প্রতিদিন এক গ্লাস গরম পানি খেলেই ৪টি জটিল সমস্যার সমাধান

চীন ও ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতিতে গরম পানিকে স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারি হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তখন বলা হতো, প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস গরম পানি খেলে হজম ক্ষমতা বাড়ে। এছাড়া এর আরও অনেক উপকারি দিক রয়েছে যেগুলো এখনও স্বীকৃত। তেমনই কয়েকটি উপকারি দিক হলো-!

১. ওজন কমায়: প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানি সরাসরি আপনার ওজন কমাবে না। তবে ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি সহজ করবে। এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের পুষ্টিবিজ্ঞানী কারা ওয়ালশ বলেন, প্রতিদিন সকালে গরম পানির সাথে লেবু মিশিয়ে খেলে আপনার আরও বেশি ক্যালরি খরচ হবে। ফলে ওজন কমবে।

২. দাতের জন্য সহায়ক: ঠান্ডা পানির চেয়ে গরম পানি আপনার দাঁতের জন্য অনেক বেশি সহায়ক। লক্ষ্য করে দেখবেন, ঠাণ্ডা পানি খেলে দাঁত শিরিশির করে যা গরম পানি খেলে হয় না। এজন্য দাঁতের সুস্থতায় গরম পানি পান করুন। তবে অতিরিক্ত গরম পানি খাবেন না। এতে দাঁত নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

৩. হজমে সহায়ক: হজমের জন্য গরম পানি বেশ কার্যকরী। এ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক লুইজা পেট্রে বলেন, খালি পেটে গরম পানি খেলে এটা হজম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এছাড়া এটা ফ্যাট কমাতেও সহায়তা করে।

৪. প্রাকৃতিক ব্যাথানাশক: গরম পানি প্রাকৃতিক ব্যাথানাশক হিসেবে কাজ করে। এটা খেলে টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ বেড়ে যায়। যা মাংসপেশীতে প্রশান্তি এনে দেয়। সব ধরনের ব্যাথা নিরাময়ে গরম পানি কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক পেট্রে। এছাড়া দ্রুত ঘুমাতেও সহায়তা করে গরম পানি।

চোখের নিচে ফোলা এবং কালি দূর করবেন কিভাবে?

বহু মানুষেরই চোখের নিচে একধরনের ফোলা ফোলা কিংবা কালো ডার্ক সার্কল তৈরি হয়। একে ব্যাগও বলা হয়। কিন্তু কেন হয় এ ব্যাগ? এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে লাইভ সায়েন্স। সাধারণত যারা ঘুমের অসুবিধায় থাকেন তাদের চোখের নিচে ফোলা ব্যাগ দেখা যায়। কিন্তু না ঘুমালে কেন এ ব্যাগ হয়?

সম্প্রতি এ প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করেছেন গবেষকরা। তারা জানিয়েছেন, জেনেটিক ও দৈনন্দিন পরিবেশগত কারণে এ ব্যাগ তৈরি হয়। দৈনন্দিন পরিবেশগত যে কারণে এ ব্যাগ তৈরি হয় তা মূলত কম ঘুম ও অতিরিক্ত চোখ কচলানোর ফলে সৃষ্ট। অন্যদিকে জেনেটিক কারণে অনেকের মাঝেই এ সমস্যা বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।

এ বিষয়ে স্কিন কেয়ার স্পেশালিস্ট ড. ক্যারল ক্লিনটন বলেন, উভয় কারণেই চোখের নিচে ফুলে যেতে পারে। তবে জেনেটিক হলো এ জন্য মূল দায়ী। তিনি আরও বলেন, আই ব্যাগ তাদের মাঝে বেশি দেখা যায়, যাদের ত্বক পাতলা। আর এর পেছনে রয়েছে জেনেটিক বিষয়। মানুষ যখন ক্লান্ত বা মানসিক চাপের মাঝে থাকে তখন মুখের রক্তচলাচল কমে যায়। আর এতে চোখের নিচের সে স্থানটিতে জমা হয়ে ফুলে ওঠে।

এ ছাড়া অ্যালার্জির কারণেও চোখের নিচের অংশ ফুলে উঠতে পারে বলে জানান ড. ক্যারল। আর একটি কারণ হিসেবে জানা যায় অতিরিক্ত সূর্যতাপে থাকা। এটিও চোখের নিচ ফুলিয়ে দিতে পারে। দৈনন্দিন জীবনযাপনে আপনার যদি অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে তাহলেও এ সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত লবণ খাবারের সঙ্গে গ্রহণ করলে এ সমস্যা হতে পারে।

‘আই ব্যাগ’ দূর করতে ৬টি পরামর্শ দিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

পরামর্শ ১: তোয়ালে গরম পানিতে ভিজিয়ে চোখের উপর শেক দিন। এটি চোখের নিচে ‘আই ব্যাগ’ সমস্যা সমাধানের খুবই প্রচলিত একটি উপায়। ১০ মিনিটেই এ-থেকে উপকৃত হওয়া যায়। পরামর্শ ২: টুকরো টুকরো শসা চোখের ওপর রাখুন। শসা একটি পরিচিত সবজি। সালাদে শসার ব্যবহার আছে; তরকারিতেও এটা ব্যবহার করা হয়। কিন্তু শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, সৌন্দর্যচর্চার উপাদান হিসেবেও শসার ব্যবহার আছে। হ্যাঁ, চোখের নিচে আই ব্যাগ সমস্যা সমাধানে শসা ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। আপনি শসা পরিষ্কার করে টুকরো টুকরো করে কেটে নিন।

টুকরো শসা যত পাতলা হবে তত ভালো। শসার টুকরো দুই চোখের উপর রেখে দিন খানিকটা সময়। উপকার পাবেন। পরামর্শ ৩: চোখ মাসাজ করা। সকালে বিছানা থেকে উঠে চোখ মাসাজ করুন। চোখের নিচে ‘আই ব্যাগ’ থাকুক বা না-থাকুক-উভয় ক্ষেত্রেই এটা কার্যকর। এতে চোখও ভালো থাকবে। চোখ মাসাজের কাজটা পাঁচ মিনিট করতে পারেন। পরামর্শ ৪: চোখের উপর আলুর টুকরো রাখুন। চোখের নিচে ‘আই ব্যাগ’ সমস্যা সমাধানে আলুও ব্যবহার করতে পারে।

প্রথমে আলুর খোসা ছাড়িয়ে নিন। তারপর আলু টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। এই ক্ষেত্রেও টুকরো যত পাতলা হবে তত ভালো। কাটা আলুর টুকরো দুই চোখের উপর রাখুন। মনে রাখবেন, এ-কাজের জন্য নেওয়া আলু অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও জীবানুমুক্ত হতে হবে। পরামর্শ ৫: আপেলের টুকরোর ব্যবহার। আপেলকে সকল ফলের রাজা বলা হয়। কারণ, আপেলে রয়েছে শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি।

এর একটি উপাদান চোখের নিচে আই ব্যাগ সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। পরিষ্কার আপেলটি টুকরো টুকরো করে কেটে নিন। আপেল-টুকরো চোখের উপর দশ মিনিট রাখুন। উপকার পাবেন। আরেকটি কথা, আপেল প্রতিদিন খাওয়া, শরীরের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর। একটা কথা প্রচলিত: প্রতিদিন আপেল খাও/ বাড়ির বাহিরে ডাক্তার তাড়াও।

পরামর্শ ৬: দইয়ের ব্যবহার। নিয়মিত দই খাওয়া শরীরের জন্য ভাল। দই চোখের নিচে আই ব্যাগ সমস্যা সমাধানেও ভূমিকা পালন করতে পারে। দই চোখের উপরে ও চারপাশে মাখুন এবং দশ মিনিট পর ধুয়ে নিন। উপকার পাবেন।

কখন চিকিৎসককে দেখানো জরুরি: চোখের কালো দাগ এবং ফোলা যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে এবং দৃষ্টিতে ব্যাঘাত ঘটে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অযথা বাজারের বাহারি ক্রিমে আকৃষ্ট হবেন না। এতে উল্টো হিতে বিপরীত হতে পারে। নিয়মিত নিজের যত্ন নিন, হাসিখুশি থাকুন।

ভরসা করুন প্রকৃতির উপর: টমেটো: চোখের নিচের কালো দাগ দূর করার জন্য টমেটো অনেক বেশি কার্যকর। এটি প্রাকৃতিকভাবে কালো দাগ দূর করে ত্বককে করে তুলে নরম ও তুলতুলে। এক চা চামচ টমেটোর রস ও এক চা চামচ লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে চোখের নিচে দশ মিনিট দিয়ে রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। দিনে অন্তত দু’বার এটি ব্যবহার করুন। সম্ভব হলে লেবু দিয়ে টমেটোর জুস খান।

এটি কালো দাগ দূর করতে সহায়তা করে। আলু: আলু খোসা ছাড়িয়ে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর সেসব ব্লেন্ড করা আলু একটু তুলায় নিয়ে চোখের নিচে এবং পাতায় ভেজান। এভাবে দশ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলুন। ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ: আরেকটি সহজ উপায় হলো ঠাণ্ডা টি-ব্যাগ। যে কোনো ধরণের টি-ব্যাগ হোক, তা কিছুক্ষণ ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিয়ে যেখানে, যেখানে কালি সবক্ষেত্রে ওই টি-ব্যাগ ব্যবহার করুন।

প্রতিদিন একবার করে করুন, দেখে নিন পরিবর্তন। দুধ: ঠাণ্ডা দুধ ত্বক ও চোখের নিচে কালি উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর। এই ঠাণ্ডা দুধ একটু তুলোয় নিয়ে আক্রান্ত জায়গাগুলোতে ঘষে নিন কিছুক্ষণ। এরপর শুকিয়ে গেলে ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে, কালো দাগ দূর করে। পাশাপাশি মুখকে করে তুলে আর বেশি কোমল। কমলার রস: কমলার রসের সঙ্গে কিছু গ্লিসারিন মিশিয়ে চোখের কালো ছোপ বা দাগের স্থানে ব্যবহার করুন।

এতে শুধু চোখের কালো দাগই দূর হবে না, সঙ্গে চোখের উজ্জ্বলতাও প্রাকৃতিকভাবে বাড়বে। গোলাপজল: ত্বকের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য গোলাপজলের ব্যবহার আদিকাল থেকেই রয়েছে। গোলাপজল চোখের নিচের কালো দাগ দূর করতেও সহায়তা করে দ্রুত। প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তুলোয় ভিজিয়ে কালো দাগের স্থানে ঘষে নিন। পনেরো মিনিট রেখে সাধারণ পানিতে ধুয়ে ফেলুন। এক মাস ব্যবহারে পাবেন এর দারুণ ফলাফল।