ভারতের প্রত্যাঘাতে আমেরিকার সমর্থন!

যদিও, ভারতের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের খবর আগে থেকে আমেরিকাকে জানানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি আমেরিকা।

নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতের প্রত্যাঘাত নয়, বরং উরিতে জঙ্গি হামলার মতো ঘটনাই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করে। সন্ত্রাস দমনে ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন জানানোর বার্তা দিয়ে সরকারিভাবে বিবৃতি দিল হোয়াইট হাউজ।

উরি হামলার পর থেকেই সন্ত্রাস দমনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পাকিস্তানের উপরে ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু পাকিস্তান তাতে সেভাবে আমল দেয়নি। উল্টে ভারতের প্রত্যাঘাতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পরে মুখ বাঁচাতে নতুন কাঁদুনি গাইতে শুরু করেছে নওয়াজ শরিফ সরকার।

তাদের দাবি, সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নয়, নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে আসলে সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই যুক্তি দেখিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যখন আমেরিকা-সহ বিশ্বের দরবারে নালিশ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসলামাবাদ, তার আগেই আমেরিকার এই বার্তা তাদের হতাশ করবে।

জঙ্গি ঘাঁটি ধ্বংস করতে পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র জন কির্বি জানিয়েছেন, ‘সন্ত্রাস কোনও দেশের সীমানা মানে না। উরি হামলার মতো ঘটনা উত্তেজনা তৈরি করে। সন্ত্রাস দমনে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরালো করতে আমেরিকা বদ্ধপরিকর।’ যদিও, ভারতের এই সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের খবর আগে থেকে আমেরিকাকে জানানো হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি আমেরিকা।

তবে গোটা অভিযান সম্পর্কে ভারতীয় সেনা যেভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীকে অবগত করেছে, তার প্রশংসা করেছে আমেরিকা। আমেরিকার মতে, দু’দেশের সেনবাহিনীকেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে হবে। একই সঙ্গে হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জন আর্নেস্ট জানিয়েছেন, আমেরিকা আশা করে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে পাকিস্তান কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। শুধু তাই নয়, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের পরে ভারতের সন্ত্রাস দমনে ভারতের পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন দুই মার্কিন সেনেটর।

যদিও ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব বান কি মুনও চিন্তিত। গোটা পরিস্থিতির উপরে রাষ্ট্রপুঞ্জ নজর রাখছে। — এবেলা