তিস্তার চরাঞ্চলে সবুজের সমাহার, কৃষকের মুখে হাসি

আজিজুল ইসলাম বারী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাট জেলা জুড়ে প্রতি বছর শুস্ক মৌসুমে তিস্তা নদীর বিশাল চরে পরিনিত হয়। তিস্তার পানি না থাকায় জেগে উঠা বিশাল চর জুড়ে দেখা যায় সবুজের সমারোহ।

তিস্তা বুকে যেন সবুজের হাত ছানি।তিস্তা নদীর পলিমাটি, বালুচর কিংবা চরের অনাবাদী ভূমি এখন বিভিন্ন ধরনের ফসলের ভরপুর চারন ভূমি।তিস্তার পানি নেমে যাওর সাথে সাথেই চর গুলোতে জমি তৈরি, বীজ বপন,পরিচর্যা বা ফসল তোলার ধূম-এমনসব দৃশ্য চোখে পড়ার মত। চরাঞ্চলের কৃষিকাজ অনেকটাই এখন নারী শ্রমিকদের দখলে।

তাদের কর্মমুখর শ্রমের বিনিময়ে অনেক পরিবারই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে।চরাঞ্চলেই এবার ভুট্টা সহ কয়েকটি ফসলের ফলন হচ্ছে বাম্পার। আর চিরাচরিত কয়েকটি ফসল ছাড়াও যোগ হয়েছে একাধিক নতুন সবজির চাষ। সবজির আবাদ সবচেয়ে বেশি হয়েছে তিস্তার চরাঞ্চলে এবং ফলনও হচ্ছে ।

তিস্তা চরে সবজি চাষ করে অনেক পরিবার স্বাবলম্বী হয়ে উঠছে। লাউ, ধনে পাতা, লাল শাক,পুঁই শাক, মুলা শাক সহ কয়েকটি সবজি চাষ করে পরিবারে চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রয় করে বারতি আয় করছেন নারীরা।তিস্তার নদীর ধূ ধূ বালুচরে ও চর এলাকায় নানা ধরনের সবজি ও ফসলের মধ্যে উল্লেখ যোগ্য ভুট্টা, মিষ্টি কুমড়া, বাদাম, মিষ্টি আলু, মরিচ, গম, পিঁয়াজ, রসুন, আলু, ডাল, লাউ, সরিষা, ইরি বোরো, এমনকি তামাকও উৎপাদন হচ্ছে।

তিস্তা বালু চরে পিঁয়াজ ক্ষেতে কাজ করা সাজেদা বেগম (৪০) বলেন,চরে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ আর পিঁয়াজ আবাদ করছি ভাল ফলন হয়েছে। এই তিস্তা চরে আবাদ করে আমাদের সংসার চলে। জায়গা জমি নাই, তাই প্রতি বছর তিস্তার পানি কমলে সবজি চাষ করি।

তিনি আরও বলেন, সবজি চাষে যদি সরকার ঋন প্রদান করেন তাহলে আমরা উপকৃত হব।লালমনিরহাট কৃষি অফিস সুত্রে জানান, ৫ টি উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার ৫ শত হেক্টর তিস্তা চরে সবজি ও ফসল চাষ আবাদ হয়েছে। চরে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।