জাতীয় দলে সুযোগ পেলে ভালো করার চেষ্টা করবো : মোসাদ্দেক

২৪তম ওভারে মিড উইকেট দিয়ে রশিদ খানের বলে যখন প্রথম ছক্কা হাঁকালেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সেই শট মুগ্ধ নয়নে উপভোগ করেছেন ফতুল্লা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজার তিনেক দর্শক। এরপর রহমত শাহ আর আমির হামজার বলেও ছক্কা মেরেছেন সাবলীলভাবে।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে মোহাম্মদ নবীর নিচু হওয়া বলে বোল্ড না হলে হয়তো আজকের ম্যাচের ফলাফল ভিন্নভাবে লেখা হতে পারতো। তবে প্রস্তুতি ম্যাচে অসাধারণভাবে প্রস্তুতিটা সেরে নিয়েছেন এ তরুণ। এখন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিতে পারলে আবারও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারবেন বলে প্রত্যয় প্রকাশ করলেন সদ্য জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হওয়া এ ব্যাটসম্যান।

শুক্রবার ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে বিসিবি একাদশের মাত্র তিনজন ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের কোঠা ছুঁতে পারে। দারুণ ব্যাটিং করে ৯৭ বলে ৭৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন মোসাদ্দেক। তিনটি ছক্কার পাশাপাশি ৭টি চারের মারও মারেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৪ রান করে শুভাগত হোম। এছাড়া মেহেদী হাসান মিরাজের ১৫ রান ছাড়া আর সবাই ছিলেন সাজঘরে আসা যাওয়ার মিছিলে।

এদিন একমাত্র ব্যাতিক্রম মোসাদ্দেক ব্যাটিং শেষে দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ম্যাচ শেষে মোসাদ্দেক বলেন, ‘আমি আজকে ব্যাটিং করেছি, ওদের বোলিং খেললাম। এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। আমার মনে হয়, আজ যেভাবে খেললাম, এর বাইরে তো কিছু হবে না। এরাই তো খেলবে। সুযোগ পেলে ভালো করার চেষ্টা করবো।’

তবে শুরুতে ব্যাটিংটা একটু কঠিনই ছিল স্বাগতিকদের জন্য। তার উপর মাত্র ৩৯ রানে চার উইকেট হারিয়ে কঠিন চাপে পড়ে তারা। তাই রান বের করতে সংগ্রাম করতে হয়েছে বলে জানান মোসাদ্দেক, ‘আসলে মাঠটা একটু স্লো ছিল। সেজন্য বল বের হচ্ছিলো না। যদি ফাস্ট থাকতো তাহলে বের হয়ে যেত। ওরা খুব ভালো জায়গায় বল করছিল। এছাড়া আমাদের শুরুতে উইকেট পড়ে গিয়েছিল, তাই চাপে পড়ে গিয়েছিলাম। ওখান থেকে আমাদের উঠে আসতে হয়েছে। মনে হয় সে জন্য আমাদের রান বের করতেও সমস্যা হয়েছে।’

তবে দিনশেষে হেরে যাওয়ায় নিজের ইনিংসও তৃপ্তি দিতে পারছে না মোসাদ্দেককে, ‘আমরা যখন একটা ম্যাচ খেলতে নামি তখন জেতার চিন্তা করেই নামি; কিন্তু দিন শেষে যখন ম্যাচটা হেরে যাই তখন সে আনন্দটা আর থাকে না। যদি ম্যাচটা জিতি তাহলে ২০/৩০ করলেও একটা মজা থাকে। এখন হেরে গেছি সবাই একটু হতাশ।’

জাতীয় দলের জার্সি গায়ে তোলার সুযোগ পেলে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন মোসাদ্দেক। সে ক্ষেত্রে যে কোন পজিশনেই খেলতে রাজী এ ব্যাটসম্যান। তবে সুযোগ না পেলেও এদিনের ম্যাচের অভিজ্ঞতা ড্রেসিং রুমে সতীর্থদের সঙ্গে শেয়ার করে দলে অবদান রাখতে চান এ উদীয়মান তরুণ।