‘প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার করায় মাংস কাটার চাপাতি দিয়ে খাদিজাকে কোপাই’

সিলেটে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিসকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পাওয়ায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আড়াইশ’ টাকা দিয়ে চাপাতি কেনে বদরুল। সেই চাপাতি দিয়েই সোমবার বিকালে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সে।

বুধবার বিকেলে সিলেট অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম উম্মে সরাবন তহুরার আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সে এ কথা জানিয়েছে। জবানবন্দিতে বদরুল ঘটনার সব দায় স্বীকার করেছে। এর আগে পুলিশের কাছে এসব কথা স্বীকার করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এই ছাত্রলীগ নেতা।

স্বীকারোক্তি প্রদানকালে বদরুল আদালতকে জানায়, খাদিজার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের বাড়িতে লজিং থাকাকালে তার সঙ্গে এ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর খাদিজার পরিবার তা মেনে নিতে পারেনি। আমাকে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। এরপরও একাধিকবার সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে গিয়ে ব্যর্থ হই। অনেকবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে সে নগরীর আম্বরখানা থেকে আড়াইশ’ টাকা দিয়ে একটি চাপাতি কেনে।

বদরুল জানায়, সোমবার পরীক্ষার খবর পেয়ে আমি খাদিজার সঙ্গে দেখা করতে এমসি কলেজে যাই। সঙ্গে চাপাতি নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে খাদিজার সঙ্গে কথা বলে বুঝানোর চেষ্টা করি। সেদিনও মুখোমুখি হতে চাইলে সে এড়িয়ে যায়। পারিবারিক চাপে খাদিজা আমাদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে। বারবার তাকে সম্পর্ক রাখার জন্য চাপ দিলেও সে পাত্তা দেয়নি। এরপর রাগ করে কোমরে থাকা চাপাতি দিয়ে বান্ধবীদের সামনেই নার্গিসকে কোপাতে থাকি।’

আদালতে জবানবন্দি শেষ হওয়ার কোর্ট ইন্সপেক্টর মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আদালতের কাছে সব কিছু স্বীকার করেছে বদরুল। জেদের কারণেই সে খাদিজাকে কুপিয়েছে বলে আদালতে জানায়। তিনি বলেন, আদালত জবানবন্দি গ্রহনের পর তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।’

প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজে বিএ (পাস) পরীক্ষা দিতে এসে এই হামলার শিকার হন খাদিজা। পরে তাকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। অবস্থার অবনতি হওয়ায় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে খাদিজাকে স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই সন্ধ্যায় তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার হয়েছে।

খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস জানান, তাঁর মাথায় পাঁচ-ছয়টি কোপ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা কোনো আশ্বাস দিতে পারেননি। তাঁরা বলেছেন, পরিস্থিতি ভালো নয়। কোপে গুরুতর জখম হয়েছে। স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তির পর পরিস্থিতি দেখে তৎক্ষণাৎ তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

এদিকে খাদিজাকে কুপিয়ে আহত করার ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ এনে খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে শাহপরান থানায় মামলাটি দায়ের করেন।