চুপিসারে আসল কাজটা সেরে ফেলছেন ওয়ালশ

ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের মানুষ ভীষণ প্রাণোচ্ছল হয়। সব সময় হৈ-হুল্লোড়ে মেতে থাকতে দেখা যায় তাদের। কিন্তু বাংলাদেশের বোলিং কোচ ওয়ালশ তার পুরোপুরি উল্টো। একেবারেই নিভৃতচারী। অবশ্য খেলোয়াড়ি জীবনেও তিনি এমনই ছিলেন। তার সঙ্গী কার্টলি অ্যামব্রোস উইকেট পাওয়ার পর বুনো উল্লাসে মাতলেও তিনি থাকতেন ভীষণ নির্বিকার। তবে টাইগারদের অনুশীলনে কিংবদন্তি এ পেসার তেমন দৌড়ঝাঁপ না করলেও নীরবে ঠিকই নিজের আসল কাজটা করছেন।

মিরপুর স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ দলের অনুশীলনে কোর্টনি ওয়ালশকে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, দীর্ঘদেহী মানুষটি একা একা দাঁড়িয়ে আছেন। কখনও সেন্টার উইকেটে লাগানো নেটের পেছনে কিংবা অন্য প্রান্তে পেস বোলাররা যেখান থেকে দৌড় শুরু করেন সেখানে চুপচাপ দাঁড়িয়ে তিনি।

নীরবে দাঁড়িয়ে থাকলেও ওয়ালশের তীক্ষষ্ট দৃষ্টি সর্বদা থাকে পেসারদের দিকে এবং কারও কোনো অসুবিধা দেখলেই চুপিসারে ওই বোলারের কাছে গিয়ে পরামর্শ দেন। এই যেমন গত পরশু তাসকিন আহমেদ নেটে বোলিং করার সময় তার কাছে গিয়ে দাঁড়ান ওয়ালশ। বল ধরার ব্যাপারে হাতে-কলমে তরুণ এ পেসারকে অনেক কিছু দেখিয়ে দেন। পরে জানা গেছে, বাউন্সার ও স্লোয়ার ডেলিভারি দেওয়ার সময় কীভাবে বল ধরলে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে সেটাই বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি।

গতকাল ফিল্ডিং প্র্যাকটিসের পর মিনিট দশেকের বিরতি ছিল। তখন দেখা গেল ক্যাম্পে ডাক পাওয়া সব পেসারকে নিয়ে মাঠের মাঝখানে গোল হয়ে বসে তাদের সঙ্গে কথা বলছেন ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি। কুড়ি জনের দলে থাকা রুবেল, তাসকিন, শফিউল, আলাউদ্দিন বাবু, শুভাশীষের সঙ্গে গতকাল ক্যাম্পে যোগ দেওয়া কামরুল ইসলাম রাবি্ব ও আবু হায়দার রনিও ছিলেন। মাঠের ভেতরে সে ক্লাসে ছিলেন না কেবল অধিনায়ক মাশরাফি মুর্তজা।

ওই ক্লাসে থাকা এক পেসার জানিয়েছেন, ওয়ালশ মূলত তাদের পেস বোলিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো মেনে চলতে বলেছেন। ৫১৯ টেস্ট উইকেটের মালিক এ ক্যারিবিয়ান তাদের কিছু টিপসও দিয়েছেন। তবে তার বক্তব্যের অধিকাংশ জায়গাজুড়েই ছিল লাইন-লেন্থ বজার রেখে বোলিং করার বিষয়টি।

সংক্ষিপ্ত এ ক্লাসের আগে অবশ্য সেন্টার উইকেটে পেসারদের স্পট বোলিং করিয়েছেন তিনি। দুটি প্লাস্টিকের গোলাকার প্লেট উইকেটের মাঝে রেখে বোলারদের এর ওপর বল ফেলতে বলেন। ওই প্লেটে সবচেয়ে বেশিবার বল দিয়ে আঘাত করেন শফিউল ও তাসকিন। এ ধরনের অনুশীলন জাতীয় দলের বোলারদের জন্য মোটেও নতুন কিছু নয়। তবে ওই সময়ে ওয়ালশের টিপসগুলো নাকি নতুন ও ভীষণ অনুপ্রেরণাদায়ক।

বাংলাদেশে এসে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে ওয়ালশ নিজেই বলেছিলেন, ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি অনেক কিছু শিখেছেন। এখন সে জ্ঞান তিনি বাংলাদেশের পেসারদের মাঝে বিলিয়ে দিতে চান। তিনি তাদের পিতার মতো আগলে রাখতে চান, বন্ধুর মমতায় তাদের সঙ্গে কাজ করতে চান। গতকালের মাঠের মাঝখানে পেসারদের সঙ্গে ওই বৈঠক দেখে তেমনটাই মনে হচ্ছিল।

ওয়ালশকে বোলিং কোচ করার পর আরও একটা বিষয় বেশ ডালপালা মেলেছিল। কিংবদন্তি এ ক্রিকেটারের সঙ্গে নাকি হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের ব্যক্তিত্বের সংঘাত হতে পারে। তবে ক’দিনের অনুশীলনে এর ছিটেফোঁটাও দেখা গেল না। হাথুরুসিংহে ভীষণ কর্তৃত্বপরায়ণ। একেবারে কড়া হেডমাস্টার; কিন্তু ওয়ালশ পুরোপুরি উল্টো। কাজেই দু’জনের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা খুবই কম। বরং স্বল্পভাষী ওয়ালশের সঙ্গে হাথুরুসিংহের বেশ মজার একটা সম্পর্ক। প্রায়ই হাথুরুর সঙ্গে খুনসুটিতে মেতে উঠতে দেখা যায় তাকে। — বিডিলাইভ২৪