কাশ্মীর নিয়ে পাক-ভারত যুদ্ধ উত্তেজনার মধ্যেই পাক তরুণীকে বিয়ে করলেন কাশ্মীরি পুলিশ কর্মকর্তা

উরি সেনাঘাঁটিতে হামলার পর,  সীমান্তে ভারত-পাক সম্পর্ক এখন যথেষ্ট অস্থির। আর  কাশ্মীরে যখন যুদ্ধের ডামাডোল, উদ্বেগ , উত্তেজনা, আতঙ্ক চরমে ঠিক এরকম একটি সময়ে ভারত শাসিত কাশ্মীরের এক তরুণ পুলিশ কর্মকর্তা পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের এক তরুণীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।

ওয়াইজ গিলানি নামের ওই তরুণ জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর। পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদের বাসিন্দা ফাইজা গিলানির সাথে সম্প্রতি ওই তরুণ পুলিশ কর্মকর্তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। গত ৭৮ দিনের সংঘাত সংঘর্ষে বিপর্যস্ত কাশ্মীরের মুজাফফরাবাদে অল্প কিছু ঘনিষ্ঠ আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ে হয়।

কাশ্মীর উপত্যকার সবচেয়ে উত্তপ্ত অঞ্চলের নিকটে স্থানীয় একটি হোটেলে কঠোর গোপনীয়তায় বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। দুই পরিবার পূর্ব থেকেই আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ কিন্তু দেশভাগের সময় তারা পৃথক হয়ে যায়।

অবশ্য ২০১৪ সালে যখন শ্রীনগর ও মুজাফফরাবাদের মধ্যে ‘শান্তি বাস সার্ভিস’ চালু ছিল তখন তাদের ‘আকদ’ হয়েছিল। পরে কাশ্মীরে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই বাস সার্ভিস বন্ধ করে দেয়া হয় এবং গিলানি পরিবার পড়ে সঙ্কটে।

বরের পিতা সাবির গিলানি বলেন, ‘উপত্যকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় বেশ কয়েকবার বিয়ের তারিখ পরিবর্তন করা হয়। লাইন অব কন্ট্রোলের মধ্যকার বাস সার্ভিস বন্ধ থাকায় দুই পরিবার একত্রিত হতে পারছিল না। অবশেষে সোমবার দুই পরিবার একত্রিত হতে পেরে বিয়েটা সম্পন্ন করা হল’।

কাশ্মীরের পুলিশের সাথে স্বাধীনতাকামীদের সংঘর্ষ যখন নিয়মিত ঘটনা এমন সময়ই তাদের জীবনের নতুন অধ্যায় রচিত হল। গত ৯ জুলাই হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সংঘর্ষে এ পর্যন্ত কমপক্ষে ৯০ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

বরের পিতা বলেন, ‘১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় তাদের পরিবার আলাদা হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পর আবারো তারা মুজাফফরাবাদে একত্রিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত’।

তিনি বলেন, ‘যুগ যুগ ধরে চলা কাশ্মীর সমস্যার সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী সীমান্তের দুই পারের মানুষরা। আমি মনে করি সীমান্তবর্তী সব রাস্তা খুলে দেয়া হলে দুই পারের মানুষদের আন্তরিকতা বাড়বে এবং দ্বন্দ্ব সংঘাতেরও নিরসন ঘটবে’।

তিনি আরো বলেন, ‘ সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়া হলে দুই পাশের সরকারও পরস্পরকে আরো ভালোভাবে বুঝতে সক্ষম হবে এবং যুগ যুগ ধরে চলা সঙ্কটের সমাধানের পথ হয়তো খুঁজে পাবে’।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস