তাসকিনই জয়ের নায়ক

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের বাংলাদেশ দলে একটি জায়গা ফাঁকাই রাখা হয়েছিল পেসার তাসকিন আহমেদের জন্য। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আফগানিস্তানের বিপক্ষেই উইকেট শিকার শুরু করেছেন। ফেরার ম্যাচে দারুণ বোলিং করে বাংলাদেশকে জয়ও এনে দিলেন এই ফাস্ট বোলার। সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আফগানদের ৭ রানে হারিয়ে দিয়েছে টাইগার বাহিনী।

মিরপুরে প্রথম একদিনের ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের দেয়া ২৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাশরাফির করা ইনিংসের সপ্তম ওভারের শেষ বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন মোহাম্মদ শাহাজাদ (৩১)। অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে শাবির নূরিকে (৯) এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলেন সাকিব আল হাসান। ৪৬ রানে ২ উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে শতরানের জুটি জুটি গড়ে প্রতিরোধ গড়েন হাশমতউল্লাহ শাহিদি ও রহতট শাহ। দুজনই তুলে নেন ফিফটি। দলীয় ১৯০ রানে রহমতকে ফিরিয়ে ১৪৪ রানের জুটি ভাঙেন সাকিব। মুশফিকের হাতে স্টাম্পড হন রহমত (৭১)।

এরপর দলীয় ২১০ রানে হাশমতউল্লাহ শাহিদিকে সৌম্য সরকারের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন তাইজুল ইসলাম। দলীয় ১৩০ রানে নজিবুল্লাহ জাদরানকে মুশফিকের ক্যাচে পরিণত করেন মাশরাফি।শেষ তিন ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২৭ রানে। তবে ৪৮তম ওভারে তিন বলের ব্যবধানে মোহাম্মদ নবী (৩০) ও আসগার স্টানিকজাইকে (১০) বিদায় করেন নিষেধাজ্ঞা থেকে ফেরা তাসকিন আহমেদ। শেষ দুই ওভারে ৩ উইকেট হাতে রেখে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ২১ রান। ওভারের পঞ্চম বলে রশিদ খান রুবেলকে চার মারেন। তবে পরের বলেই তাকে বোল্ড করেন রুবেল।

শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন পড়ে ১৩ রান। তবে তাসকিনের দারুণ বোলিংয়ে ৮ রানের বেশি নিতে পারেনি সফরকারীরা। দ্বিতীয় বলে মিরওয়েজ আশরাফ ও দৌলত জাদরানকে আউট করে বাংলাদেশকে রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন তাসকিন। ৮ ওভারে ৫৯ রানে মূল্যবান ৪ উইকেট নেন তরুণ ফাস্ট বোলার। টাইগার দের হয়ে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম আঘাত হেনেছেন অধিনায়ক মাশরাফি মর্তুজা। এর রেশ ফুরাতে না ফুরাতে সাকিব আল হাসান নেন আরেক উইকেট। তবে এরপর আফগান মিডল অর্ডারের দুই ব্যাটসম্যান রহমত শাহ ও হাসমতুল্লাহ শহিদির জুটিতে ভর করে ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা।রহমত ৭১  করে ফিরে গেলেও হাসমত ৭১ রানে ব্যাট করছেন।

এর আগে আফগানিস্তানকে ২৬৬ রানের টার্গেট দেয় বাংলাদেশ। আজ মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশ নির্ধারিত ৫০ ওভারে সবক’টি উইকেট হারিয়ে ২৬৫ রান সংগ্রহ করে। ওপেনার তামিম ইকবাল স্বাগতিক দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৮০ ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬২ রান সংগ্রহ করেন। অল রাউন্ডার সাকিব আল হাসান সংগ্রহ করেন ৪৮ রান। আফগানিস্তানের হয়ে সর্বাধিক ৪ উইকেট সংগ্রহ করেন দৌলত জাদরান। দু’টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ নবী ও রশিদ খান। টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের পঞ্চম বলেই পুল করতে গিয়ে ক্যাচ দেন সৌম্য সরকার (০)। দলীয় ১ রানে সৌম্যর বিদায়টা বিপদের ঘনঘটা বয়ে আনেনি। ব্যাট হাতে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে আর্বিভূত হন তামিম ও ইমরুল।

তাদের নির্ভেজাল ব্যাটিংয়ে এগিয়েছে বাংলাদেশের ইনিংস। ওয়ানডে দলে আসা-যাওয়ার মাঝে থাকা ইমরুল ব্যাটিং করেছেন পরিস্থিতির দাবি মিটিয়ে। ক্রমশই লম্বা হতে থাকা তামিম-ইমরুলের ৮৩ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন হয় ১৯তম ওভারে। নবীর নিচু হয়ে আসা বলটা ইমরুলের ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দেয়। বিদায়ের আগে ইমরুল করেন ৩৭ রান। ইনিংসের শুরু থেকেই ধীরস্থির তামিমকেই দেখা যাচ্ছিল ব্যাট হাতে। সঙ্গী সৌম্য, ইমরুলরা ফিরে গেলেও দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়ার কাজটাই করছিলেন তামিম।

ইনিংসে ১৫ রান করতেই বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাটে ৯ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের ৩৩তম হাফ সেঞ্চুরি পেয়ে যান ৬৩ বলে। সেঞ্চুরিও প্রায় দৃষ্টিসীমায় ছিল। কিন্তু তার মনোসংযোগে চিড় ধরে ৩৬তম ওভারে। মিরওয়াইস আশরাফের করা ওভারের প্রথম বলে লং অফে ক্যাচ দিলেন তামিম। ইতি ঘটে তামিম-মাহমুদউল্লাহর ৭৯ রানের জুটির। ৯৮ বলে ৯টি চারে ৮০ রান করেছেন তামিম। রয়ে-সয়ে শুরু করা মাহমুদউল্লাহও একটা সময় খোলস ছাড়িয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দৌলত জাদরানের ৩৮তম ওভারে দু’টি চার ও একটি ছক্কা মারেন তিনি। ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৬৫ বলে। নবীর শিকার হওয়ার আগে ৭৪ বলে ৬২ রান (৫ চার, ২ ছয়) করেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাটিং অর্ডারে একধাপ অবনমন হওয়া মুশফিক (৬) ও সাব্বির (২) সুবিধা করতে পারেননি।

দু’জনই লেগ স্পিনার রশিদ খানের শিকার হন। সতীর্থরা আসা-যাওয়ার মাঝে থাকলেও পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে আসা সাকিব খেলে গেছেন স্বরুপে। ২ রানের জন্য হাফ-সেঞ্চুরি মিস করেছেন তিনি। ৪০ বলে ৪৮ রান করা সাকিব ৪৮তম ওভারে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন। শেষ দিকে তাইজুলের ১১ রানের ইনিংসে আড়াইশ’ পার হয় বাংলাদেশের স্কোর। মাশরাফি ৪, তাসকিন ২ ও রুবেল অপরাজিত ১ রান করেন। আফগানদের পক্ষে দৌলত জাদরান ৪টি, নবী-রশিদ খান ২টি করে উইকেট পান।