‘ফেরার দিনে বাবার কথা খুব মনে পড়বে’ : আশরাফুল

বিপিএল কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল। সেই নিষেধাজ্ঞা কাটিয়েছেন গত আগস্টে। শেষ পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরের দুর্বিসহ যন্ত্রণা কাটিয়ে মাঠে ফিরছেন আশরাফুল। আজ রোববার বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকা মেট্রোর হয়ে নামছেন ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে।

দিনটা যেন ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আশরাফুলের দ্বিতীয় জন্ম। অনেক অপেক্ষা, অনেক পরিশ্রম আর ত্যাগ-তীতিক্ষার পর মাঠে ফিরছেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্ব কনিষ্ট সেঞ্চুরিয়ান। অথচ এই দিনটাই দেখে যেতে পারলেন না আশরাফুলের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, তার বাবা। ছেলের এই ফেরার দিনটা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিলেন আবদুল মতিন; কিন্তু তার আগেই স্রষ্টার ডাকে পরপারে পাড়ি জমাতে হয়েছে আশরাফুলের বাবাকে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে ইন্তিকাল করেন আবদুল মতিন।

বাবার মৃত্যু শোক কাটিয়েই মাঠে নামছেন মোহাম্মদ আশরাফুল। এনসিএলের জার্সি গায়ে দেয়ার আগে জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত আলাপনে নিজের অনুভূতির কথা জানান তিনি। আশরাফুল বলেন, `গত সাড়ে তিন বছর এই দিনটির অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে ছিলাম।

আমি একা নই, এই দিনটির জন্য আমার পুরো পরিবারও অপেক্ষায়র প্রহর গুনেছে। সবারই আগ্রহের বিষয় ছিল, আবার কবে, কখন আমি মাঠে নামবো। অবশেষে সেই সুযোগটা এসে গেছে। এটা ভাবতেই একটা অন্যরকম ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হয়ে আছে মন।`

অথচ এই শুভ সময়ে বাবার কথা ভেবে মনটা তার খুব খারাপ হয়ে আছে। আশরাফুল বলেন, `এই শুভ সময়ে আব্বা নেই- এটা ভাবতেই মনটা ব্যথায় ভরে উঠছে।`

আশরাফুলের বাবা তাকে নিয়ে খুব গর্ব করতেন। সেটাই তিনি জানালেন। বললেন, `পুরো পরিবারই আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে গর্বিত। তবে আমার আব্বা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতেন। অনেক গর্ব করে সবাইকে বলতেন, আমি আশরাফুলের বাবা। খুব ভালো লাগতো, যদি আমার ফেরাটা তিনি নিজ চোখে দেখে যেতে পারতেন।`

ফেরাটা স্মরনীয় করে রাখতে চান আশরাফুল। তিনি বলেন, `আমি নিজেকে প্রস্তুত করছি, ফেরাটাকে স্মরনীয় করে রাখতে। আত্মবিশ্বাস এবং আস্থার জায়গাটা পুরোপুরি অটুট। এখন দরকার ভালো শুরু। শুরুটা ভালো হলেই ইনশাআল্লাহ বড় ইনিংস খেলতে পারবো।`