পেটের চর্বি কমানোর সহজ পাঁচ যোগাসন

ভুঁড়িটা একটু কমাতেই হবে। জিমে গিয়ে ঘাম ঝরানোরও সময় নেই। ডায়েট করে মেদ হয়তো কমলো, কিন্তু, টোনড বডি হবে কি? ঝটপট তাই একটাই উপায়। যোগাসন।

শিখে নিন সহজ পাঁচ যোগাসন। বাড়িতেই মাত্র আধ ঘণ্টা সময় নিয়ে নিজেই করুন যোগাসন। তিন সপ্তাহ রোজ যোগাসন করলে ফল অবশ্যই পাবেন।

ভুজঙ্গাসন

এই আসন পেটের পেশীর জোর বাড়িয়ে মেদ কমাতে সাহায্য করে। শিরদাঁড়ার নমনীয়তা বাড়ায়।

এই আসন পেটের পেশীর জোর বাড়িয়ে মেদ কমাতে সাহায্য করে। শিরদাঁড়ার নমনীয়তা বাড়ায়।

  • উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা ছড়ানো থাকবে, হাতের পাতা থাকবে কাঁধের নীচে।
  • থুতনি ও পায়ের আঙুল যেন মাটিতে থাকে।
  • ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে বুক মাটি থেকে উপরে তুলুন। শরীর পিছন দিকে হেলান।
  • ১৫-৩০ সেকেন্ড এই অবস্থায় থাকুন।
  • এ বার ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • প্রতি দিন পাঁচ বার ভুজঙ্গাসন করুন। প্রতি বারের মাঝে ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন।

ধনুরাসন

এই আসন শরীরের সব পেশীর জোর বাড়ায়। শুধু পেটের চর্বি কমানোই নয়, হজম ক্ষমতা বাড়াতে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করে।

  • উপু়ড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। দু’পা ছ়ড়ানো থাকবে। হাত থাকবে শরীরের দু’পাশে।
  • পা হাঁটু থেকে মুড়ে ভাঁজ করুন। দু’হাত দিয়ে দু’পায়ের গোড়ালি ধরুন।
  • শ্বাস নিতে নিতে মাথা মাটি থেকে উপরে তুলে পিছনের দিকে ঝোঁকান। পা মাটি থেকে যতটা সম্ভব উপরের দিকে তুলে ধরুন।
  • এই অবস্থায় ১৫-৩০ সেকেন্ড থাকুন।
  • শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • প্রতি দিন পাঁচ বার করে এই আসন করুন। প্রতি বারের মাঝে ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন।

নৌকাসন

এই আসন কোমরের কাছে জমে থাকা মেদ কমাতে সাহায্য করে, পা ও পিঠের পেশী টানটান করে।

  • শবাসন থেকে পা একদম সোজ রেখে শ্বাস নিতে নিতে মাটি থেকে উপরের দিকে তুলুন।
  • হাত সোজা রেখে মাটি দু’পায়ের আঙুল ধরার চেষ্টা করুন। পুরো শরীরটা ৪৫ ডিগ্রি কোণ তৈরি করবে।
  • শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ১৫ মিনিট থাকুন।
  • শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন।
  • প্রতি দিন পাঁচ বার করে এই আসন করুন। প্রতি বারের মাঝে ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন।

কুম্ভকাসন

এই আসন করা খুব সোজা। পেটের চর্বি কমানোর পাশাপাশি কাঁধ, পিঠ, ঊরু ও নিতম্বের পেশীর জোর বাড়াতে সাহায্য করে এই আসন।

  • উপুড় হয়ে শুয়ে হাতের পাতা কাঁধের নীচে রাখুন।
  • পা যতটা সম্ভব ছড়িয়ে দিন।
  • হাত ও পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে শ্বাস নিতে নিতে শরীরে উপরের দিকে তুলুন। চোখ থাকবে হাতের পাতের দিকে।
  • শিরদাঁড়া, হাত ও পায়ের পেশীতে যতটা সম্ভব টান অনুভব করুন। এ ভাবে ১৫-৩০ সেকেন্ড থাকুন।
  • শ্বাস ছেড়ে আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
  • প্রতি দিন পাঁচ বার করে এই আসন করুন। প্রতি বারের মাঝে ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন।

পবনমুক্তাসন

পিঠের ব্যথা কমাতে, উরু, নিতম্বের পেশীর জোর বাড়াতে সাহায্য করে পবনমুক্তাসন। শরীরের পিএইচ ব্যালান্স বজায় রেখে পেট পরিষ্কার রাখে এই আসন।

  • শবাসন থেকে একটা হাঁটু মুড়ে পা ভাঁজ করে বুকের কাছে নিয়ে আসুন।
  • দু’হাতের আঙুল ক্লাস্প করে হাঁটু বুকের কাছে চেপে ধরে রাখুন।
  • এই অবস্থায় ৬০-৯০ সেকেন্ড থাকুন।
  • শ্বাস ছাড়তে ছাড়তে আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
  • অন্য পায়ের হাঁটু মুড়ে একই ভাবে এই আসন করুন।
  • প্রতি দিন পাঁচ বার করে এই আসন করুন। প্রতি বারের মাঝে ১৫ সেকেন্ড বিশ্রাম নেবেন।