পারেন মোশাররফ।

পেসারের সংখ্যা তিন থেকে দুই-এ নেমে আসবে তখন। অথবা বাঁহাতি এই স্পিনার একাদশে আসতে পারেন তাইজুলের জায়গা নিয়েও। শফিউলের বোলিংয়ের প্রতি আলাদা দৃষ্টি ছিল বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের। সঙ্গে ব্যাটিংয়ের সময় তাঁর প্রতি হাথুরুসিংহের মনোযোগ তৃতীয় ওয়ানডেতে একাধিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রুবেল হোসেন এখন ১৪ জনেই নেই। কাল পর্যন্ত যা আলোচনা তাতে উইকেট স্লো থাকলে শেষ ম্যাচে তাসকিনের পরিবর্তে মাশরাফির পেস সঙ্গী হতে পারেন শফিউলও। আর তিন পেসারই খেললে তো তাসকিন-শফিউল দুজনই থাকবেন। বোলিং লাইন আপে যে পরিবর্তনই আসুক, সেটা নির্ভর করছে কন্ডিশন এবং টিম কম্বিনেশনের ওপর।

তবে ব্যাটসম্যানদের চেয়ার বদল হলে তা হবে পুরোপুরিই পারফরম্যান্সজনিত কারণে। প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সৌম্য সরকারের ব্যর্থতা মেনে নিতে পারছেন না প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘তামিম ডাউন দ্য উইকেটে গিয়ে মেরে আউট হয়েছে।

সৌম্যরও কি দরকার একইভাবে মারার? তার জন্য সময়টাও খারাপ যাচ্ছে…ও তো ওই সময় ধরে খেলবে!’ কাল আরেকটা ‘লাইফ লাইন’ পেলে সেই চেষ্টাটা কি করে দেখবেন সৌম্য? — প্রথম আলো