টেস্ট স্ট্যাটাস পাচ্ছে আয়ারল্যান্ড?

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সহযোগী সদস্য দেশ আয়ারল্যান্ড। নিয়মিত ম্যাচ খেলার তেমন সুযোগ মেলে না তাদের। আর টেস্ট ফরম্যাট তো এখনও দূর আকাশের তারা হয়েই আছে।

তবে ২০১৯ সালের শুরুর দিকে টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে পারে আয়ারল্যান্ড। আর তাদের প্রথম টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ইংল্যান্ডের লর্ডসে। এমনটাই জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যম ‘দ্যা টাইমস’।

আইসিসির সহযোগী সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সমন্বয়ে আয়োজিত ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন দেশটিকে টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের সর্বশেষ দেশ হিসেবে ঘরে এবং ঘরের বাইরে টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। ঘরে বা ঘরের বাইরে একটি টেস্ট ম্যাচে জয় পেলেই চ্যাম্পিয়ন দলটি পাবে টেস্ট স্ট্যাটাস।

সম্প্রতি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চার ম্যাচে চার জয় তুলে নিয়ে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে আইরিশরা। ২০১৭ সালের মার্চে দ্বিতীয় পর্বে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে দলটি। যদি আয়ারল্যান্ড এই ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে চ্যাম্পিয়ন হয় তবেই দেখা পাবে টেস্ট স্ট্যাটাসের।টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার তালিকায় সর্বশেষ নামটি বাংলাদেশের। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পায় আকরাম-নান্নু-বুলবুলদের বাংলাদেশ।

আইরিশদের ক্রিকেটে পথচলার পেছনে লুকিয়ে আছে হারানোর বেদনাও। ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের অধিনায়ক ইয়ন মরগ্যানকেই দেখা যেতে পারতো আয়ারল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে। মরগ্যান যে আইরিশ বংশোদ্ভূত ইংলিশ ক্রিকেটার। তার ক্রিকেটের শুরুটা আয়ারল্যান্ড দলেই। সেখানে অভিষেক হয়েছিল মরগ্যানের। টেস্ট খেলার আশায় ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান মরগ্যান।

আইরিশরা হারাতে বসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৪ রানের ধুন্ধুমার এক ইনিংস খেলা টপঅর্ডার ব্যাটসম্যান এড জয়েসকেও। জয়েস ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ওয়ানডে খেলেন। সেঞ্চুরি করে ২০০৭ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলেও জায়গা করে নেন। এরপর ইংল্যান্ড দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। পরবর্তী সময়ে আইসিসির বিশেষ অনুমতিতে ২০১১ বিশ্বকাপের আগে আবারও আয়ারল্যান্ড দলে ফেরেন জয়েস।

এসব ভালোই জ্বালা দিয়েছে আইরিশদের। ইংল্যান্ডের কাছে ক্রিকেটার হারানোর কারণে আইরিশরা টেস্ট স্ট্যাটাস পেতে এখন মরিয়া। পোর্টারফিল্ড, স্টার্লিং, জয়েস আর ও’ব্রায়েনরা ক্রিকেট দিয়ে নিজের দেশকে নিয়ে যাচ্ছেন অন্য উচ্চতায়।

আগামী তিন বছর তাই আয়ারল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়! — প্রিয়