পৃথিবী ধ্বংসের কারণ হতে পারে রাশিয়ার মারাত্মক ও ভয়ংকর ৫ অস্ত্র!

বিশ্বে সেরা ১০ সেনাবাহিনীর রাশিয়ার সেনারা অন্যতম। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে রাশিয়াকে আর কখনও তার সেনাবাহিনীর সফল প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়নি। শীতল যুদ্ধের সেই সময়ে প্রযুক্তি ও সামরিক খাতে রাশিয়া পশ্চিমা অনেক দেশের তুলনায় অনেক বেশি পিছিয়েই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়গুলোতে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমানবাহিনীর আক্রমন এবং এর ক্ষিপ্রতা যেন পশ্চিমা সেনাবাহিনীর গালে কষে থাপ্পর দেয়। মার্কিন প্রশাসনকে শেষমেষ বলতে বাধ্য হতে হয় যে, শীতল যুদ্ধের পরবর্তী রাশিয়া আর বর্তমান রাশিয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য এবং অনেক উন্নত।

রাশিয়ার উপর পশ্চিমাদের আরোপ করা অনেক অবরোধের মধ্যেও ধীরে ধীরে সামরিক ক্ষেত্রে উন্নত হয়েছে দেশটি। বিশেষ করে বিমান, ট্যাংক, সাবমেরিন এবং মিসাইল তৈরিতে তারা বিশেষ পারদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে। ভারি যুদ্ধাস্ত্র নির্মানে অতীতে রাশিয়া অনেক ব্যর্থতার পরিচয় দিলেও বর্তমানে তারা অনেক বেশি অগ্রগামী, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। গত দুই দশকে পশ্চিমা দেশগুলো বিশেষ করে হেলিকপ্টার, স্টিলথ ডেস্ট্রয়ার, মোবাইল আর্টিলারি, বিশেষ যুদ্ধযান, ট্যাংক, এয়ারবর্ন লেসারসহ হেলিকপ্টার তৈরিতে অনেক বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। কিন্তু রাশিয়ার অত্যাধুনিক বিমান আক্রমন শুরু করার পর দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোৎকৃষ্ট যুদ্ধবিমানও রাশিয়ার ওই বিমানের কাছে কিছু নয়।

সুখয় স্ট্রাইক ফাইটার
রাশিয়ার ফ্ল্যাঙ্কার পরিবার কিছুটা দেরিতে হলেও প্রমাণ করতে পেরেছে যে যুদ্ধবিমান তৈরিতে তারাই সেরা। ১৯৮৫ সাল থেকে তারা এসইউ-২৭ বিমান তৈরি দিয়ে শুরু করেছিল। এরপর থেকে তারা এসইউ-৩০, এসইউ-৩৪ এবং এসইউ-৩৫ তৈরি করে। তৎকালীন সময়ে অনেকেই রাশিয়ার এই বিমানগুলো সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, এগুলো সবই এফ-১৫, এফ/এ-১৮ হরনেট এবং ইউরোফাইটার টাইফুনের আদলে তৈরি করা। কিন্তু অত্যাধুনিক সুখয় যুদ্ধবিমানগুলো এক কথায় মার্কিন বৈমানিকদের মাথা ঘুরিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। নিখুত লক্ষ্যভেদের বাইরেও এসইউ-৩৪ সিরিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রে তাদের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। অনেক প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞের কল্পনাও ছিল না যে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এমন ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।

সুখয় টি-৫০ পিএকে-এফএ স্টিলথ ফাইটার
রাশিয়ার পঁঞ্চম প্রজন্মের বিমান হলো সুখয় টি-৫০। এফ-৩৫ স্টিলথ বিমানকে এযাবৎ অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন ধরা হলেও, টি-৫০ বিমান তৈরির পর সবাইকে মানতে বাধ্য হতে হয়েছে যে এই বিমানটি যুদ্ধক্ষেত্রে বহুমুখী কাজের জন্য সেরা। একদিকে শত্রুর অবস্থান নিখুত নিরুপন থেকে শুরু করে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে নেমে শত্রুর ঘাটিতে নিখুত আক্রমন চালানোর জন্য ইতোমধ্যেই বিখ্যাত হয়েছে বিমানগুলো। সিরিয়ার আকাশে এই বিমান অভিযান শুরু হলে পশ্চিমা বিমানবাহিনীগুলো স্রেফ নিশ্চুপ হয়ে যায়। অন্যান্য স্টিলথ বিমানের তুলনায় এই বিমানের সেন্সর অনেক নিখুত এবং শত্রু পক্ষের রাডার খুব সহজেই ফাঁকি দিয়ে আক্রমন চালাতে পারদর্শী। তবে রাশিয়ার বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয় যে, তারা এই বিমানটি মূলত অতিমাত্রার গতির কথা মাথায় রেখেই তৈরি করা হয়েছে।

অ্যাকটিভ স্ক্যানড অ্যারি রাডার(এইএসএ)
বিশ্বের অধিকাংশ রাডারই মূলত একই পদ্ধতি অনুসরণ করে তৈরি করা। পেন্সিল আকৃতির লেসার বীম দিয়ে তৈরি করা হয় এই রাডারগুলো। শত্রু পক্ষের বিমান বা নৌজাহাজ একটি নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে আসলে ওই রাডারগুলো সঙ্কেত প্রদান করে। কিন্তু তারপরেও বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলো এমন অনেক বিমান তৈরি করেছে বা কিছু প্রযুক্তি আবিষ্কার করেছে যা দিয়ে সহজেই শত্রু পক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিয়ে হামলা চালানো যায়। কিন্তু রাশিয়ার তার নিজস্ব প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করেছে উন্নত এইএসএ রাডার সিস্টেম। এই রাডার দিয়ে যে শুধু শত্রুদের গতিবিধিই লক্ষ্য করা যাবে তা নয়, পাশাপাশি শত্রুপক্ষের রাডারকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অকেজোও করে দেয়া যাবে। ইতোমধ্যেই রাশিয়ার বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে এই রাডার ব্যবহার করেছে, সবচেয়ে বড় কথা টি-৫০ স্টিলথ বিমানের সঙ্গেও সংযুক্ত করা হয়েছে এই রাডার।

টি-১৪ আরমাতা ব্যাটল ট্যাংক
চলতি বছরের মার্চ মাসে এক অদ্ভুতদর্শন ট্যাংক মস্কোর রাস্তায় দেখা যায়। যতক্ষণ পর্যন্ত ট্যাংকটি বিশাল লরির মধ্যে তারপুলিনে বাধা ছিল ততক্ষণ পর্যন্ত কেউই এর ভেতরে কি আছে আন্দাজ করতে পারেনি। রাশিয়া এযাবৎ যতগুলো ট্যাংক আবিষ্কার করেছে তার মধ্যে এটি সবচেয়ে আধুনিক ও ধ্বংসাত্মক। ওজনে হালকা এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় যেকোনো পরিস্থিতিতে এই ট্যাংক তার সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রদর্শন করতে পারে। নতুন যে কামান ব্যবহার করা হয়েছে এই ট্যাংকে তা ইতিহাসের সকল ট্যাংকের তুলনায় নিখুত এবং এর আর্মারও অনেক শক্তিশালী। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীকে এটা বলতে হয়েছে যে, একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দিয়ে মিসাইল নিক্ষেপ করলেও এই ট্যাংকের তেমন কোনো ক্ষতি হবে না। ক্ষয়ক্ষতির হিসেবের বাইরেও এর রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি এলাকা পর্যন্ত দেখার ক্ষমতা, অর্থাৎ যেকোনো পরিস্থিতিতে কামানের নল সম্পূর্ণ ৩৬০ ডিগ্রিতেও নিয়ে যাওয়া যাবে। আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আরও ২৩০০ ট্যাংক তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।

ইয়াসিন অ্যাটাক সাবমেরিন
সোভিয়েত ইউনিয়ন থাকাকালীন সময়ে থেকেই সাবমেরিন তৈরিতে দক্ষ রাশিয়া। এখন পর্যন্ত রাশিয়ার তৈরিকৃত সাবমেরিনগুলোই বিশ্ববিখ্যাত। আর তাই রাশিয়ার সাবমেরিন বাহিনীকে ঠেকানোর জন্য পশ্চিমারা কম চেষ্টা করেনি। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে নানান স্থানে দীর্ঘমেয়াদে সাবমেরিন মোতায়েন করে রাখা হয়েছে যাতে কোনো রুশ সাবমেরিন অনুপ্রবেশ না করতে পারে। সর্বশেষ ১৯৮০ সালে রাশিয়ার একটি সাবমেরিন দুর্ঘটনার কারণে অনেকদিন পর্যন্ত সাবমেরিন নির্মান থেকে বিরত ছিল দেশটি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারা তৈরি করেছে ইয়াসিন সাবমেরিন। পানি থেকে আকাশে মিসাইল নিক্ষেপ থেকে শুরু করে অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে টর্পেডো নিক্ষেপের মতো কাজে এই সাবমেরিন সিদ্ধহস্ত। এই সাবমেরিন সাগরের তলদেশে নামার পর থেকে দুশ্চিন্তায় আছে যুক্তরাষ্ট্রের আল্ট্রা সাবমেরিনগুলো। কারণ ওই সাবমেরিনগুলোর রাডার রেঞ্জে ইয়াসিন ধরা না পরলেও, ইয়াসিনের রাডারে ঠিকই তাদের দেখা যায়।