দেখতে ইলিশের মতো, আসলে তা ইলিশ নয়

ইলিশের মতো দেখতে সামুদ্রিক চন্দনা, সার্ডিন ও চৌক্কা মাছ ইলিশ বলে বিক্রি হচ্ছে দেদার। মাছ তিনটি স্বাদে-গন্ধে ইলিশের ধারেকাছেও নয়। তবে পার্থক্য না বোঝায় ইলিশ ভেবে সার্ডিন ও চৌক্কা কিনে ঠকছেন অনেকে। রাজধানীর বিভিন্ন অলিগলিতে রাতে আলো-আঁধারিতে কিছু ব্যবসায়ী এসব মাছ ইলিশ বলে প্রায়ই বিক্রি করে থাকে।

ইলিশের মতো দেখতে ‘চন্দনা’ মাছকে কেউ কেউ সার্ডিন, চাকোরি, কলম্বো ও ডটেড গিজার্ড শাড নামেও চেনেন। মাছটি সমুদ্রে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। এই মাছের গায়ের রঙ ইলিশের মতো সাদা হলেও পিঠ ইলিশের মতো সুরমা রঙের নয়। চোখ বড়। ইলিশের মতো ততটা চ্যাপ্টাও নয়। আকারে এবং দেখতে অনেকটাই ইলিশের কাছাকাছি। সামুদ্রিক ইলিশ বলে চালিয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ এ মাছকে ফুইট্টা ইলিশ বলে থাকেন।

এ মাছের স্বাদ ইলিশের মতো না হলেও মন্দ নয়। যাদের ইলিশ কেনার সামর্থ্য নেই, তারাই মূলত ইলিশের স্বাদ নিতে অপেক্ষাকৃত কম দামে এই ‘চন্দনা ইলিশ’ কিনে থাকেন। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাদে পার্থক্য থাকলেও ইলিশের ছোট আকারের একটি প্রজাতিই হচ্ছে এই চন্দনা। একসময় সার্ডিনিয়া দ্বীপের কাছে এই মাছ প্রচুর পাওয়া যেত বলে নাম সার্ডিন। এই মাছকে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় ফুইট্টা ইলিশ বলা হয়। এ ছাড়া রাজধানীর বাইরে সিলেট ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ এই মাছকে চন্দনা ইলিশ নামেই চেনেন।

পশ্চিমবঙ্গের তিস্তায়ও ইলিশের মতো দেখতে একটি মাছ পাওয়া গেছে। মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের দাবি, ওই মাছ ‘টেনিওয়ালোসা’ গোত্রের ‘টোলি’ মাছ। একই গোত্রভুক্ত ইলিশ। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে জাটকা ছাড়াও ইলিশের মতো বা কাছাকাছি দেখতে চাপিলা, সার্ডিন ও চৌক্কা পাওয়া যায়। সরকার ১০ ইঞ্চি পর্যন্ত ছোট ইলিশকে জাটকা ঘোষণা করেছে। স্থানীয় ভাষায় সার্ডিনকে টাকিয়া এবং চৌক্কাকে চৌক্কা ফাঁইসা বা চটপটিও বলা হয়।

জানা যায়, সাগরে সারা বছরই কমবেশি সার্ডিন ও চৌক্কা ধরা পড়ে। চৌক্কার মাথা লম্বাটে ও সুচালো। সার্ডিনের মাথা বড় ও সামনের অংশ ভোঁতা। চাঁদপুরের জেলে আইয়ুব আলী বলেন, সার্ডিন ও চৌক্কা সমুদ্রের মাছ হলেও অনেক সময় নদীর মোহনায় চলে আসে। জেলেদের জালে ইলিশের সঙ্গে এসব মাছও ধরা পড়ে। কারওয়ান বাজারের মাছ আমদানিকারক হাফিজ শেখ বলেন, বিদেশ থেকেও সার্ডিন আমদানি হয়। ওমান থেকে সার্ডিন মাছ আমাদের দেশে আসে। দামে কম বলে গরিবের মাছ হিসেবেই আমদানি করে ব্যবসায়ীরা। বাজারে সব সময় এ মাছের চাহিদা ভালোই থাকে।

সূত্র: সমকাল