ঘুমের আগে এক চামচ এই ঘরোয়া মিশ্রণ, তাতেই নিশ্চিত হবে গভীর ঘুম

সবচেয়ে ভাল হয়, যদি কোনও প্রাকৃতিক উপায়ে গভীর করে তোলা যায় ঘুম। আশার কথা এই যে, সেরকম উপায় রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই।

রাত্রে গভীর এবং দীর্ঘ আট ঘন্টার ঘুম কে না চায়! কিন্তু আধুনিক যুগে আমাদের জীবনযাপন প্রণালী এমনই যে, চট করে ঘুম আসতেই চায় না। ঘুম এলেও তা হয় পাতলা ঘুম। কিংবা একটানা দীর্ঘক্ষণ ঘুম হতে চায় না। আসলে আধুনিক জীবনে এতরকম উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা আর স্ট্রেস নিয়ে আমরা বাঁচি যে, রাত্রে ঘুমের সময়েও শরীর ও মনের সম্পূর্ণ ও প্রয়োজনীয় রিল্যাক্সড অবস্থাটি অর্জন করা যায় না।

অনেকে ঘুমের ওষুধের উপর ভরসা করেন। কিন্ত‌ু রোজ ঘুমের ওষুধ খাওয়ার কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও রয়েছে। তাই সবচেয়ে ভাল হয়, যদি কোনও প্রাকৃতিক উপায়ে গভীর করে তোলা যায় ঘুম। আশার কথা এই যে, সেরকম উপায় রয়েছে আমাদের হাতের কাছেই।

সম্প্রতি বেইজিং ইনস্টিটিউট অফ হারবাল রেমেডিজ থেকে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে বাতলে দেওয়া হয়েছে এমন একটি প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায় যার সাহায্যে অনায়াসে নিশ্চিত করা যাবে রাত্রের সুগভীর ঘুম।

ওই গবেষণাপত্রে একটি বিশেষ মিশ্রণের কথা বলা হচ্ছে যাতে ঘুমের ওষুধের চেয়ে অনেক ভাল কাজ হবে, কিন্তু কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভয় থাকবে না। কীভাবে বানানো যায় সেই ঘরোয়া মিশ্রণ? প্রথমে জেনে নেওয়া যাক, কী কী লাগবে সেই মিশ্রণ প্রস্তুত করতে। লাগবে সামান্য দু’টি জিনিস—

  • ৫ চা চামচ বিশুদ্ধ মধু এবং
  • ১ চা চামচ সামুদ্রিক লবণ বা সৈন্ধব লবণ (ভাল হয় হিমলয়ান সি সল্‌ট পেলে)।

এবার জেনে নিন কী করতে হবে। এই দু’টি উপাদান মিশিয়ে একটি বোতলে বা শিশিতে করে ফ্রিজে রেখে দিন। রাত্রে শুতে যাওয়ার আগে এক চা চামচ পরিমাণ ওই মিশ্রণ রেখে দিন জিভের তলায়। আধ ঘণ্টার মধ্যে দেখবেন, গভীর ঘুমে ঢুলে পড়েছেন।

কিন্তু কীভাবে কাজ করে এই মিশ্রণ? গবেষণাপত্রে বলা হচ্ছে, সামুদ্রিক লবণে ৮টি এমন খনিজ লবণ থাকে যা শরীরের সামগ্রিক কাজকর্মকে সুচারুভাবে সুসম্পন্ন হতে সাহায্য করে। আর মধুতে যে গ্লুকোজ থাকে, তা শরীরের কোষগুলিকে যথাযথভাবে শিথিল হতে সাহায্য করে। ফলে এই দু’টি জিনিসের সংমিশ্রণ অতি সহজেই ঘুম এনে দেয় চোখে।