ওয়ালশের ছোঁয়ায় আরো দুর্ধর্ষ হবেন তাসকিন

আশা তো ছিলই এর সঙ্গে ছিল উৎকণ্ঠাও। যদি কিছু হয়। তাসকিন যে নির্দোষ তা সবারই জানা! তবু ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলতে নেমেই যখন অভিযুক্ত হলেন, তখন সবার মাঝেই ছিল অজানা এক আতঙ্ক। বাস্তবেও সেটা হলো। নিষিদ্ধ। গত বেশ কয়েক মাসের কঠোর পরিশ্রমে যদি কিছু থেকেও ছিল সেটাও মুক্ত হয়ে গিয়েছিলেন ব্রিসবেনে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ছিল আরাফাত সানিও। তবে সানির ব্যাপারে অতটা হইচই ছিল না। তবে কঠোর পরিশ্রম করেছেন এ স্পিনারও। ব্রিসবেনে দুইজনই পরীক্ষা দেন এবং উত্তীর্ণও হলেন।

গতকাল আইসিসি খবর দিয়েছে, বাংলাদেশের দুই বোলার তাসকিন আহমেদ ও আরাফাত সানি তাদের বোলিং অ্যাকশন ত্রুটি মুক্ত করতে পেরেছেন। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে তাদের আর কোনো বাধা নেই। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে এ খবর ছড়িয়ে পরার সঙ্গে সঙ্গে নেমে আসে স্বস্তি। মুক্ত তাসকিন আফগানিস্তানের বিপক্ষেই খেলবেন। তবে আরাফাত সানিরও একটু অপেক্ষা করতে হবে বৈকি!

এ দিকে গতকাল শুক্রবার বিকেলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিসি জানায়, ‘ব্রিসবেনের পরীায় বৈধ প্রমাণিত হয়েছেন বাংলাদেশের দুই বোলারের বোলিং অ্যাকশন।’ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে দল ঘোষণার সময়ই প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বলেছিলেন, তাসকিনের ইতিবাচক ফল আসবে ধরে নিয়েই একটি জায়গা ফাঁকা রেখে ১৩ জনের স্কোয়াড দেয়া হয়েছে। সানিকে আরেকটু সময় দিতে চান। নতুন অ্যাকশনে এই বাঁহাতি স্পিনারকে আরো অভ্যস্ত হওয়ার সময় দিতে চান নির্বাচকেরা, আরেকটু পরখ করে নিতে চান ঘরোয়া ক্রিকেটে। ভারতে অনুষ্ঠিত টি-২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের প্রথম ম্যাচেই অভিযুক্ত হয়েছিলেন তারা। ৯ মার্চ ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপে ম্যাচে প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাসকিন ও সানির বোলিং অ্যাকশন।

পরে চেন্নাইয়ে অ্যাকশনের পরীা দেন দু’জনই। তাতে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়া নিয়েও তুমুল সমালোচনা হয়। বাংলাদেশ দলেও নেমে আসে অস্বস্তি। অনেকেই এটাকে একটা কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র হিসেবে ব্যাখ্যা দেন। কারণ বাংলাদেশের বোলিং স্কোয়াডের ভয়ে তটস্থ ছিল অনেক দল। এর সূত্র ধরেই ১৯ মার্চ অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে দুইজনকেই বোলিংয়ে নিষিদ্ধ করে আইসিসি। ২১ মার্চ তাসকিনের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করে বিসিবি। দুই দিন পর জুডিশিয়াল কমিশনার বহাল রাখেন ওই নিষেধাজ্ঞা। এরপর দেশে ফিরে অ্যাকশন শোধরাতে কাজ করেন দুইজন। তবে এদের জন্য ঘরোয়া ক্রিকেট ছিল উন্মুক্ত।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আবাহনীর হয়ে খেলেন তাসকিন। সানি আরেকটু নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য লিগের শুরুর বেশ কটা দিন খেলেননি, শুরু করেন মাঝামাঝি সময় থেকে। লিগ শেষেও দু’জন চালিয়ে যান অ্যাকশন শোধরানোর কাজ। এরপর বিসিবি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীা করে দেখে দুই বোলারের অ্যাকশন। এতে সন্তুষ্টিও আসে বিসিবির অবৈধ বোলিং অ্যাকশন রিভিউ কমিটির। এরপরই ওই ব্রিসবেনে যাওয়া। গত ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিসবেনে অ্যাকশনের পরীা দেন এ দুই বোলার। সাথে ছিলেন হেড কোচ হাতুরাসিংহে। পরীক্ষা দিয়েই দুইজন সন্তোষ প্রকাশ করেন। এবং পজেটিভ রেজাল্টের আশা রাখেন। অবশেষে আইসিসিও সেটা বৈধ বলেই ঘোষণা দিলো।

এর আগে নিষিদ্ধ হওয়ার পর অ্যাকশন শুধরে বোলিংয়ে ফিরেছিলেন বাংলাদেশের দুই স্পিনার আবদুর রাজ্জাক ও সোহাগ গাজী। ফেরার পর পারফরম্যান্স ভালোও হয়েছিল রাজ্জাকের। তবে সোগাহ গাজী সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। এবার এ দুই বোলার কী করবেন সেটা দেখার ব্যাপার হলেও ইতোমধ্যে নেমে পড়েছেন কাছে তাসকিন। নতুন বস কোর্টনি ওয়ালশের সঙ্গে নিবিড় কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি আরো দুর্ধষ হয়ে উঠবেন সেটাই সবার প্রত্যাশা। — নয়া দিগন্ত অনলাইন