মালয়েশিয়ায় অপহরণের পর দেশে মুক্তিপণ দাবী, অপহরণকারীরর তিনসহযোগী আটক

সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে: মালয়েশিয়া অবস্থানরত ভোলার যুবক বশির উদ্দিন অপহরনকারীর বাংলাদেশী তিন সহযোগীকে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থেকে আটক করা হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যায় র‌্যাব-১২ সদস্যরা সিরাজগঞ্জের বেলকুচি থানার মুকুন্দগাতী বাজার মোড়ে অভিযান চালিয়ে এদেরকে আটক করেন। এ সময় মুক্তিপণের চাঁদা উত্তোলনে ব্যবহৃত সোনালী ব্যাংকের একটি চেক বই উদ্ধার করা হয়।

আটককৃতরা হলো-উপজেলার চালা মধ্যপাড়া গ্রামের অজিত মোল্লার ছেলে শোভা চাঁন (৩০), চর শালদাইর গ্রামের মৃত ছফর আলীর ছেলে রবি চান মুন্সী ওরফে রবিউল হাসান (৪০) ও একই গ্রামের কমের আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর হোসেন (২৪)।

র‌্যাব-১২ সিরাজগঞ্জ ক্যাম্প কমান্ডার মোঃ হাসিবুল আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, ১৮ সেপ্টেম্বর ভোলার বোরহান উদ্দিন থানার বশির (৩০) নামে এক যুবককে মালয়েশিয়ার কেডা জেলার চুংগা বাতানি শহরে একটি বাসায় অপহরন করে আটকে রাখা হয়। পরে অপহরণকারীরা বাংলাদেশে ভিকটিমের স্ত্রীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন করে আড়াই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে এবং মুক্তিপণের টাকা সোনালী বাংক, বেলকুচি সোহাগপুর শাখা ৩৩০০৭০৮৯ শাখায় জমা দিতে বলে।

এ ঘটনায় ভিকটিমের স্ত্রী থানায় জিডি দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা র‌্যাব-১২’র সহযোগিতা কামনা করেন। পরে মোবাইল ট্যাকিং এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাকাউন্ড হোল্ডারসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তিনি আরো জানান, আটককৃত শোভা চাঁনের ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়াউল হক মালয়েশিয়ার কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশী নাগরিকদের অপহরন করে তাদের মাধ্যমে দেশের স্বজনদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করত।

এরই ধারাবাহিকতায় বশিরকে অপহরণ করে আড়াই লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করা হয়েছিল। টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়। টাকাগুলো তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উত্তোলন করা হতো বলে আটককৃতরা স্বীকার করেছেন।

তাদের আটকের বিষয়টি মালয়েশিয়া অপহরকারীদের জানানোর পর অপহৃত ভোলাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে বলে এই কর্মকর্তা জানান। আটককৃতদের ৫৪ ধারায় আটক দেখিয়ে বেলকুচি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে এবং ভোলার বোরহান থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।