মনের আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসে ফোন!

নাটক-সিনেমায় হয়তো নায়িকাকে বাগে আনতে নায়কের এই কৌশল দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে যদি এমনটা ঘটে। হ্যাঁ, ঘটেছে বটে।

ভারতে প্রশাসনের উদ্যোগ ছিল সরকারি পরিষেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর। এজন্য বিনা খরচে কল করতে পুলিশ ১০০ এবং ফায়ার সার্ভিস ১০১ নম্বর চালু করে।

কিন্তু জনসেবার এ উদ্যোগ এখন প্রশাসনের জন্য অস্বস্তির হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন জনগুরুত্বপূর্ণ দুটো নম্বরকে উপহাসের বিষয়ে পরিণত করায় জড়িতদের ওপর চাপা ক্ষোভ কর্মকর্তাদের।

এমনই একটি ঘটনার দিন ফোনটা এসেছিল রাত ১১টার দিকে। একটা রিং হতেই ডিউটি অফিসার তড়িঘড়ি রিসিভার তুলেছিলেন, ‘নমস্কার, কোতোয়ালি থানা…।’

ফোনের ওই প্রান্ত কিছুক্ষণ চুপ। তারপর জড়ানো গলায় ভেসে এলা- ‘দুটো বাদাম আর এক প্যাকেট ডালমুট, পাঁচ মিনিটের মধ্যে।’ বহরমপুর দমকলে ফোনটা এসেছিল আরও রাতে। টেলিফোনের অপর প্রান্তে মহিলা কণ্ঠ- ‘পুড়ে সব ছারখার হয়ে গেল। শিগগিরই আসুন।’

দমকল কর্মীর গলায় ষোলো আনা উদ্বেগ, ‘কোথায় আগুন? এলাকাটা বলুন…।’ উত্তর এলো- ‘মনে আগুন লেগেছে। পারবেন নেভাতে?’ কৃষ্ণনগর জেলা সদর হাসপাতালের এক চিকিৎসকের মোবাইলটা বেজে উঠেছিল রাত ১টায়। এত রাতে ফোন? রোগীর অবস্থা কি খারাপ?

ফোনটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে এক তরুণী জানতে চেয়েছিলেন, ‘প্রেম-জ্বরের ওষুধ মিলবে, ডাক্তার?’

এমন ফোনের গুঁতোয় কৃষ্ণনগর ও বহরমপুর দুই জেলাজুড়ে ত্রাহি ত্রাহি রব। জেলা হাসপাতালের এক কর্তার আক্ষেপ, ‘মানুষ আর কবে সচেতন হবে বলুন তো?’