ধোনির জীবনে প্রধান শত্রু কে?

গোটা দেশ বলে, ধোনির অসংখ্য শত্রু। আর রাঁচির রাজপুত্র কী বলছেন? তাঁর দাবি, তিনি অজাতশত্রু। তাঁর কোনও শত্রুই নেই। এই পর্যন্ত পড়ে অনেকেই বিস্মিত হতে পারেন। বলে কী লোকটা! তাঁর শত্রু কেউ নেই? অথচ তাঁরই তো শত্রু হওয়া উচিৎ। প্রথমত, তিনি দেশের সফলতম অধিনায়ক।

তার উপরে তাঁর জমানাতেই একের পর এক সিনিয়র ক্রিকেটার অবসর গ্রহণ করেছেন। নিন্দুকেরা এর জন্য আসামীর কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন ধোনিকেই। সেই ধোনি বুক বাজিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁর জীবনে কোনও শত্রুই নাকি নেই।

দেশের সফলতম অধিনায়কের হাত ধরেই ভারতীয় ক্রিকেট সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেছে। আবার তাঁর আমলেই জুতো জোড়া তুলে রেখেছেন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, ভিভিএস লক্ষ্মণ, রাহুল দ্রাবিড়, সচিন তেন্ডুলকরে্র মতো তারকারা। ভারতীয় ক্রিকেটে একে একে নিবেছে দেউটি। এর জন্য প্রবল সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল ধোনিকে। সৌরভ-ভক্তরা ধোনিকেই ভিলেন মানেন।

আনুষ্ঠানিক অবসর ঘোষণার দিন বীরেন্দ্র সহবাগ তো ভুলেই গিয়েছিলেন ধোনিকে। তাঁর বিদায়ী ভাষণে সৌরভ, সচিনের কথা উল্লেখ করলেও ধোনির নাম উচ্চারণ করেননি সহবাগ।

যুবরাজ সিংহ-র বাবা যোগরাজ সিংহ ধোনির একনম্বর সমালোচক। তাঁর পুত্র যুবরাজ দল থেকে বাদ পড়লেই ধোনিকে ভিলেন সাজাতেন যোগরাজ। গোটা দেশে বলে বেড়াতেন, ধোনির জন্যই দল থেকে বাদ পড়তে হয়েছে ছেলে যুবিকে। ধোনি কিন্তু কোনও শব্দ খরচ করেননি।

ধোনির বায়োপিক ‘এমএস ধোনি: দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ দিনের আলো দেখতে চলেছে চলতি মাসের ৩০ তারিখ। রাঁচির রাজপুত্রের জীবনের অনেক অকথিত কাহিনি জানা যাবে এই বায়োপিক মুক্তি পেলে। দেশের সফলতম অধিনায়কের শত্রুদের মুখগুলো পরিষ্কার হয়ে যাবে সবার সামনে।

স্বয়ং মাহি বলেন, ‘গোড়ায় আমার মনে হয়েছিল কোন বিষয়ের উপরে আমার ছবি তৈরি করা হচ্ছে? আমার জীবনে তো কোনও ভিলেনই নেই।’ সাম্প্রতিক হিন্দি ছবিতে দেখা যায় শক্ত হাতে শত্রুকে দমন করছেন নায়ক। ধোনির জীবনে যেহেতু কোনও ভিলেন নেই, তাই তাঁর মধ্যে সংশয় ছিল।

ছবিটির বিষয়বস্তু তাহলে কী হবে? দেশের সফলতম অধিনায়ক আগেই ছবির পরিচালকদের জানিয়েছিলেন, তাঁর লড়াইটাই যেন তুলে ধরা হয়। অন্য কিছু না দেখালেও চলবে। — এবেলা