ভালোই চলছে টিকিটের খেলা

ঢাকা পলিটেকনিকের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী কাওসার পড়েছেন বেশ বিপাকে। তাঁর চার বন্ধু এসেছেন ময়মনসিংহ থেকে। কয়েক দিন ধরে তাঁরা আছেন কাওসারের বাসায়। বন্ধুদের ঢাকায় আসার মূল উদ্দেশ্য বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচটা দেখা।

কাওসারের বন্ধুরা টিকিটের জন্য কাল রাত থেকেই দাঁড়িয়েছিলেন ইনডোর স্টেডিয়ামের বুথে। টিকিটের ‘টিকিটি’র দেখা তাঁরা পানইনি, উল্টো সকালে জুটেছে জলকামান আর পুলিশের লাটিচার্জ।

কাওসার অবশ্য বিকেলে টিকিটের সন্ধান পেয়েছেন। তবে সেটি সংগ্রহ করতে চড়া মূল্যই দিতে হয়েছে তাঁকে। পূর্ব গ্যালারির ১০০ টাকার টিকিট কালো বাজারির কাছ থেকে নিয়েছেন ১৩০০ টাকা দিয়ে। এত দামে টিকিটি কিনেও তাঁর মুখে তৃপ্তির ছোঁয়া দেখে অবাকই হতে হলো! কেন তিনি ‘খুশি’ সেটির ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আমি তো কমেই পেয়েছি। আমার সামনে একজন ব্ল্যাকারের কাছ থেকে ১৫০ টাকার টিকিট ৩০০০ দিয়ে নিয়েছে! তারপর একটু টেনশনে আছি। টিকিট পেয়েছি চারটি। দরকার আরও একটি।’
৪ ও ৫ নম্বর গেটের সামনে কয়েকজন কালো বাজারির কাছে ধরনা দিয়েও আরেকটি টিকিটি কাওসার জোগাড় করতে পাননি। একজনের কাছে অবশ্য পেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দাম হাঁকছেন অনেক বেশি! ১০০ টাকার টিকিট ২০০০! কাওসার অবশ্য ১৫০০ দিতে রাজি। কিন্তু ২০০০ টাকার ‘২ টাকা’ কমেও ছাড়তে রাজি নন কালো বাজারি। নিরুপায় হয়ে চার বন্ধুকেই গ্যালারিতে পাঠালেন কাওসার। তিনি থাকলেন গেটের বাইরে। মলিন হেসে বললেন, ‘কী আর করার। ওরা আসছে দূর থেকে। আমি না হয় অন্য একদিন দেখলাম।’
একটি ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত হৃদয় অবশ্য ভাগ্যবান। তাঁর এক আত্মীয় চাকরি করেন বিসিবিতে। তাঁর সৌজন্যে তিনি পেয়েছেন দুটি ভিআইপি গ্যালারির টিকিট। ২০০০ টাকার টিকিট নিয়েও হৃদয় দোনা-মোনায় ভুগেছেন স্টেডিয়ামে আসবেন কি না, ‘একা খেলা দেখতে ভালো লাগবে না। সঙ্গে একজনকে খুঁজছিলাম বলে আসতে একটু দেরি হয়েছে।’
হৃদয় যখন গ্যালারিতে ঢুকলে ইংল্যান্ডের ইনিংস ৩০ ওভার শেষ। টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া আফগানিস্তান সিরিজ থেকে শুরু হয়েছে অনলাইনে। প্রক্রিয়া বদলালেও টিকিট নিয়ে পুরোনো ভোগান্তি-হাহাকারটা থেকেই গেছে। ‘টিকিট কি সহজ ডট কম থেকে নিয়েছেন?’ অন্তত ১৫জন দর্শককে প্রশ্নটা জিজ্ঞেস করে উত্তরে ‘না’ পাওয়া গেছে।

অধিকাংশই চড়া দামে কিনেছেন কালোবাজারির কাছ থেকে। কেউ বা নিয়েছেন আত্মীয় বা বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে। আবারও কেউ পেয়েছেন সৌজন্য টিকিট। সহজ ডটকম থেকে কেন টিকিট পাননি? একজনের জবাব, ‘টিকিট ছাড়ার ১০ মিনিটে শেষ হয়ে গেলে পাব কী করে?’ অবশ্য সহজ ডটকম আগেই জানিয়েছে, তারা সুযোগ পেয়েছে স্টেডিয়ামের ৩০ শতাংশ টিকিট।
কিছু দর্শক অবশ্য সহজ ডটকম থেকে কিনে নিজেরাই কালোবাজারিতে জড়াচ্ছেন। ৪ নম্বর গেটের সামনে এমনই এক দর্শককে চিহ্নিত করল পুলিশ। যদিও ওই দর্শকের যুক্তি, তিনি দুটি টিকিট কিনেছিলেন। তাঁর বন্ধু না আসায় একটি বিক্রি করছেন। তাঁর দাবি, যদি কালোবাজারিই হবেন, এমন প্রকাশ্যে তো আর টিকিট বিক্রি করবেন না! পুলিশ ছেড়ে দেওয়ার পরই অবশ্য ১০০ টাকার টিকিট তিনি ২০০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।
স্টেডিয়ামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী তৎপরতা চোখে পড়ার মতোই। দর্শকদের কিছুতেই লাইন ভাঙতে দিচ্ছেন না। অবৈধভাবে ঢোকার আবদার নিয়ে আসা দর্শকদের দ্রুত সরিয়ে দিচ্ছে গেট থেকে। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের নিরাপত্তাও আগের তুলনায় বেড়েছে। এর আগে দেখা যেত নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব ফেলে খেলা দেখছে। কিন্তু আজ তারা দর্শকদের দিকে মুখ করেই দাঁড়িয়ে আছে।-prothom-alo