আকাশ ছিল স্বছ ,সমুদ্র ছিল শান্ত, তাই টাইগাররা তীরে এসে নিজেদের জাহাজ নিজেরাই ডুবিয়ে দিলেন !

আকাশ ছিল স্বছ ,সমুদ্র ছিল শান্ত, তাই টাইগাররা তীরে এসে নিজেদের জাহাজ নিজেরাই ডুবিয়ে দিলেন ! অনেক সময় শিরোনাম হয় তীরে এসে  তরী ডুবল তখনই এই শিরোনাম হয় যখন খেলা ব্যাটে বলে অসাধারণ কেউ ফাইটিং করে এসে যখন শেষের দিকে হেরে যায় , গতকালের ম্যাচে তা ছিল না প্রচণ্ড উত্তাপ ও ক্ষিপ্র গতিতে চলছিল হটাৎ টাইটানিক এর মত বিনা মেঘে বজ্রপাতে এক নিমিষেই সব ধুলিসাৎ।  ইংলিশদের দেয়া ৩১০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ইমরুল কায়েসের অনবদ্য শতকে জয়ের খুব কাছে গিয়ে বৃষ্টির মত উইকেট ঢেলে দিয়ে হেরে গেল টাইগাররা। ৩১০ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ২৭১ রান পর্যন্ত দাপটের সঙ্গেই খেলেছিল বাংলাদেশ।

প্রতিটি মুহূর্তেই জয়ের পাল্লা ছিল বাংলাদেশের দিকেই। শেষমেষ হাতের মুঠোয় এসে বেরিয়ে গেল ম্যাচ। শেষ ৬ উইকেট তুলে নিতে সফরকারী বোলাররা ব্যয় করেছে মাত্র ১৭ রান। ১০ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৮৮ রান।

২৭১ রানের মাথায় সাকিব আল হাসান আউট হওয়ার পরও বাংলাদেশের হাতে ছিল ৫ উইকেট। প্রয়োজন ছিল মাত্র ৩৯ রান। কিন্তু সহজ এই লক্ষে পৌঁছাতে সক্ষম হননি শেষ ৫ ব্যাটসম্যান। ইমরুল কায়েসের ১১২ ও সাকিব আল হাসানের ৭৯ রানে নিশ্চিত জয়ই দেখছিল বাংলাদেশ।

এর আগে বেন স্টোকসের শতক, অভিষেক হওয়া বেন ডাকেটের অর্ধশতক ও অধিনায়ক জস বাটলারের ৩৭ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে স্বাগতিক বাংলাদেশকে ৩১০ রানের লক্ষ্য

দিতে সক্ষম হয় সফরকারী ইংল্যান্ড।

নির্ধারিত ৫০ ওভারের খেলা শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩০৯/৮। ক্যাচ মিসের মহা-উৎসবের মধ্যেই বাংলাদেশের পক্ষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা, শফিউল ইসলাম ও সাকিব আল হাসান দু’টি করে উইকেট পেয়েছেন। স্পিনারদের মধ্যে একমাত্র সাকিবই উইকেটের দেখা পেয়েছেন।

তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে শুক্রবার টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার। ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান জেসন রয় ও জেমস ভিন্স। দুজন বেশ দ্রুততার সঙ্গেই সংগ্রহ করেন ৪১ রান।

৭.২ ওভারের মাথায় প্রথম উইকেটের পতন হয় ইংল্যান্ডের। স্বাগতিকদের পক্ষে প্রথম আঘাত হানেন শফিউল ইসলাম। তার বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ভিন্স। জেসন রয়ের সাথে যোগ দেন জননি ব্যারিস্টো। দুজনে মিলে দলীয় সংগ্রহ নিয়ে যান ৬১ রানে। এ পর্যায়ে সাফল্য পান সাকিব আল হাসান।

৪১ রান করে জ্বলে ওঠার বার্তা দেয়া জেসন রয়কে ফেরান এই অলরাউন্ডার। শেষ হয় সফরকারীদের উদ্বোধনী জুটি। দলীয় স্কোরে মাত্র ২ রান যোগ হতে না হতেই সাব্বির রহমানের এক দুর্দান্ত থ্রোয়িংয়ে সাজঘরে ফেরেন ব্যারিস্টো। দলীয় স্কোর দাঁড়ায় ৬৩/৩।

এরপরই শুরু হয় বেন স্টোকস ও বেন ডাকেটের দায়িত্বশীল ব্যাটিং। এই পার্টনারশিপে ইংল্যান্ডের স্কোরে যোগ হয় ১৫৩ রান। স্টোকসের দু’টি ক্যাচ না ফেললে হয়তবা আরো আগেই সাঙ্গ হতে পারতো এই জুটি।

২১৬ রানের মাথায় সফরকারীদের চতুর্থ উইকেটের পতন হয়। শফিউলের বলে ক্লিন বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন অভিষেকে অর্ধশতক করা বেন ডাকেট। ৭৮ বল খেলে ৬০ রান সংগ্রহ করেন তিনি।

দলীয় ২৩০ রানের মাথায় বেন স্টোকসকে আউট করে সফরকারীদের রানের লাগাম টেনে ধরেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তার বলে সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচ দেন স্টোকস। ৩৭ বলে ৬৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় স্কোর এনে দেন জস বাটলার।