বিয়ের পরে মেয়েদের পদবি পরিবর্তন কি বাধ্যতামূলক?

কুড়ি বছর আগেও ভারতীয় মেয়েরা খুব একটা এই প্রশ্ন তুলতেন না। কিন্তু এখন প্রশ্ন উঠছে এবং তার নানা উত্তরও মিলছে। সত্যিই কি ‘বাধ্যতামূলক’?

বিয়ের পরে শুধু ভারতীয় কেন, সারা পৃথিবীর সিংহভাগ মহিলাই পদবি পরিবর্তন করেন। এক একটি দেশে এই নিয়ে এক এক রকম নিয়ম রয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে আইনটি ঠিক কী? এই নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বহুদিন ধরেই। বিখ্যাত মানুষজন তো বটেই, ইদানীং বহু মেয়েই কিন্তু বিয়ের পরেও নিজের পুরনো পদবি ব্যবহার করেন। তবে কি তাঁরা আইন লঙ্ঘন করছেন?

অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে যে মেয়েদের বিয়ের পরে পদবি পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। এটি একেবারেই একটি সামাজিক রীতি এবং অনেক ক্ষেত্রে একটা সামাজিক চাপ যা থেকে বহু মহিলাই ইদানীং বেরিয়ে আসছেন। কিন্তু ভারতীয় আইন বলছে পদবি পরিবর্তন করা বা না করা, পুরোটাই বিবাহিত মহিলার ইচ্ছে-অনিচ্ছের উপর নির্ভর করছে। যাঁরা হিন্দু ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে পদবি পরিবর্তন একটি ‘ডিফল্ট’ ফিচার অর্থাৎ বাই ডিফল্ট বিয়ের পরে স্বামীর পদবিই তাঁর পদবি হবে।

কিন্তু তার পরেও ইচ্ছে করলেই সেই মহিলা বিয়ের পরে নিজের পুরনো পদবি ব্যবহার করতে পারেন একটি এফিডেভিট করে। যাঁরা স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টে বিয়ে করছেন তাঁদের ক্ষেত্রে ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে এমন কোনও কিছু নির্দেশই থাকে না। সেখানে দু’টি ভিন্ন পদবির মানুষ বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন, শুধু সেই ঘোষণাই থাকে। তাই তাঁদের ক্ষেত্রেও পদবি পরিবর্তন আবশ্যক নয়।

আবার যদি কেউ বিয়ের পরের এবং আগের, দু’টি পদবিই ব্যবহার করতে চান, সেক্ষেত্রেও তাঁকে বিয়ের পরে একটি এফিডেভিট করতে হবে মাত্র। যেমন— ঐশ্বর্য রাই বচ্চন। এইভাবেই যদি কেউ বিয়ের আগের ও পরের দু’টি পদবিসমেত সমস্ত আইনি এবং অফিসিয়াল ডকুমেন্টে পরিচিত হতে চান তবে তাঁকে এফিডেভিট ছাড়াও এই নামের নতুন পাসপোর্ট, রেশন কার্ড ইত্যাদি ইস্যু করতে হবে।

এই ধরনের অফিসিয়াল ডকুমেন্ট এবং এফিডেভিট কিন্তু প্রয়োজন হয় জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট, জয়েন্ট প্রপার্টি কেনা-বেচা ইত্যাদির জন্য। নাহলে কেউ যদি বিয়ের পরেও সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলে বা মেল আইডিতে পুরনো পদবি ব্যবহার করেন তবে তা একেবারেই আইনবিরুদ্ধ নয়।

ভারতীয় সমাজে মেয়েদের অবস্থান এখনও সর্বক্ষেত্রে ভাল নয়। পণ দেওয়া-নেওয়া, নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে দেওয়া, শারীরিক অত্যাচার এবং বিভিন্ন সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় এখনও, কিন্তু এদেশের আইন মেয়েদের যে অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখে তার অন্যতম উদাহরণ হল এই পদবি পরিবর্তন বাধ্যতামূলক না হওয়ার বিষয়টি। — এবেলা