কাঁটাতারের বেড়ায় ঘেরা হবে মিয়ানমার সীমান্ত

মাদক চোরাচালান ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মিয়ানমার সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে টহল জোরদারের জন্য জলসীমান্তের পাশ দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপনের জন্য পাঠানো হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ এবং বিজিবি ও কোস্টগার্ড সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল নিশ্চিত করা গেলে মাদক চোরাচালান ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যাবে। তাই সার্বিক গুরুত্ব উল্লেখ করে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে।

 জানা যায়, মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত ২৯০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১১৭ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হবে। এ ছাড়া ৫৪ কিলোমিটার জলসীমান্তের পাশ দিয়ে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হবে। মিয়ানমারের সাবেক সামরিক সরকারের আমলে চার ধাপে দেশটির বাংলাদেশ সীমান্তের ২২৬ কিলোমিটার কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করা হয়। অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন দল এনএলডি সরকার গঠনের পর বাকি ৬৪ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিমধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে।

মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে, অরক্ষিত সীমান্তপথে তাদের দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির সদস্যরা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। তাদের অভিযোগ সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার বরাবরই জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছে। এই অভিযোগ ছাড়াও অন্যান্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর প্রধানদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে বিজিবির পক্ষে বাংলাদেশ অংশে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের বিষয়টি জানানো হলে তারা স্বাগত জানায়।

বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল আজিজ আহমেদ সমকালকে বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে বিজিবি অত্যন্ত আন্তরিক। সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক চোরাচালান ঠেকাতে ইতিমধ্যে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তারা একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ থেকে উখিয়া পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার স্থলসীমান্ত সড়ক রয়েছে। অন্য অংশে সড়ক না থাকায় বিজিবি নিয়মিত টহল দিতে পারে না। এ কারণে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের পাশাপাশি মাদক পাচার হয়ে আসছে। স্থলসীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া ও সড়ক নির্মাণ করা হলে চোরাচালান বন্ধে অগ্রণী ভূমিকা রাখা যাবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার অপরাধও কমে আসবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, টেকনাফের নয়াপাড়া, মুছনী, উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় পাঁচটি শিবিরে অন্তত তিন লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করেন। পাহাড়-জঙ্গল দখল করে বসতি করছে আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা। তারা মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত করছে। তাদের একটি অংশ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত। ওই অংশের মাধ্যমে দেশে ঢুকছে ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের বড় চালান। অনেক রোহিঙ্গার বিরুদ্ধে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি মদদ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষিত না থাকায় প্রতিদিনই নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও টেকনাফের ৫৫টি পয়েন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে। সীমান্ত এলাকার একটি সূত্র জানায়, মাঝে-মধ্যে বিজিবির হাতে মাদকের চালান ধরা পড়ে। তবে চালানোর বড় অংশই ফাঁক গলিয়ে বেরিয়ে যায়। তাই সীমান্তের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা জরুরি।

বিজিবির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, সারাদেশে সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করার লক্ষ্যে আরও চারটি সেক্টর ও ছয়টি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টার নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে সীমান্তে ৮৫টি নতুন বিওপি স্থাপন করা হচ্ছে। আরও ৬৫টি বিওপি স্থাপন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। – সমকাল