বিদেশি ‘আগ্রাসন’ হলে পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা, কাশ্মীর নিয়েও ভারতকে খোঁচা চিনের

‘পরম মিত্র’ পাকিস্তানের পাশে থাকার বার্তা চিনের। ভারতকেও কার্যত হুঁশিয়ারি। উরির সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভারত-পাকিস্তান সংঘাত, দুদেশের সামরিক তত্পরতার মধ্যেই বেজিংয়ের তরফে ইসলামাবাদকে আশ্বস্ত করা হল, যে কোনও বিদেশি ‘আগ্রাসনের’ মুখে তারা পাশে দাঁড়াবে। পাক সংবাদপত্র ‘দি ডন’-এর খবর, পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে লাহোরে চিনা কনসাল জেনারেল ইউ বোরেনের আলোচনার সময়ই এই অভয়বাণী দেওয়া হয়েছে। পঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে বোরেন বৈঠকে বলেছেন, কোনও বিদেশি আগ্রাসন হলে পাকিস্তানকে পূর্ণ সমর্থন জানাবে আমাদের দেশ।

পাশাপাশি কাশ্মীর প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থানেই সিলমোহর দিয়েছেন বোরেন। তাঁর বক্তব্যে শোনা গিয়েছে পাকিস্তানেরই ভারত-বিরোধী আক্রমণের প্রতিধ্বনি। তাঁকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, কাশ্মীর ইস্যুতে পাকিস্তানের পাশে আমরা আছি, থাকবও। ভারতের দখলে থাকা কাশ্মীরে নিরস্ত্র কাশ্মীরীদের ওপর অত্যাচারের কোনও যুক্তি, বৈধতা নেই এবং কাশ্মীরীদের আশা-আকাঙ্খাকে মর্যাদা দিয়েই কাশ্মীর বিতর্কের সমাধান হওয়া উচিত।

১৮ সেপ্টেম্বরের ভোরে উরির সেনাঘাঁটিতে অতর্কিত সন্ত্রাসবাদী হামলায় ১৮ জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যুর পর ভারত-পাক কূটনৈতিক সম্পর্ক উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পাকিস্তানে প্রশিক্ষণ পাওয়া জঙ্গিরাই এই হামলা চালিয়েছে, ভারতের এই অভিযোগ খারিজ করে পাল্টা কাশ্মীরে ভারতীয় বাহিনীর ‘অত্যাচারের’ জবাবেই উরি- এমন অভিমত জানিয়েছেন পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। এই অবস্থায় ভারতের বিপক্ষে যাওয়ার ইঙ্গিত দিল চিন।

গতকাল নওয়াজের ভাই শাহবাজের ৬৫-তম জন্মদিনে তাঁর সঙ্গে দেখা করে  শুভেচ্ছা জানান চিনা কনসাল জেনারেল। দুজনের মধ্যে কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডরের আওতায় নানা প্রকল্পের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন তাঁরা। প্রসঙ্গত, ভারতের দাবি, ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থমূল্যের এই করিডরের একাংশ যে এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে, সেটি বিতর্কিত ভূখণ্ড।